নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলাধীন ইসদাইর রেললাইন ঘেষে মেলা বসিয়ে অবৈধ কর্মকান্ডের পাশাপাশি বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার আবদুল আউয়ালের ছত্রছায়ায় মেলার আড়ালে অবৈধ কর্মকান্ড করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ইসদাইর বাজার কমিটির সভাপতি রুবেল মিয়া ও মো. জিতু নামের একজন। তবে, এই মেলার বিষয়ে অবগত নয় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন।
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডস্থ ইসদাইর বাজার এলাকায় একেবারে রেললাইন ঘেষে অবৈধভাবে বসানো হয়েছে মেলা। প্রায় ১৫টি দোকান, নাগরদোলাসহ যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়ে বসানো এই মেলায় স্থানীয়দের পদচারণা ছিল দেখার মতো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইসদাইর বাজার কমিটির সভাপতি রুবেল মিয়া ওরফে মুরগী রুবেল ও জিতুর নেতৃত্বে পুরোপুরি অবৈধভাবে বসানো হয়েছে ওই মেলা। বছরে একাধিকবার, বিশেষ করে প্রতি ঈদের পূর্বের সময় ইসদাইর বাজারের রেললাইন ঘেষে বসানো হয় ওই মেলা।
সচেতন স্থানীয় নাগরিকরা বলছেন, এই মেলার কারণে যেকোন দিন যেকোন সময় বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। কেননা, রেললাইনের পাশ ঘেষেই বসানো হয়েছে মেলার দোকানগুলো। কিছুক্ষণ পরপর রেললাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করে। এখানে শিশু কিশোর থেকে শুরু করে প্রায় সব বয়সের মানুষ আসেন। একটু এদিক থেকে সেদিক হলেই বড় ধরণের দূর্ঘটনার শিকার হতে পারে সাধারণ মানুষ। ইসদাইর বাজার কমিটির নামে কিছু লোভী চাঁদাবাজদের কারণে বিপদগ্রস্থ হতে পারে মেলায় আসা মানুষগুলো।
এ বিষয়ে মেলার পরিচালক জিতু মিয়াকে মুঠোফোন করা হলে তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না ভাই। মুরগীর দোকানের রুবেলের সাথে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে ইসদাইর বাজার কমিটির সভাপতি ও অবৈধ মেলার প্রধান পরিচালক রুবেল মিয়া বলেন, আমরা প্রতি বছরই এইখানে মেলা বসাই। মেলা বসানোর অনুমতি নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাগো ওয়ার্ডের মেম্বারের অনুমতি আছে। মেম্বার তো মেলা বসানোর অনুমতি দিতে পারেন না। জানেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, এইখানে মেলা বসাইতে আমাগো অনুমতি লাগে না ভাই। প্রতিবছরই তো মেলা বসাই কোন সমস্যা তো হয় না।
এ বিষয়ে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মো. আবদুল আউয়ালকে মুঠোফোন করা হলে তার স্ত্রী ফোন রিসিভ করে বলেন, উনি বাসায় নেই। পরবর্তীতে আবারো মুঠোফোন করা হলে তার ছেলে রিসিভ করে বলেন, বাবা নামাজ পরছে। এরপর একাধিকবার মুঠোফোন করেও ওয়ার্ড মেম্বার আবদুল ফোনটি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেদারুল ইসলাম যুগের চিন্তাকে বলেন, এ বিষয়ে আমরা অবগত নই। বিষয়টা এখনই জানলাম। খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এস.এ/জেসি


