মাদক সিন্ডিকেটের আড়ালে রাজনৈতিক ছত্রছায়া
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:২০ পিএম
ফতুল্লা থানা যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতার ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ফতুল্লার দক্ষিণ শিয়াচর এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সোহেল ওরফে দাউদ সোহেল। বর্তমানে তার মাদক সিন্ডিকেট সামাল দিচ্ছে রাজু, শাহাদাৎ ও নূর ইসলাম নামের কয়েকজন। যাদের মধ্যে রাজু ফতুল্লা থানা যুবলীগের এক প্রভাবশালী নেতার খুব ঘনিষ্ঠজন।
এছাড়াও রয়েছে কথিত সংবাদকর্মী ও কতিপয় অসাধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের পরোক্ষ সহযোগীতা। সব মিলিয়ে, ফতুল্লার দক্ষিণ শিয়াচর, ইয়াদ আলী মসজিদ ও রেললাইন জুড়ে দেদারসে বেচাবিক্রি হচ্ছে হেরোইন, গাঁজা ও ফেন্সিডিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরব ভূমিকায় আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া দাউদ সোহেল এখন আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করছে তার রমরমা মাদক সাম্রাজ্য।
এলাকাবাসীর দেয়া তথ্য মতে, ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের জের ধরে এবারে গাঁ ঢাকা দিয়েছে দাউদ সোহেল ও ডাকাত সাহাবুদ্দিন। কথিত নেতা রাজুর নেতৃত্বে ফতুল্লার দক্ষিণ শিয়াচর ইয়াদ আলী মসজিদ থেকে শুরু করে পুরো রেললাইন জুড়ে ইয়াবা ও ফেন্সিডিল বেচাবিক্রি করছে রাজু, শাহাদাৎ ও নূর ইসলাম, মাসুদ, বকুলির ছেলে গোলাম রাব্বী ওরফে কাল্লু, জসিম, সাব্বির, সাগর ও সাইফুল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফতুল্লার শিয়াচর ইয়াদ আলী মসজিদ এলাকার ইব্রাহীম মিয়ার ছেলে সোহেল ওরফে দাউদ সোহেল। আর দাপা মসজিদ এলাকার মৃত মহিউদ্দিনের পুত্র সাহাবুদ্দিন ওরফে ডাকাত সাহাবুদ্দিন। সংঘবদ্ধ এই চক্রটি বর্তমানে ডিজিটাল সব মাধ্যম ব্যবহার করে ফতুল্লার শিয়াচরে হাজার পিস ইয়াবা ও ফেন্সিডিল বিক্রি করে চলেছে।
অভিযোগ আছে, প্রায় প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর শিয়াচরের ইয়াদ আলী মসজিদ এলাকায় দাউদ সোহেলের আড্ডাখানায় পুলিশ ও ডিবির কতিপয় সদস্যের আনাগোনা হয়। মূলত এ কারণেই স্থানীয় পঞ্চায়েত ও সচেতন নাগরিকদের কেউ বাধা প্রধান করলে তাদের পুলিশ-ডিবি দিয়ে হয়রানি করার দুঃসাহস দেখাতে পারে সংঘবদ্ধ ওই চক্রটি, বলছেন খোদ এলাকার মসজিদ কমিটির লোকজন। যদিও ধারাবাহিকভাবে পুলিশ বলছে, খুব শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, কার্যত এখনো পর্যন্ত কোন সুফল পায়নি স্থানীয় পঞ্চায়েত ও মসজিদ কমিটির লোকজন।
সূত্র বলছে, শুধু মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে এরই মধ্যে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন ফতুল্লা শিয়াচর এলাকার চিহ্নিত মাদক সম্রাট সোহেল ওরফে দাউদ সোহেল। দক্ষিণ শিয়াচরের ইয়াদ আলী মসজিদ এলাকা থেকে পুরো রেললাইন জুড়ে শুধু তারই রাজত্ব। নিজ বলয়ের অন্তত ১৫ থেকে ২০ যুবকের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ওই এলাকায় নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে দাউদ সোহেল। যাদের নিত্যদিনের খরচ থেকে শুরু করে ঘরভাড়া পর্যন্ত বহন করে সে।
এর মধ্যে, দাউদ সোহেলের নিয়ন্ত্রিত খুচরা মাদক সরবরাহকদের মধ্যে রয়েছে, রাজু, শাহাদাত ও নূর ইসলাম, বকুলির ছেলে গোলাম রাব্বী ওরফে কাল্লু, জসিম, সাব্বির, সাগর ও সাইফুল। আর পুরো এই বাহিনী তথাপি দাউদ সোহেলকে মাদক ও শেল্টার দিয়ে সহযোগীতা করছে ফতুল্লার চিহ্নিত ডাকাত সর্দার সাহাবুদ্দিন। এতো কিছুর পরেও কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় চিন্তিত শিয়াচরের পঞ্চায়েত ও মসজিদ কমিটির লোকজন। তাদের দাবি, কোনভাবেই যেনো থামানো যাচ্ছে না দাউদ সোহেলকে! বরং তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে জেল খাটার হুমকি পেতে হয় বলে দাবি করছেন তারা।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া বলেন, মাদকের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। মাদক সংশ্লিষ্ট কাউকেই আমরা ছাড় দিচ্ছি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি। সত্যতা পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এস.এ/জেসি


