সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারে মরিয়া সাল্লু ও হীরা বাহিনী
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৪১ পিএম
# সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ ভোলাইল শান্তিনগর, আলীপাড়া, চর নরসিংপুর, মরা খালপার ও চিতাশাল এলাকার সাধারণ মানুষ
আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ফতুল্লার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামী সন্ত্রাসী সালাউদ্দিন ওরফে সাল্লু ও আলাউদ্দিন হীরা এবং তাদের বাহিনীর লোকজন। সর্বশেষ, আফজাল হত্যাকাণ্ডের পর তার চাচাকে দিয়ে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাদের এলাকা ছাড়া করার পর কিছুদিন চুপ থাকলেও ফের ভয়ংকর রূপে ফিরতে শুরু করেছে তারা।
অভিযোগ উঠেছে, সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করতে ফতুল্লা থানাধীন কাশিপুর ইউনিয়নস্থ ২নং ওয়ার্ডের ভোলাইল শান্তিনগর, আলীপাড়া, চর নরসিংপুর, মরা খালপার ও চিতাশাল এলাকার সাধারণ মানুষকে একপ্রকার জিম্মি করে রেখেছে তারা। সন্ত্রাসী এ বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে হত্যা মামলা পর্যন্ত রয়েছে। এছাড়াও ভূমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাই যেনো তাদের নিত্যদিনের কর্ম। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী ও জিম্মি সাধারণ মানুষজন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাল্লু ও হীরা ফতুল্লা মডেল থানার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। থানায় ঢুকলেই চিহ্নিত আসামীদের বোর্ডে বড় করে তাদের ছবি পরিলক্ষিত হয়। দু’জনের মধ্যে হীরা ইট, সিমেন্ট বালুর ব্যবসা করেন। তবে, পুরো ২নং ওয়ার্ডে যতো বাড়িঘর নির্মাণ হয় তার প্রত্যেকটির সকল ইমারত সামগ্রী ক্রয় করতে হয় হীরার কাছ থেকে। অন্যথায়, মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হয় হীরাকে। আর তা না দিলে তার লোকজন দিয়ে বাড়িঘরে হামলাসহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে সে। তার বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় রয়েছে অন্তত ডজন খানেক মামলা।
এদিকে, সাল্লু ও তার বাহিনী আফজাল হত্যাকান্ডের পর কিছুদিন চুপ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সাল্লুর নেতৃত্বে অন্তত ১৫ থেকে ২০ সদস্যের একটি কিশোরগ্যাং গ্রুপ প্রকাশ্যে মাদক বেচাবিক্রি করে বেড়ায়। দিনের আলোয় প্রকাশ্যে এলাকায় না আসলেও আড়াল থেকে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ করে সাল্লু নিজেই। সূত্র বলছে, সন্ত্রাসী সাল্লুর বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় ১৪টির-ও বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যু থেকে শুরু করে হত্যা মামলাও আছে। এতো অপকর্মের পরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একেবারেই ধরা ছোঁয়ার বাইরে সন্ত্রাসী সাল্লু ও তার বাহিনীর লোকজন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মানুষের উপর এতো এতো অত্যাচার করার পরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রহস্যজনক কারণে এই বাহিনীর কাউকে গ্রেপ্তার করছে না। অথচ, সন্ত্রাসী সাল্লু ও হীরা ও তার বাহিনী এলাকায় ত্রাস হিসেবে পরিচিত। এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের অত্যাচারে রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে অযথাই হামলার শিকার হতে হয়। প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ ওই বাহিনীর অত্যাচারের শিকার হয়।
সচেতন নাগরিকরা বলছে, অনতিবিলম্বে সন্ত্রাসী সাল্লু, হীরা ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কেননা, কোন বিষয়ে যদি কেউ থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যেতে চায় তাহলে সে কোনভাবেই আর ওই এলাকায় বসবাস করতে পারবে না। তারা খুবই ভয়ংকর। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাধারণ মানুষ।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া যুগের চিন্তাকে বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখছি কারা সেখানে মাদক কারবারী করে আর মানুষকে হয়রানি করে। এ ব্যাপারে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এস.এ/জেসি


