নগরীর নতুন জিমখানা এলাকার হাসির বাড়ি, সোলমান মিয়ার বাড়ি, লেকপাড় ও অটোরিক্সা স্ট্যান্ডসহ আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে বেচাবিক্রি হচ্ছে ইয়াবা ও গাঁজা। পুলিশ-প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জুয়ার আসরের প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক মাসুম ওরফে পিচ্চি মাসুম ও আলো ওরফে ইয়াবা সুন্দরী, চিহ্নিত মাদক সম্রাট আলম চান, রাব্বী ওরফে সিজার রাব্বী, লিমন ওরফে ইয়াবা লিমনের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ দেদারসে বিক্রি করছে মাদক।
তাহলে এইসব লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে হচ্ছে টা কি? এমন প্রশ্ন ওই এলাকার সচেতন নাগরিকদের। তারা বলছেন, খুচরা মাদক বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হলেও রাঘব বোয়ালরা সবসময়ই থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে! বিশেষ করে সদর থানা পুলিশের ভূমিকা এখানে পুরোপুরি প্রশ্নবিদ্ধ।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এক সময়কার জুয়ার আসরের প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক মাসুম ওরফে পিচ্চি মাসুম, আলো ওরফে ইয়াবা সুন্দরী, সিজার রাব্বী, আলম চান ও ইয়াবা লিমনের নেতৃত্বে সেখানে দেদারসে মাদক বেচাবিক্রি করে বেড়াচ্ছে শাহালম ও লিমন, মাদক সম্রাট আলম চানের ভাই লালচান ওরফে ফরমা লালচান, শাহাদাত ওরফে দালাল শাহাদাতসহ অন্তত ৮ থেকে ১০ জন সেলসম্যান।

নগরীর শেখ রাসেল পার্ক এর লেকপাড় এলাকা অর্থাৎ নতুন জিমখানা রেলওয়ে কলোনী পশ্চিম পাশের জল্লারপাড় অংশে চলছে এই সিন্ডিকেটের লক্ষ লক্ষ টাকার ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবসা। এছাড়াও এই সিন্ডিকেটকে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রয়ে আরও সহযোগীতা করে চলেছে র্যালীবাগান এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারী আকাশ ও রবিন।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, নতুন জিমখানা এলাকার ৩টি মাদক স্পটে একাধিক বিক্রেতা দ্বারা দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক বেচাবিক্রি করছে মাদক সম্রাট আলম চাঁন। নতুন জিমখানা এলাকার হাসির বাড়ি, সোলমান মিয়ার বাড়ি, লেকপাড় ও অটোরিক্সা স্ট্যান্ডসহ আশপাশে আলমচানের অনুসারীরা সুকৌশলে মাদক বিক্রয় করে আসছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও পুলিশ সোর্সদের মাসোহারা দেওয়ার কারণে পুরো এলাকার যারা মাদককের নিয়ন্ত্রক তাদের কিছু হয় না।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) জহিরুল ইসলামকে অবগত করা হলে তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, মাদক প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়তই সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকসহ কারবারীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়।
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করা হলেও সেখানকার রাঘব বোয়ালরা সবসময়ই থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে! কি বলবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, বিষয়টা এমন নয়। খুচরা মাদক বিক্রেতা হোক আর রাঘব বোয়াল- মাদক সংশ্লিষ্ট সকলকেই আমরা গ্রেপ্তার করছি। এ বিষয়ে কাউকেই বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হয় না। আমরা প্রতিনিয়তই সোর্স মেইন্টেইনের মাধ্যমে সকল খবর রাখার চেষ্টা করি। খোঁজ নিয়ে দেখছি, কারা জিমখানার মাদক সম্রাট। এস.এ/জেসি


