Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

কাউন্টার বসিয়ে মাদক ব্যবসা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৫৯ পিএম

কাউন্টার বসিয়ে মাদক ব্যবসা
Swapno

 

নগরীর জিমখানা এলাকায় কাউন্টার বসিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে চলেছে চিহ্নিত সম্রাজ্ঞী হাসি ও তার ছেলে টিটু। পুলিশের কতিপয় অসাধু ব্যক্তির যোগসাজসে নির্বিঘ্নে দিনের পর দিন মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে পারিবারিক এই মাদক সিন্ডিকেট। এমনটাই অভিযোগ ওই এলাকার সচেতন নাগরিকদের। যদিও পুলিশ বলছে, তাদের অভিযান অব্যাহত আছে। তবে নগরবাসীর প্রশ্ন, জিমখানায় বছরের পর বছর ধরে পারিবারিকভাবে মাদক ব্যবসা তো চলছে। তাহলে, এ কেমন অভিযান?

 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, জিমখানা বাজার, জিমখানা মাঠ ও টাঙ্কির সামনে প্রকাশ্যে খুচরা বিক্রেতাদের মাদকের যোগান দেয় হাসির ছেলে টিটু। আর তাদের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করে প্রায় ৭ থেকে ৮ জন। তাদের মধ্যে, মনির ও ফাতি অন্যতম। সেখানে খুচরা ইয়াবা ও হেরোইন বেচাবিক্রি করে তারা।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জিমখানার হাসিনা ওরফে হাসি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সাথে জড়িত। তার নামে বেশ ক’টি মাদক মামলা রয়েছে। তার বড় ছেলে টিটু টেকনাফ থেকে ইয়াবা নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করার সময় ২৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। এছাড়াও গত বছর ৫৮০ পিস ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় টিটু। তার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় মাদকসহ অন্তত ৭টি মামলা রয়েছে।

এদিকে, জিমখানা উত্তরে আপন দুই ভাই আলম চান ও লাল চানের নেতৃত্বে চলে ইয়াবার ব্যবসা। আর জিমখানায় গাঁজা বিক্রি করে মামুন ও শরীফ নামের দুইজন।

 

অপরদিকে, জিমখানা এলাকার ইয়াবার অন্যতম ডিলার রাব্বী ওরফে সিজার রাব্বী। এছাড়াও লেকপাড়স্থ জল্লারপাড় আর সেখানে থাকা সরকারি কোয়ার্টারের দ্বিতীয় তলায় মাদকের কাউন্টার খুলে বসেছে বাবু ওরফে বুলেট বাবু। সেখানে মাদক ব্যবসায়ী আরও রয়েছেন, বাচ্চুর ছেলে মিঠু ও শিবলু ওরফে ভান্ডারী শিবলু।

 

এই মিঠু বিপুল পরিমাণ মাদক সহ মিন্টু রোডের গোয়েন্দা পুলিশ ডিবির কাছে গ্রেপ্তার হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ফুটবল খেলোয়াড় আজমত উল্লাহকে মারধর এবং ডাকাতির মামলাও রয়েছে। সেখানে কনস্টেবল কাউছার নামের একজনকে প্রতিনিয়ত দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, মূলত মাসোহারার টাকা নিতেই জিমখানায় যাওয়া আসা করে কনস্টেবল কাউছার।

 

জিমখানার স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, পারিবারিক সিন্ডিকেটে দিনের পর দিন মাদক ব্যবসা করা এই কারবারীদের বিরুদ্ধে এখানে কেউই কথা বলার সাহস পায় না। এমনকি স্থানীয় পঞ্চায়েতকেও তারা মানে না। মাঝে মধ্যে তারা জেলে থাকলেও পারিবারিক মাদক সিন্ডিকেট হওয়ায় কখনোই তাদের ব্যবসা বন্ধ থাকে না। পরবর্তীতে তারা জামিনে বেড়িয়ে ফের মাদক কারবার চালিয়ে যায়। আর পুলিশ যদি কখনো অভিযান পরিচালনা করে তাহলে তারা আগেই খবর পেয়ে যায়। কেননা, মাদক স্পটগুলোর চারপাশে বসিয়ে রাখা হয় একাধিক পাহাড়াদার। এমনকি পুলিশের কতিপয় অসাধু সদস্য এবং তাদের সোর্সদের সাথে মাদক কারবারীদের গভীর সখ্যতা রয়েছে। কেউ তাদের বিরুদ্ধে কখনো প্রতিবাদ করলে হামলার শিকার হতে হয়। মূলত, এসব কারণেই ভয়াবহ এই মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায় না।

 

এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাৎ হোসেনকে মুঠোফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) জহিরুল ইসলাম যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়তই সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকসহ কারবারীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়। মাদক প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি সর্বদা অব্যাহত থাকবে।

 

তিনি আরও বলেন, মাদক সংশ্লিষ্ট সকলকেই আমরা প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তার করছি। এ বিষয়ে কাউকেই বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। আমরা প্রতিনিয়তই সোর্স মেইন্টেইনের মাধ্যমে সকল খবর রাখার চেষ্টা করি। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন