ফতুল্লায় পাঁচতলা ভবনের ইটের গাঁথুনি ভেঙে পড়ে দুই শিশুসহ আহত-৫
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:০৬ পিএম
ফতুল্লায় কালবৈশাখী ঝড়ে পাঁচতলা ভবনের গাঁথুনি ভেঙে পড়ে দুই শিশুসহ ৫জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৬ ঘটিকায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলা, নন্দলালপুর দক্ষিণ মহল্লার মোঃ বাছেদ মিয়ার টিন শেড বাড়ির উপর, মৃত আব্দুল খালেকের পাঁচতলা ভবনের ইটের গাঁথুনি ভেঙে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়াও ইটের গাঁথুনি ভেঙে পাশে থাকা দুইটি বাড়ির মালামালের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। আহতরা হলেন- জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানাধীন পশ্চিম ধামাড়া গ্রামের মৃত শফির উদ্দিনের ছেলে রাজমিস্ত্রী রবিউল ইসলাম (৩০), তার স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন (২৪), দুই শিশু সন্তান মাদ্রাসা ছাত্র লিখন (১০), শরিফ কিন্ডারগার্টেনের প্লে শ্রেণীর ছাত্রী রাবেয়া (০৬) ও পাশের ঘরের পারভেজ (২০)।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাঁচতলার এই ভবন নির্মাণে মানাহয়নি বিল্ডিং কোড। নেওয়া হয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি। মৃত খালেকের পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের দেখাতে পারেননি পাঁচতলা ভবন নির্মাণের কোনো অনুমতিপত্র, নকশা ফায়ার-সার্ভিসের সনদসহ প্রয়োজনীয় কাজপত্র। ভবনটি এমন মনগড়া ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যে, দেখলে মনে হয় ভবন ঘেঁষা এলাকাবাসীর চলাচলের রাস্তাটুকুও যেনও গ্রাস করার চেষ্টা করা হয়েছে।
নন্দলালপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা নারগিস বেগম জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে হঠাৎ করে পাশের মৃত আব্দুল খালেকের পাঁচতলা ভবন থেকে পাশের টিনশেড বাড়ির উপর ইটের গাঁথুনি ভেঙে পড়ে। এতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসরত রবিউল ইসলামের ঘুমন্ত অবস্থায় দুই শিশু সন্তানসহ ৫জন গুরুতর আহত হয়। বাকিরা ভয়ে দৌড়ে ঘর থেকে বাহিরে চলে আসে।
পরে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি জানান , বহুতল ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা দৌড়ে ঘর থেকে বের না হলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হতো।
বাড়ির মালিক মৃত খালেকের ছেলে মমিনুল ইসলাম তারেক জানান, সকালে প্রচন্ড ঝোড়ো বাতাসের সাথে বিকট শব্দে বজ্রপাতে আমাদের বাড়ির পাঁচতলা ভবনের ইটের গাঁথুনি ভেঙে পাশের বাড়ির উপর পড়ে যায়।
সাথে সাথেই আমরা দৌড়ে পাশের বাসায় যায় এবং আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করি। পাশাপাশি আমাদের পরিবারের সদস্য আহতদের সাথে থেকে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।
এবিষয়ে গুরুতর আহত রবিউল ইসলামের শশুর লাল মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কান্নাজনিত কন্ঠ বলেন, আমি এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছি। আমার নাতি ও নাতনীর অবস্থা খুবই খারাপ। আগে চিকিৎসা করায়, তারপর আপনাদের সাথে কথা বলবো।
নারায়ণগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায় সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে এমন ঝুকিপূর্ণ বহুতল ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নজরদারি আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
শুধু তা-ই নয়, যে সকল ভবনগুলো সরকারি নিয়মনীতি অমান্য করে অনুমোদনহীনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে সেই সকল ঝুকিপূর্ণ ভবন ও ভবনের মালিকদের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আতংকিত বাসিন্দাদের নিরাপদে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। এন. হুসেইন রনী /জেসি


