Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

নির্মাণাধীন ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কে বেড়েছে দুর্ঘটনা  

Icon

আবু সুফিয়ান

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪, ০৪:১৭ পিএম

নির্মাণাধীন ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কে বেড়েছে দুর্ঘটনা  
Swapno


ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কের যানজট নিরসনে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি মোড় থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরন এবং দোতলা রাস্তা নির্মানের কাজ চলমান। যানজট কমাতে ফরিদপুরের ভাঙ্গার আদলে নির্মাণ করা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি মোড়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সংকীর্ণ সড়ক হয়েছে আরো সংকীর্ণ এবং সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্তের।

 

 

সংকীর্ণ এই সড়কের গড় প্রশস্ততা ৫ মিটার হবার পরও বেপরোয়া বৈধ-অবৈধ যানবাহনের গতি কোনভাবেই কমছে না। যার ফলে প্রায় প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে ব্যাটারি চালিত তিন চাকার অবৈধ অটোর বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছেন যাত্রী সাধারণ। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যানবাহন এবং যাত্রী সাধারণকে যথাযথ সাবধাণতা অবলম্বন করানোর ব্যপারে ব্যাপক তৎপর।

 


গতকাল শুক্রবার (১০ মে) সকালে ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কের ভাঙ্গা ক্লাব মোড়ে মুখোমুখি দুই অটোর সংঘর্ষে মারাত্বক আহত হন মোছা. লিলি আক্তার। বিপরীত দিক থেকে আসা অটোর ধাক্কায় তিনি অটোর নিচে পরে যান। পরে কিছু লোক তাকে টেনে বের করেন। পা কেটে গিয়ে মারাত্বক আহত তিনি।

 

 

অপর অটোতে থাকা মোছা. আসমা বেগম কোন রকমে নিজেকে উদ্ধার করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে রাস্তার পাশে বসে পরেন। তিনি জানান, এই অটো চালকদের কারনে আমাদের এইভাবে জখম হতে হয়। একটু দূরে পা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায় মোছা. মুহসিনা বেগমকে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজার করার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছি।

 

 

হঠাৎ একটা অটোর চাকা আমার পায়ে তুলে দেয়। তিনি বলেন, রাস্তার কাজ চলছে তাই রাস্তা অনেক সরু হয়ে গেছে। তারপরও অটো চালকরা সাবধানে অটো চালান না। যার কারণে প্রতিনিয়ত আমাদের বিপদে পরতে হচ্ছে। শেষে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এই রাস্তার কাজ যে কবে শেষ হবে আর আমরা কবে যে মুক্তি পাবো।

 


এ বিষয় নিয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক মো. তোফাজ্জল হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, এই রাস্তা এমনিতেই সরু ছিল। তার উপর কাজ চলছে। যানবাহন চালকরা যদি সাবধানে গাড়ি না চালান তাহলে তো দূর্ঘটনা তো বাড়বেই। তিনি বলেন, রাস্তার প্রতিটি পয়েন্টে সাবধানতা অবলম্বনের কথা লেখা আছে। তারপরেও চালকরা বেপরোয়া।

 

 

রাস্তার কাজ চলছে তাই, একটু সমস্যা হবে এটা স¦াভাবিক। পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়ক আধুনিকায়নের কাজ শেষ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে। সড়কটি প্রশস্ত ও দোতলাকরণ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত পণ্য কাভার্ডভ্যান, ট্রাকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কোন ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত পৌঁছে যাবে। যোগ করেন তিনি।

 


শুক্রবার (১০ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়ক আধুনিকায়ন কাজে বিশেষ গতি পেয়েছে। সোয়া ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ২ হাজার ২৪২ কোটি ৭৭ লাখ টাকার এই প্রকল্প আগামী বছরের জুনের আগেই সম্পন্ন করতে পুরনো সড়ক প্রশস্ত ও নতুন দ্বিতল সড়ক নির্মাণ চলছে একযোগে।

 

 

এ দিকে ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা তীরে একের পর এক বসছে পাইল। ৬৭ মিটার পর্যন্ত গভীরে পাইল স্থাপনে ব্যবহার করা হচ্ছে ভারী ভারী যন্ত্র। এছাড়া সড়কটির অন্য অংশের পাইল স্থাপন চলছে দিনরাত।

 


পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়ক আধুনিকায়ন হলে রাজধানী ঢাকার ওপর যেমন চাপ কমবে, তেমনি যাতায়াতে সময় কমবে অর্ধেকের কম আর যানবাহনের গতি বাড়বে প্রায় কয়েকগুণ। পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়ক প্রশস্ত ও দোতলাকরণ প্রকল্প বদলে দেবে মুন্সীগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও। পাশাপাশি এ দুই জেলার ৫ লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। উল্লেখ্য, ১ জানুয়ারি, ২০২১ সালে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।     এন. হুসেইন রনী  /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন