এক জহিরেই কাশিপুর ভূমি অফিস দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৪, ০৮:১৬ পিএম
# নামজারিতে প্রস্তাব দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়ার অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ভূমি অফিস দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেছেন। সেবাপ্রার্থীরা আরও বলেছেন, ওই অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী ও দালালদের হাতে সেবা বন্দি। মিলেমিশেই হচ্ছে ভূমি সেবায় অনিয়ম। টাকা ছাড়া ওই অফিসে কোন কাজই হয় না। ভূমি সংক্রান্ত যেকোন সেবার বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কাড়ি কাড়ি টাকা। ভূমি অফিসে গ্রাহকদের হয়রানি নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। আর এই সকল অপকর্মের মুল হোতা হিসেবে কাশিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পিয়ন জহির। সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের সাথে তিনি সকল বিষয় নিয়ে কন্ট্রাক করে থাকেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, কাশিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি জমাভাগ, খাজনা আদায়, জমির পর্চা (খসড়া) তোলাসহ ভূমি সংক্রান্ত সকল কাজে সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে অনৈতিক ভাবে পদে পদে টাকা নেয়া হয়। চুক্তির টাকা ছাড়া কোন ফাইলই নড়ে না। টাকা না দিলে নির্ধারিত সময়ে কোন কাজ আদায় করা যায় না। এছাড়া পর্চার টেম্পারিং করে একজনের জায়গায় আরেকজনের নামে নামজারি করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এমনকি আর এস পর্চায় রেকর্ডীয় জায়গার তুলনায় বেশি জায়গায় নামজারি করে ভুমি মালিকদের মাঝে হয়রানি করে রাখে। যা পরবর্তিতে ভুমি মালিকদের এই ভুয়া অতিরিক্ত জায়গার নামজারি বাতিল করতে হয়রানির শিকার হতে হয়। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কাশিপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিসের পিয়ন জহির বিশাল অংকের টাকার বিনিময়ে এই ধরনের অপকর্ম করে যাচ্ছে অভিযোগ তুলেন সেবা নিতে আসা ভুক্ত ভোগি। জহির ইউনিয়ন ভুমি অফিসের নায়েমকে ম্যানেজ করে এসিল্যান্ড অফিসের কানুনগো, সার্ভেয়ারকে অর্থ দিয়ে নামজারি করে থাকেন অভিযুক্ত জহির।
বর্তমানে ভুমি মালিকদের তাদের জায়গা নামজারি করতে প্রথমে ৭০ টাকা খরচ দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। পরবর্তীতে এসিল্যান্ড থেকে কেস নাম্বার পরে তা প্রস্তাবের জন্য আবেদনটি চলে যায় স্ব স্ব ইউনিয়নের তহশিলদার অফিসে। আবেদনে কাগজে নামে বেনামে নানা কাগজ নেই বলে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তহশিলদার অফিসের পিয়ন জহির।
তবে ফাইলে কোন দখল বেদখল ও ঝামেলা থাকলে তখন রেইট ১০ থেকে ৩০ হাজারের উপরে উঠে। আর এই কন্ট্রাক করে থাকেন জহির। তাছাড়া কাশিপুর ইউনিয়নের মৌজায় পঞ্চবটি মুক্তারপুর এলাকার একর হওয়া জায়গা গুলোতে নামজারি করে দেয়ার নাম করে মোট অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই জহির। অথচ নামজারি করতে সরকারি ফি লাগে মাত্র ১১৭০ টাকা।
এ বিষয়ে কাশিপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিসের পিয়ন জহিরের নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি। কয়েকবার ফোনকল কেটে দেন। নারায়ণগঞ্জ সদর এসিল্যান্ড লাইলাতুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও ফোনকল রিসিভ করেন নাই। এস.এ/জেসি


