Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

তলে তলে ভাব

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৪৭ পিএম

তলে তলে ভাব
Swapno

 

এমএ রশিদের সাথে মাকসুদ হোসেনের ভাবের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। এমনকি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে একজন রাজাকার পরিবারের সদস্যের পক্ষ নেয়ার বিষয়ে বন্দরের আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকেও প্রতিবাদ এসেছে বেশ কয়েকবার। অবশ্য এই বিষয়ে প্রতিবাদ করায় বর্তমানে বন্দর আওয়ামী লীগের যেসব নেতারা মাকসুদ হোসেনকে রাজাকার বলে বক্তব্য দিচ্ছেন তাদের অনেকেই সে সময় সে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।

 

তাদের অনেকেই তখন শুধুমাত্র একটি পরিবারকে সন্তুষ্ট রাখতে মাকসুদ হোসেনকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে সমর্থন দিয়ে গেছেন। যার জন্য আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাবস্থায়ও তাদের কারসাজিতে এখন যাদের রাজাকারের সন্তান বলছেন তার কাছে হার মানতে হয়েছিল তৃণমূল থেকে উঠে আসা আওয়ামী লীগের নেতাকে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের বন্দর এলাকার কিছু সুবিধাবাদী নেতা ও কিছু সুবিধাবাদী মুক্তিযোদ্ধাদের উস্কানি ও আশকারায়ই মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাদের এখন চিহ্নিত রাজাকার বলছেন তারা একই মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন বলে ছিল তৃণমূলের আর্তনাদ।

 

আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পোড় খাওয়া নেতাদের রক্তক্ষরণ বাড়িয়ে তাদের অবজ্ঞা করে আজ রাজাকার বলে স্বীকার করা এই রাজাকারদের সাথেই তলে তলে খাতির রেখে মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের মঞ্চে তুলেন এই মুক্তিযোদ্ধারা। এমনকি একদিন আগেও রাজাকার ডাকা লোকদের সাথে একই অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ রশিদ বলেছেন, যে বা যারা আওয়ামী লীগের পদ ব্যবহার করে রাজাকার পুত্রের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা করছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ভাবে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মূলত আসন্ন বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ আহমেদের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার নাম উল্লেখ করা হয়।

 

যাদের বেশ কয়েকজনকে এর আগে ইউনিয়ন নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করার অপরাধে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে তৃণমূল আওয়ামী লীগের অভিযোগ, যে অপরাধে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছিল সে সময় একই অপরাধে অপরাধি আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা সে সময় দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরাসরি কাজ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরং আওয়ামী লীগের কিছু কিছু নেতা তাদের সেই গর্হিত কাজকে (তাদের মতে) গর্বিত করারও চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও বন্দর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহল থেকে এর প্রতিবাদও জানানো হয়েছিল। যা বিভিন্ন মিডিয়ায় এসেছে। কিন্তু বন্দর আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকগণ তা দেখেও না দেখার ভাব করেছিলেন।

 

বন্দর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ও কর্মীর সাথে আলোচনা করলে তাদের নাম না বলার শর্তে (ভয়ে) যুগের চিন্তার এই প্রতিবেদককে বলেন, আপনারাতো মিডিয়ায় কাজ করেন। আপনারা কখনও শুনেছেন, বন্দর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ কখনও মাকসুদ হোসেনকে রাজাকার বলে সম্বোধন করেছেন। এমএ রশিদের বিভিন্ন গোপন ছকের মাধ্যমেই মাকসুদ হোসেন বারবার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

 

বন্দর আওয়ামী লীগের পরিক্ষীত নেতারা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির উপর যতটা ভরসা করতে পারে, বন্দর আওয়ামী লীগের সভাপতির উপর তা পারে না। এমনকি বন্দরে এতদিন যারা রাজাকার হিসেবে পরিচিত ছিল এতদিন তারা মুক্তিযুদ্ধের কোন অনুষ্ঠানে যোগদান করতে সাহস না পেলেও এমএ রশিদ বন্দর আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই তারা শুধু যোগদান না, মঞ্চের উপর পাশাপাশি বসার সুযোগ পাচ্ছে বলেও অভিযোগ করছেন অনেকে। এখন নিজের পদে ভাগ বসাতে চাচ্ছে বলে তাকে রাজাকার উল্লেখ করে মূলত নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে তারা চেয়ারটা পাঁকা করতে চাচ্ছেন বলে মনে করছেন তারা। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন