কাজ শেষ হবার আগেই লিংক রোডের একপাশ দখল করে গাড়ি মেরামত
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪, ১০:৫১ পিএম
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড চার লেন থেকে ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ ৯০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এই সড়কটি চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত প্রায় ৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চার লেন থেকে ৬ লেনে উন্নীত করে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে এ সড়কের কাজ প্রায় শেষ প্রান্তে। বর্তমানে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডটি দৃষ্টিনন্দন সড়কে পরিণত হচ্ছে।
সড়কটির আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে আশপাশের পরিবেশও। এ সড়কের তিনটি স্থানে করা হয়েছে আন্ডারপাস, সাব রেজিস্ট্রি অফিস ও চাঁনমারী এলাকায় দুটি ইউটার্ন, ফুটওভারব্রীজ ও সড়কের দুপাশে করা হয়েছে ড্রেন সহ ফুটপাত। আট দশমিক এক কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি চার লেন থেকে ছয় লেনে উন্নীত করায় এ সড়কের যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জানা যায়, শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জ শহরে যাতায়াতের অন্যতম সড়ক ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড। এ সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড স্থানে মিলিত হয়েছে। এ সড়ক দিয়ে নারায়ণগঞ্জ নগরবাসীসহ অন্যান্য আশপাশের লোকজন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করছেন। এ সড়ক নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে রাজধানী ঢাকায় চলাচলের অন্যতম প্রধান একটি সড়ক।
আগে চাষাঢ়া থেকে সাইনর্বোডে গাড়িতে যেতে সময় লাগত ৩০-৪০ মিনিট। বর্তমানে ছয় লেন সড়ক হওয়ায় সময় লাগে ১০-১৫ মিনিট। সড়ককে ঘিরে ইতোমধ্যে সড়কের দু’পাশে গড়ে উঠতে শুরু করেছে আধুনিক বহুতল ভবন ও মার্কেট। এ ছাড়াও এ সড়কের আশপাশে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের সরকারি প্রায় সকল অফিস-আদালত।
এ সড়কের পাশে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগ, জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত, জেলা পরিষদ, এলজিইডি কার্যালয়, পাসপোর্ট অফিস, জেলা কারাগার, জেলা নির্বাচন অফিস ও শিল্প পুলিশ-৪’র পুলিশ লাইন্সসহ নানা ধরনের স্থাপনা রয়েছে।
ফলে এ সড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ততম সড়কে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এ সড়কটির সাইনবোর্ড, ভূ্ইঁগড়, জালকুড়ি ও শিবু মার্কেট এলাকায় প্রায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। আর এই যানজটের প্রধান কারণ হচ্ছে সড়কের অনেক স্থানে গাড়ি পার্কি, গাড়ি মেরামত করা গ্যারেজ ও ফুটপাত দখল করে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ীদের মালামাল রাখা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের আয়কর অফিসের পাশে ছয় লেনের সড়কের এক লেন দখল করে সম্রাট ওয়ার্কশপ নামে একটি গাড়ির গ্যারেজ দুই’তিনটি বাস এক সাথে রেখে মেরামত করছে। এছাড়াও ঐ ওয়ার্কশপের যন্ত্রপাতি ফুটপাতে রাখার কারনে সাধারণ মানুষ চলাচল করছে সড়ক দিয়ে।
এবিষয়ে একজন পথচারী জানান, সরকার এতো বড় সড়ক করেছে মানুষের সুবিধার জন্য। ফুটপাত করেছে মানুষের হাঁটার জন্য। কিন্তু এই এলাকার কয়েকজন এখানে ফুটপাত দখল করে চায়ের দোকান সহ বিভিন্ন ধরনের দোকান দিয়ে বসেছে। আবার রাস্তার একপাশে বাস, সিএনজি রেখে মেরামতের কাজ করছে।
কেউ কিছু বলতে গেয়ে ইসদাইর এলাকার জামান- শিমুল সহ আরও কয়েকজন হুমকি-ধমকী দেয়। এই সড়কের একটু সামনেই একটি স্কুল রয়েছে। প্রতিটি দিন অনেক বাচ্চা এখান দিয়ে স্কুলে যায়।
কিন্তু তাদের এই ফুটপাত ও সড়কের একপাশ দখলের কারণে সড়কের মাঝ পথ দিয়ে চলাচল করে বাচ্চারা। এতে যে কোন সময় বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তার সড়ক কৃর্তপক্ষের কাছে দাবি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ রাখতে হলে ও যানজট মুক্ত রাখতে হলে এই সকল অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে। এন. হুসেইন রনী /জেসি


