ফতুল্লা থানাস্থ কাশীপুর ইউনিয়নই যেন কিশোরগ্যাং, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপকর্মকারীদের নিরাপদ আশ্রয় স্থান।
কাশীপুরে কিছুদিন পরপরই বিভিন্ন ভাইয়ের নামে-বেনামে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন গ্রুপ যাদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে কাশীপুরে থাকা ক্ষুদ্ধ ব্যবসায়ীরা। যাকে ঘিরে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ জনগণ।
এদিকে এই কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত আছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অতন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর আলহাজ্ব এম. সাইফুল্লাহ বাদল। এমন একজন প্রভাবশালী এই ইউনিয়নে থাকলে ও তাকে তোয়াক্কা না করেই অপকর্মকারীরা একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, সাংসদ সদস্য শামীম ওসমান পুত্র অয়ন ওসমান ও তার ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন আহম্মেদ কাউসারের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পরেছে অনিক মির্জা।
বর্তমানে কাশীপুরে তার শেল্ডারে পালিত রাজু, মামুন, সোহেল, ফয়সাল, ইমনসহ আরো সন্ত্রাসীদের যুক্ত করে কিশোরগ্যাং গ্রুপ তৈরি করেছেন যাদের দ্বারা কাশীপুরে ঝুট সন্ত্রাসী, চাদাঁবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন এই অনিক মির্জা।
কাশীপুরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গড়ে উঠেছে অজস্র মিনি গার্মেন্টেস যা দখলে রয়েছে বিভিন্ন গ্রুপের এর মধ্যে অন্যতম গ্রুপের তালিকায় রয়েছে অনিক বাহিনীর নাম।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন গার্মেন্টস, হোসীয়ারীর মালিকদের জিম্মি করে পাঁচ টাকার মাল এক টাকা দিয়ে জবর দখল করে আত্মসাৎ করছে এই বাহিনীর সদস্যরা।
আরো জানা গেছে, কাশীপুরে বর্তমানে ঝুট নিয়ে একাধিক গ্রুপ এখন মুখোমুখি। যে কোনো সময়ে ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে ঝুট সন্ত্রাসীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন বলে ধারনা করছেন গার্মেন্টস ও হোসীয়ারী মালিকরা। বর্তমানে এই অনিক বাহিনী থেকে পরিত্রান চায় কাশীপুরের ক্ষুদ্ধ ব্যবসায়ীরা। এস. এ/জেসি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর হোসানীনগরনগর, আলসাবা, খিল মার্কেটের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী অনিক মির্জার নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র, সস্ত্র নিয়ে একটি বড় শোডাউন হয়েছে। সে সময় তারা বিভিন্ন গামেন্টর্স, হোসায়ীর মালিক ও ম্যানেজারদের গিয়ে বলে আসেন এখানকার সব ঝুটসহ যাবতীয় মালামাল আমার লোকেরা নামাবে এখানে যেন কোন বাধা না আসে তাহলে এটার পরিণতি ভালো হবে না। আমরা কিন্তু কাউসার ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ ভাই ব্রাদার এগুলো বলে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখায়।
আর এই সকল প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দখলে আনতে মরিহা হয়ে উঠেছে। তা ছাড়া বিভিন্ন দোকানসহ নানা প্রতিষ্ঠান থেকে ইতিমধ্যে মাসে তুলছে হাজার হাজার টাকা চাঁদা। যা নিয়ে এলাকার স্থানীয় ক্ষুদ্ধ ব্যাবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। এই অনিক ও তার বাহিনী থেকে পরিত্রান পেতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নিকট হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনিক মির্জা বলেন, আমি অনেক বড় ঝুট ব্যবসার সাথে যুক্ত না, আমি এলাকার কিছু পরিচিত লোক আছে তাদের থেকে মার্কেট মুল্যে মাল ক্রয় করি। এর বাহিরে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আসছে সেগুলো মিথ্যা। কেউ আপনাকে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মূলক মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।


