# আমরা সাময়িক বরখাস্তের চিঠি পেয়েছি : প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (নাসিক)
# বিষয়টি একতরফাভাবে করা হয়েছে : অভিযুক্ত কাউন্সিলর জোহা
নারায়ণগঞ্জে কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে টিসিবির পণ্য বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহেনশাহ, ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম এবং সর্বশেষ ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সামসুজ্জোহাসহ বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে টিসিবি পণ্য অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ আসে।
এর মধ্যে টিসিবি পণ্য অন্যত্র সরিয়ে ফেলার প্রতিবাদ করায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৫, ২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সানিয়া সাউদকে শারিরীকভাবে আঘাত করার অভিযোগ এসেছে নাসিকের ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সামসুজ্জোহার বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার জের ধরে কাউন্সিলর সামসুজ্জোহাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে গত ৭ মে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন দাখিল করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে মহিলা কাউন্সিলর সানিয়া আক্তার (সানিয়া সাউদ)কে টিসিবি পণ্য বিতরণকালে শারিরীকভাবে আঘাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে উল্লেখ করে অভিযুক্ত কাউন্সলর সামসুজ্জোহাকে স্বীয় পদ হতে অপসারণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ ধারা ১৩ এর উপধারা (৩) এর অধীন কার্যক্রম আরম্ভ করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিতায় স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ ধারা ১২ এর উপধারা (১) অনুযায়ী তার স্বীয় পদ হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, আমরা এই আদেশটি পেয়েছি এবং একই সাথে আমরা তার একটি কপি নাসিক ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সামসুজ্জোহাকে পাঠিয়ে দিয়েছি।
এর আগে গত বছরের ৯ জানুয়ারি নাসিক ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সামসুজ্জোহার বিরুদ্ধে দুই হাজার পরিবারের জন্য আসা টিসিবির পণ্য বিতরণ না করে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ করেন নারী কাউন্সিলর সানিয়া আক্তার। তাই এর পর গত ৫ মার্চ সন্ধ্যায় যখন ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১৯০০ পরিবারে বিতরণের জন্য টিসিবির পণ্য আসে বিতরণের আগে তা গুনে দেখতে চান সানিয়া। এতে বাধা দেন সামসুজ্জোহা। পরে সামসুজ্জোহার বিরুদ্ধে সানিয়াকে অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ করেন সানিয়া।
এ ঘটনায় সানিয়া বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগও করেছিলেন। অভিযোগে কাউন্সিলর সামসুজ্জোহা (৫০) ছাড়াও তার ভাই মো. জাহাঙ্গীর (৩৭) ও মো. রিপন ওরফে অটো রিপনকে (৪০) অভিযুক্ত করা হয়। এই ঘটনার তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে সামসুজ্জোহার বিরুদ্ধে টিসিবি পণ্য বিতরণে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম এবং নারী কাউন্সিলরকে শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জানানো হয়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কাউন্সিলর সামসুজ্জোহা বলেন, বিষয়টি একতরফাভাবে তদন্ত করে করা হয়েছে। এখানে তদন্ত কমিটির সদস্যগণ সরেজমিনে যাচাই-বাছাই না করেই তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়াতে এই সাময়িক বরখাস্তের ঘটনা ঘটেছে।
তবে আমি বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক ও সিটি মেয়রের সাথে যোগাযোগ করতেছি। এখানে নতুন করে তদন্ত করে আমার বিষয়গুলো (অভিযোগগুলো) যাচাই-বাছাই করা হবে বলে আমার বিশ্বাস। এ সময় তিনি নারী কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে করা তার অভিযোগগুলো যাচাই করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন।


