Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

লিংক রোডের শেষ মূহুর্তের কাজে রং তুলির ছোঁয়া  

Icon

আরিফ হোসেন

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪, ০৩:০৩ পিএম

লিংক রোডের শেষ মূহুর্তের কাজে রং তুলির ছোঁয়া   
Swapno


নারায়ণগঞ্জে লিংক রোডের ৬ লেনের রাস্তাটির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে কিছু কিছু জায়গাতে এখনো চলছে রাস্তার সংস্কারের কাজ। তবে এর আগেই এই রস্তার সৌন্দর্য বাড়াতে বাস্তার দু পাশের মাঝখানেই করা হয়েছে নানার ফুল গাছের সমারহ যা এই লিংক রোডটিকে আরও সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তুলেছে। লিংক রোডের কাজ অনেকটাই শেষ পর্যায়ে।

 


গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে লিংক রোডের কাজের সব শেষ প্রস্তুতি হিসেবে রং তুলির কাজ করা হচ্ছে। আর এতেই অনেকটাই বোঝা যাচ্ছে আগামী দু এক মাসের মধ্যেই শেষ হবে এই রাস্তার সকল কাজ। অনেকটা ঢিলেঢালে ভাবে কাজ করা হয় এই লিংক রোডটিকে নিয়ে। তবে নানান প্রতিকূলতার মধ্যে এই লিংক রোডটি জনসাধারনের জন্য স্বস্তিদায়ক হিসেবে কাজ করবে।

 


রাজধানীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরবিচ্ছিন্ন ও যানজটমুক্ত করতে সরকার ছয় লেন করার উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ বিশেষ ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ লিংক সড়ক (সাইনবোর্ড-চাষাড়া) ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ৮ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৪৫০ কোটি টাকা। বাস্তবায়নকাল ধরা হয় ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত।

 


চাষাড়া থেকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংযোগ সড়কের দূরত্ব সোয়া আট কিলোমিটার। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি খুবই সংকীর্ণ হওয়ায় গুরুত্ব বিবেচনায় নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। এ জন্য সরকার নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ছয় লেনে উন্নীতকরণে অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে খরচ ধরা হয়েছে ৪৪৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

 

 

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুনে শেষ করার কথা নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ৮ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সড়ক। এটি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক নামেও পরিচিত।

 


এর আগে লিংক বোডের কাজের জন্য এক বছর সময় বাড়ানো হয়েছে। তারপরও পুরো কাজ শেষ না হওয়ায় আবার সময় বাড়ানো হয়েছে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত তাতে খরচ বাড়ানো হয়েছে ৪০ কোটি টাকা বা ৯ শতাংশ অর্থাৎ ৪৯০ কোটি টাকা ব্যয় করার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুমোদন দিয়েছেন।

 

 

এই পথের যাত্রীরা বলেছেন, প্রায় কাজ শেষ হয়েছে। সহজে ও   দ্রুত যাতায়াত করা যাচ্ছে। তবে ভুইগড় ওভারপাসের উচ্চতা কম হওয়ায় নিচ দিয়ে বাস-ট্রাক যাতায়াত করতে পারছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু  মন্ত্রণালয়।

 


পরিকল্পনা কমিশন এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্যিক নগরী নারায়ণগঞ্জে শহর থেকে ঢাকা সঙ্গে কয়েকটি সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড দিয়ে প্রতিদিন বেশি যানবাহন চলাচল করে। গার্মেন্টস, হোসিয়ারি সিমেন্ট, লবণসহ বিভিন্ন শিল্প পণ্য পরিবহন ছাড়াও যাত্রীবাহী বাস, পিকআপ মালাবাহী ট্রাক এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে।

 


 এই সড়কের পাশেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, সিভিল সার্জন অফিস, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা কারাগার, গণপূর্ত অধিদপ্তর, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ অফিস, বিজিবি-৬২, পিবিআই অফিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা পরিষদ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্র্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। এই অঞ্চলে সম্প্রতি অসংখ্য শিল্প-কারখানা ও নতুন বসতি গড়ে উঠেছে।

 


 প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হলো সড়কবাঁধ-পেভমেন্ট বিদ্যমান পেভমেন্ট মজবুত করা, সার্ভিস সড়ক, হার্ড শোল্ডার, রিজিড পেভমেন্ট মজবুত- করা ও সার্ভিস লেন, কংক্রিট রোড ডিভাইডার, আরসিসি বক্স কালভার্ট সম্প্রসারণ, ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস এবং বাস- বে নির্মাণ করা হয়েছে।

 


রাস্তার কাজ চলাকালীম সময়ে এই লিংক রোড দিয়ে চলাচলকারীরা অনেকটা সমস্যার মধ্যে পড়লেও যা এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। মাঝখানে কাজের একটু ধীরগতি হলেও শেষের দিকে দ্রুত গতিতে হওয়ার কারণে এখন অনেকটাই শেষ পর্যায়ে এসে ঠেকেছে।

 

 

আশা করা যাচ্ছে আগামী দু এক মাসের মধ্যেই এই রাস্তার কাজ শেষ হবে এবং নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য এই রাস্তাটি অনেকটাই আর্শিবাদ হয়ে এসেছে এমনটাই মনে করছেন সাধারন চলাচলকারীরা।     এন. হুসেইন রনী  /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন