# সাজনু প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা না দিলে সদরে হতো নির্বাচন
# সদর উপজেলায় ক্ষমতাসীন নেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ফাটল
সব দিক গুছিয়ে নিচ্ছেন আজাদ বিশ্বাসে । অনেকটা অদৃশ্য হাতের ইশারায় তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন তার লক্ষ্যে। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সদর উপজেলায় নির্বাচন না হওয়ায় বিএনপি নেতা আজাদ বিশ্বাসের বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে। অপরদিকে কপাল পৃুড়ছে ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতার। এবারে উপজেলা নির্বাচনে শামীম ওসমান বলয়ের অনেকেই আশায় বুক বেঁধেছিলেন নির্বাচন করার।
কিন্তু না, সে আশায় গুড়ে বালি পড়েছে। সীমানা জটিলতা সংক্রান্ত মামলায় কারনে এবারও সদর উপজেলা নির্বাচন স্থগিত হয়ে গেছে। তবে ওসমান বলয়ে একাধিক প্রার্থী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্ধী হতে চাওয়ার কারনে,শামীম ওসমানের ইশারায় নির্বাচন স্থগিত রয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। এবারের সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ওসমান বলয়ের শাহ নিজামের পাশাপাশি সাজনু নির্বাচন করার ঘোষণাই কাল হয়েছে সদর উপজেলাবাসীর।
সাজনুকে নির্বাচন না করার ব্যপারে সতর্ক করলেও তিনি তাঁর অবস্থানে ছিলেন অনড়। সদর উপজেলায় নির্বাচন না হওয়ার ব্যাপারে অদৃশ্য শক্তি শক্ত অবস্থানে থাকায় সদর উপজেলা নির্বাচন এবারও আলোর মুখ দেখেনি। বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসের কপাল এবারও খুলে গেছে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে এই নির্বাচন অনিশ্চিত হওয়ার কারনে সদরের আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে বড় ধরনের ফাটল ইতিমধ্যে দেখা দিয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে একাধিক বলয়। আর এই ফাটলের কারনে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে আগামীতে সদরে আওয়ামীলীগের রাজনীতি। এমনই ধারণা করছে বিশ্লেষকরা।
২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। সে সময় বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিশ্বাসী ও বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ফতুল্লার সুলতান বক্স চৌধুরীর ছেলে আসাদউদ্দিন চৌধুরী,পশ্চিম মাসদাইরের মতিউর রহমানের ছেলে বজলুর রহমান ও কাশিপুর উত্তর গোয়ালবন্দের হেলালউদ্দিন মুন্সীর ছেলে হোমিম মুন্সীকে বাদী করে সীমানা সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করেন।
আর ঐ মামলায় এখন আশির্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে আজাদের। সিটি কর্পোরেশনের সাথে সীমানা সংক্রান্ত একটি মামলায় দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ চেয়ারম্যান পদেই রয়ে গেলেন আজাদ বিশ্বাস। তবে আজাদের এই মামলায় সাংসদ শামীম ওসমানের সায় রয়েছেন বলে অনেকে ধারণা করছেন। অনেকের দাবী, শামীম ওসমান চাইলেই সীমানা জটিলতা সংক্রান্ত মামলা অনেক আগেই শেষ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তাঁর বলয়ে যাতে চিড় না ধরে সেজন্য তিনি ঐ মামলা নিষ্পত্তির ব্যাপারে তেমন কোনো মাথা ঘামান না।
সূুত্রের দাবী,এবারে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শামীম ওসমান চেয়েছিলেন তার মনোনীত একজন প্রার্থী শাহ নিজাম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন। কিন্তু এতে বাধ সাধেন শামীম ওসমানের আরেক আস্থাভাজন শাহাদৎ হোসেন সাজনু। তিনিও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন বলে ঘোষণা দেন। এ নিয়ে বেশ দেন দরবারও হয়েছিলো।
কিন্তু সাজনু ছাড় দিতে কোনোভাবেই রাজী হচ্ছিলেন না। অতঃপর শামীম ওসমান একটি সভায় বক্তব্যে বলে দেন ‘৮ মে সদর উপজেলায় নির্বাচন হবে না এটা আমি নিশ্চিত ’। শামীম ওসমানের এমন বক্তব্যের পর পরই আসল চিত্র ভেসে উঠে। সেই সাথে আজাদ বিশ^াসের বলয়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। অপর দিকে ফতুল্লায় মীর সোহেল, ফরিদ আহম্মেদ লিটন, আবুৃ মোহাম্মদ শরীফুল হকের আশায়ও গুড়ে বালি পড়ে। কারন তারাও চেয়েছিলেন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তারা শামীম ওসমানের নির্দেশেই ভাইস চেয়ারম্যান পদে যে কোন একজন লড়বেন। সে ভাবে তারা প্রস্তুতীও নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজাম সাজনুতে আটকে গেলো নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন।
অপরদিকে, নির্বাচন যাতে না হয় সেজন্য আজাদ বিশ^াসসহ নাজিম উদ্দিন ও ফাতেমা মনির নামেন নয়া মিশনে নেমেছেন। যেখানে যা করা দরকার তারা তা-ই করে যাচ্ছেন। বিশ্লেষক মহল মনে করেন, শামীম ওসমানের উচিৎ ছিলো তার বলয়ের লোকজনদের নির্বাচনের মাঠে ছেড়ে দেয়া। যাতে যোগ্যতার মাপ কাঠিতে যে যার অবস্থান থেকে উঠে আসতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হলো না।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তখন বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ওই সময় ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম উদ্দিন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হন ফাতেমা মনির। এরপর ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠিত হলে সদর উপজেলার কিছু অংশ সিটি করপোরেশনে চলে যায়।
তখন ২০১৪ সালের দিকে তিন ব্যক্তি উচ্চ আদালতে রিট করেন। এতে আদালত এ উপজেলার নির্বাচন স্থাগিত রেখে সীমানা নির্ধারণের নির্দেশ দেন। সদর উপজেলার কিছু এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠন হওয়ায় ওইসব এলাকা বাদ দিয়ে উপজেলা পরিষদ আইনে সরকার সদর উপজেলা পুনর্গঠন করে। ২০১৪ সালের ৪ মার্চ এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। এ গেজেট অনুযায়ী কয়েকটি এলাকা বাদ দিয়ে উপজেলার নতুন সীমানা নির্ধারণ হওয়ায় উচ্চ আদালতে রিট করেন তারা।
৮ মে নির্বাচন হওয়ার তফশিল ঘোষণা করা হলেও ৯ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। ঘোষণায় উল্লেখ করেন, আগে থেকেই এ উপজেলায় নির্বাচন স্থগিতাদেশ ছিল। বিষয়টি কমিশনের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে।


