Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ঈদকে কেন্দ্র করে দর্জিবাড়িগুলোতে নির্ঘুম রাত কাটছে কারিগরদের

Icon

নুরুন নাহার নিরু

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৪, ০৬:৫৮ পিএম

ঈদকে কেন্দ্র করে দর্জিবাড়িগুলোতে নির্ঘুম রাত কাটছে কারিগরদের
Swapno


চলছে পবিত্র মাহে রমজান। ঘনিয়ে আসছে ঈদুল-উল ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পোশাক তৈরির কারিগর টেইলার্স বা দর্জিবাড়িগুলো। যারা নিজের পছন্দমতো ডিজাইন করে পোশাক বানিয়ে নিতে চান, তারা এরই মধ্যে তাদের পছন্দের পোশাকগুলো পৌছে দিয়েছে দর্জিবাড়িতে। এজন্য কাস্টমারদের চাহিদামতো পোশাক তৈরিতে এখন ব্যস্ত দর্জিরা।

 

 

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাদের ব্যস্ততা। জানা গেছে, পনেরো রোজার পর থেকে নতুন অর্ডার নেওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে টেইলার্সগুলো। যেগুলো নেওয়া হয়েছে এখন চলছে সেগুলোর ডেলিভারি। এছাড়াও চাঁদরাতে পযর্ন্ত এমন ব্যস্ততা থাকবে তাদের।

 

 

নারায়ণগঞ্জের কালিবাজার চাষাড়া এবং বিভিন্ন জায়গার দর্জিবাড়ি ঘুরে জানা গেছে এমন তথ্য। ছোটবড় প্রতিটি দোকানেই সেলাই কাজের প্রচুর অর্ডার পাচ্ছেন কারিগররা। প্রত্যেক কারিগর দিনে তৈরি করছে প্রকার ভেদে ৪ থেকে ৬ টি অর্ডার করা পোশাক।

 


কালিবাজারের ফেন্ডস মার্কেটের একটা টেইলার্সের প্রচন্ড ভড়ি করে আছেন বিভিন্ন বয়সী নারী। কেউ পোশাক ডেলিভারি নিচ্ছেন, কেউবা তার পোশাকের ডিজাইন বুঝিয়ে দিচ্ছেন ডিজাইন মাস্টারকে। ছোট দোকানটিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে থরে থরে সালোয়ার কামিজ, লং গাউন, কুর্তি, ব্লাউজ ইত্যাদি।

 


পোশাক তেরি হয়েছে কিনা খোজ নিতে এসেছেন বেসরকারি অফিসের এক কর্মকর্তা ফাহমিদা। তিনি বলেন, এলাকার টেইলার্সগুলো ডিজাইন ঠিকমতো বোঝে না। কাপড় নষ্ট করে ফেলে তারা। সারা বছর জামা কাপড় কিনলেও ঈদের সময় শখ করে পছন্দের মন মতো জামা কিনে অনেকেই। এখন সেটা যদি বানাতে গিয়ে নষ্ট করে ফেলে তাহলে মনে হয় যে ঈদটা মাটি হয়ে গেছে।

 

 

তাই কষ্ট করে হলেও এত দূরে এসে পোশাক বানতে দিয়েছে। আর ঈদের আগে বেশ কয়েকটা জামা বানাই, যেন সারা বছর চলে যায়। যেহেতু ঈদের সময় নতুন ডিজাইনের কাপড়গুলো আসে, হাতে বোনাসটাও থাকে। তবে এ সময় দর্জিদের কাজের চাপ থাকে।

 

 

তাই অনেক সময় ডিজাইন ভুল করে। আবার সময় মতো ডেলিভারিও দিতে পারে না। এছাড়া এ সময় মজুরিও তুলনামূলক বেশি। তার পরও নিজের পছন্দমতো ডিজাইন করা পোশাক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরা যায় আর অন্য রকম একটা ভালো লাগাও কাজ করে।  

 


 এ বছর পোশাত তৈরির চাপ কেমন এবং পোশাকের ডিজাইন, মজুরি ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে চাইলে টেইলার্সরা বলেন, সালোয়ার-কামিজের ডিজাইনে পরিবর্তন এসেছে। কামিজ লম্বা একটু খাটো হয়েছে। ডিজাইন আকর্ষনীয় করতে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে লেইস, নানা রকম বোতাম, সিকুয়েন্স পাইপিন ইত্যাদি।  বিভিন্ন মডেল বা তারকারা পরছে এমন ব্লাউজের ছবি এনে গ্রাহকরা হয়তো বলছেন এটা বানিয়ে দিন।

 

 

চাপ কেমন জানতে চাইলে তারা বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার চাপ বেশি। কারণ গত বছরগুলোতে মানুষ অনেক বেশি অনলাইনে কেনাকাটা করেছেন। সেগুলো ফিটিংসে সমস্যা হওয়ার কারণে এবার টেইলার্সে আসছে বেশি। তবে আমরা এখন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দেব। কারণ পর্যাপ্ত অর্ডার নেওয়া হয়ে গেছে। এগুলো তৈরি করে যথাযথ সময়ে কাস্টমারবে  দিতে না পারলে দেখা যাবে আমাদের সাথে একটা মুখ কালো হবে।

 

 

তবে খুব পরিচিতদের কেউ কেউ বলেন, এখন অর্ডার নেন। ঈদের পর দিলেও হবে। তখন নিতেই হয়। এবার পোশাকের মজুরি কেমন জানতে চাইলে বলেন, মজুরি আগের চেয়ে দুশো টাকা করে বেড়েছে। এর কারণ কারিগরের মজুরিও বেড়েছে।

 

 

তা ছাড়া ঈদের কারিগরদের বেতন-বোনাস দিতে হয়। তাই ঈদের পোশাকের মজুরি একটু বেশিই হয়। এবার সালোয়ার কামিজের মজুরি ডিজাইন ভেদে ৫০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত, ব্লাউজ সিঙ্গেল ৫০০, ডাবল মানে ভেতরে কাপড় দিয়ে বানালে ৮০০ টাকা। আর শাড়িতে ফলস লাগালে ২০০ টাকা মজুরি।এন. হুসেইন রনী  /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন