সেই মাকসুদের পাশেই বসবেন সেলিম ওসমান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪, ০৫:৪০ পিএম
আগামী পাঁচ বছর বন্দর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সহ-সভাপতি মাকসুদ হোসেন। নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ছেড়ে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামা মাকসুদ হোসেন-ই এখন বন্দরের স্ব-ঘোষিত অভিভাবক বনে গেছেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান সমর্থিত প্রার্থী এম এ রশীদের পরাজয়ে সম্প্রতি কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেছেন জাতীয় পার্টির এই সংসদ সদস্য। এতে করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন-ও এমপি সেলিম ওসমানের জন্য এক ধরণের হুমকি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্রানুযায়ী, বন্দর উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশীদকেই সমর্থন দিয়েছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান। সেই মোতাবেক দলীয় নেতাকর্মীদের এম এ রশীদের হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন সংসদ সদস্য। এ নিয়ে দফায় দফায় বন্দরের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বারদের সাথে বৈঠক করেন কারা।
তবে, শেষতক কিছুতেই কিছু হয়নি। প্রশাসনের শক্ত ভূমিকায় বন্দর উপজেলা পরিষদে বিপুল সংখ্যক ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সহ-সভাপতি মাকসুদ হোসেন।
সরাসরি সেলিম ওসমানের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তার নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে মাকসুদ হোসেন বিজয় ছিনিয়ে এনে যে দু:সাহস দেখিয়েছেন তা নারায়নগঞ্জবাসীকে ভিন্ন এক বার্তা প্রেরণ করছে। মোদ্দাকথায়, সিটি নির্বাচনের পর নতুন করে ওসমানদের আধিপত্য খর্ব হতে দেখলো নারায়ণগঞ্জবাসী। অপরদিকে, বন্দর উপজেলা নির্বাচনে প্রশাসনের এমন ভূমিকা থাকবে তা হয়তো কোনভাবেই ভাবেননি জাতীয় পার্টির এই সংসদ সদস্য।
এ দিকে, আগামী পাঁচ বছর বন্দর উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের অবস্থান কেমন থাকবে তা নিয়েই রাজনৈতিকাঙ্গনে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বোদ্ধারা বলছেন, উন্নয়ণের স্বার্থে আপত্তি থাকা সত্বেও এখন সেই মাকসুদ হোসেনকে নিয়েই কাজ করতে হবে এমপি সেলিম ওসমানকে।
এরআগে, নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে বন্দর উপজেলার নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনকে বিভিন্নভাবে থামানোর চেষ্টা করেছেন সাংসদ সেলিম ওসমান। সেসময় মাকসুদ হোসেনকে রাজাকারপুত্র বলেও আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় পার্টির এই সংসদ সদস্য।
অপরদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রকাশ্যে মাকসুদ হোসেনের বিরোধীতা করলেও তার সাথে সেলিম ওসমানের সখ্যতা আগের মতোই আছে। খুব শীঘ্রই তাদের দু’জনকে আবার একত্রে দেখা যাবে।
এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে মাকসুদ হোসেনকে রাজাকারপুত্র বলে আখ্যায়িত করলেও এখন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে তার সাথেই কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে সেলিম ওসমানকে।
এছাড়া এমপি সেলিম ওসমানের কাছে বিকল্প আর কোন রাস্তাই নেই। কেননা, সকল ভয়কে পেছনে ফেলে মাকসুদ হোসেন বিজয় অর্জন করে যেই সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন সেটাই এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। যিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যর নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে ইউনিয়ন ছেড়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারেন তিনি আগামীতে উপজেলা ছেড়ে সংসদ সদস্য নির্বাচনও করতে দ্বিধাবোধ করবেন না বলেই মনে করছেন তারা।


