যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু দুই দিনের সফরে আজ মঙ্গলবার (১৪ মে) ঢাকা আসছেন। ঢাকা সফরকালে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে তার মূল আলোচনা হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের এক নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন তিনি বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
জানুয়ারি মাসে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর মার্কিন সরকারের কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা ঢাকা সফর করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া সংক্রান্ত জ্যেষ্ঠ পরিচালক এইলিন লুবাখার ঢাকা সফর করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএআইডির সহকারী প্রশাসক মাইকেল শিফার তার সফরসঙ্গী হিসেবে ঢাকায় আসেন। এছাড়া এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন টিকফা বৈঠকের জন্য ঢাকা সফর করেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল—জলবায়ু পরিবর্তন, শ্রম অধিকার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ অন্যান্য বিষয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। তারা ইতোমধ্যে আমাদের জানিয়েছে—তাদের ঢাকা দূতাবাসে জলবায়ু ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা পাঠাতে চায়।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। কারণ বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী মাসগুলোতেও কর্মকর্তা পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।’
এদিকে গতকাল সোমবার (১৩ মে) পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ডোনাল্ড লু’র বাংলাদেশ সফর নিয়ে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চিঠি দিয়ে এ সম্পর্ককে যে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার কথা বলেছেন, মার্কিন প্রশাসনের যেই আসুন—সেই ধারাবাহিকতাতেই আলোচনা হবে।’
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি সহজীকরণ এবং র্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এসব নিয়েও আলোচনা হবে।’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে দ্বাদশ নির্বাচনের আগে নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সোচ্চার ছিল যুক্তরাষ্ট্র। নির্বাচনের পর ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করে চিঠি পাঠান।
ওই চিঠিতে নতুন গঠিত সরকারকে ‘অভিনন্দন’ না জানালেও সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করার বিষয়ে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে চায় সেটি উল্লেখ করা হয়। ওই ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু, অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিকের অভিন্ন ভিশন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানিসহ অন্যান্য সহযোগিতা। এন. হুসেইন রনী /জেসি


