৫ তারিখ থেকে চাঁদরাত পর্যন্ত হলিডে মার্কেটে হকাররা বসবে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৪, ০৩:৫৯ পিএম
নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান বলেছেন, হকাররা একটি দাবী তুলেছিল। তারা চাঁদ রাত পর্যন্ত একটানা বসতে চায় হলিডে মার্কেটে। মানবতার দিকে তাকিয়ে আমরা তাদের এখানে বসার ব্যাবস্থা করে দিয়েছি। কথা ছিল ফুটপাতে হকার বসবে না। নারায়ণগঞ্জের মধ্যবিত্ত মানুষেরও একটা দাবী ছিল যে আমাদের কেনাকাটার ব্যাবস্থা করে দিন। নয়ত আমাদের ঢাকা যেতে হবে।
গতকাল শনিবার (৩০ মার্চ) চাষাঢ়ায় হকার নেতাদের সাথে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। এসময় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জীবন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু, ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না উপস্থিত ছিলেন।
সেলিম ওসমান বলেন, হকাররা আমাকে দুই হাজার হকারের একটা লিস্ট দিয়েছে। সেখানে পাঁচশ হকার আছে যারা নারায়ণগঞ্জের না। আমিও ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী থেকে এখানে এসেছি। তাদের পুঁজির টাকাটা ওঠানোর জন্য আপাতত মালামালটা তো বিক্রি করতে হবে। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি সবার সাথে আলোচনা করে যে সলিমুল্লাহ সড়কে হকাররা বসুক। কিন্তু আমরা জায়গা দিতে পারছি না।
কাউকে বাধা দিলে অল্টারনেটিভ দিতে হয়। এটার কোন আইন নেই। এটা বিবেকের ব্যাপার। আমি এখন নদীর জায়গা দখল করব সেটা ভাঙবে না তা তো হয় না। তেমনি ফুটপাত দখল করবে তাদের সরানে হবে না এটাও হবে না। এর আগে তাদের জায়গা করে দেয়া হয়েছিল হকার্স মার্কেটে। তারা সে দোকান বিক্রি করে রাস্তায় এসে বসেছে।
তিনি বলেন, হকাররা নানা সময় রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়। তারা নাম দেয় হকার লীগ, হকার সংগ্রাম পরিষদ। গার্মেন্টস নেতাদের নিয়ে আজেবাজে কথা বলে শহীদ মিনারে মিটিং করে। তবুও তাদের বলেছি তোমরা তোমাদের টাকাটা তুলে ফেল এখানে বসো।
আমি জেলা প্রশাসক, এসপি ও মেয়রের সাথে কথা বলেছি। এই জায়গাটায় পাঁচ তারিখ থেকে চাঁদ রাত পর্যন্ত আবার পহেলা বৈশাখও রয়েছে। এ সময়টা আমরা ব্যাবস্থা করে দিতে পারি কীনা তা দেখছি। তবে এ সময় অন্য কোথাও যেন হকাররা না বসে। আমি জানি হলিডে মার্কেট শেষ হলে তারা বিভিন্ন জায়গায় চলে যায়। একজনের জন্য তো লক্ষ লক্ষ মানুষের অসুবিধা মেনে নেয়া যায় না।
তিনি আরো বলেন, আমরা বলেছি পাঁচ তারিখ থেকে চাঁদ রাত পর্যন্ত হকাররা সলিমুল্লাহ রোডে বসবে। এর বাইরে কোথাও যেন হকার না বসে সে ব্যাপারে প্রশাসন সহায়তা করবেন। পাশাপাশি আমরা নিজেদের একটা ফান্ড দেই ট্রাফিক ব্যাবস্থাপনার জন্য। এবার আমাদের সম্পূর্ণ ফান্ড সেখানে চলে গেছে। এই সদর এলাকার মার্কেটে, হয় আনসার নয়ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে শহরে টহলের ব্যাবস্থা যেন করা হয়।
মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে বাজার করতে। কিন্তু মানুষ সচেতন হয়ে গেছে। গত ঈদে যেখানে চারটা মুরগী কিনত তো তাহলে এখন একটা কিনছে। মানুষ সরকারকে সমর্থন করছে।
আমাদের গ্যাসের সংকট ছিল। এ সংকট কমলে আমরা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারব। আজ যে বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে তা নয় সারা বিশ্বে দাম বেড়েছে। আমি আমার একটা ইনজেকশনের দাম ছিল দশ হাজার বাক সেটা এখন পঁচিশ হাজার বাক। আমি ভয়ে ইনজেকশন নিতে পারছি না। আমি চিকিৎসা করতে গিয়ে এত খরচ করবো সে টাকা দিয়ে তো একজন মানুষ বাঁচতে পারে।
মোবাইল কোর্টের ব্যাবস্থাটা সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভাল হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একক ভাবে নারায়ণগঞ্জ থানার ওপর দায়িত্ব পড়ে গেছে। আমি মনে করি এটা সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসনের আরও দায়িত্ব নেয়া উচিত। তাদের দায়িত্ব আরও বেশি। আমাদের জান মালের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব পুলিশের। এন. হুসেইন রনী /জেসি


