# অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন বাবু
এবার নিজেকে নিজে একজন সিপ্রোসিন চেয়ারম্যান (সিপ্রোসিন-এক প্রকারের অ্যান্টিবায়েটিক ট্যাবলেট) বলে দাবি করেছেন সোনারগাঁ উপজেলা প্রার্থী বাবুল ওমর বাবু। প্রচারণার একই অনুষ্ঠানে তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি-ধমকি দিয়ে নির্বাচনে ভোট চাইছেন তিনি । যা নিয়ে ইতিমধ্যে সোনারগাঁয়ে উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এ দিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবুল ওমর বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, কাঁচপুরে ফুটপাতে অবৈধ দোকান তুলে চাঁদাসহ জুয়ার আসর বসিয়ে অঢেল টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আর অবৈধ পথে কামানো টাকা নিয়ে ভোটারদের কিনার জন্য মিশন প্রভাব বিস্তার করছে। এদিকে নির্বাচনের মাঠে তার বিপক্ষ প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের মাহফুজুর রহমান কালামকে কোনঠাসা করতে এই বাবু বিভিন্ন নির্বাচনী উঠান বৈঠকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করছে বিপক্ষ প্রার্থী ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা বিরুকে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৬ মে) রাতে সোনারগাঁয়ে বাবুর নির্বাচনী এক উঠান বৈঠকের ভিডিও রীতিমতো ফেইসবুকে ভাইরাল। ভিডিওতে দেখা গেলো সন্ত্রাসীর রূপ দেখিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবু বলেন, ‘আমি বাবু এসে বলে গেলাম এই নির্বাচনে ভোট টার্গেটে আমি থাকবো, এই নির্বাচনে ভোট টার্গেটে খেলা হবে বিরুর সাথে আমার সাথে আরো খেলা হবে সন্ত্রাসীদের একটি অপবাহিনী আছে খেলা হবে তার সাথে। আমার নাম বাবু সকলেই বলে দিয়েন বাবু একজন সিপ্রোসিন চেয়ারম্যান (সিপ্রোসিন-এক প্রকারের অ্যান্টিবায়েটিক ট্যাবলেট)।
তিনি বক্তব্যের শেষ দিকে এসে হঠাৎ অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ ও হুমকি দেন। তিনি পরবর্তীতে আরো বলেন, যদি এই মাইকের আওয়াজ তার বাসায় যায় আমি বলে দিতে চাই আমরা কলিজায় যে ব্যথা শুধু নির্বাচনের জন্য কিছু বলতে পারছি না। যাকে ঘিরে নির্বাচনী মাঠে ভোটার সংকটের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে চাঁদাবাজিতে অভিযুক্ত প্রার্থী বাবুল ওমর বাবুর পক্ষে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাত সমর্থন দিয়ে বাবুকে আরো বেপরোয়া করে ফেলেছেন।
এমনকি তিনি সোনারগাঁ উপজেলার সকল চেয়ারম্যানকে বাবুল ওমরের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেন। যার সম্পুর্ণ তিনি দলের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে এই নির্দেশনা দিয়েছেন। কেননা আওয়ামী-লীগ দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা বার বার সতর্ক করে বলেছেন উপজেলা নির্বাচনে কোন এমপি-মন্ত্রী কাউকে সমর্থন দিতে পারবে না। কেউ এর ব্যত্যয় ঘটালে তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ও হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর ও অর্থের জোরে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করেছেন এমপি কায়সার হাসনাত তা বাবুর এমন চিত্রে বোঝাই যাচ্ছে। আর জনগণ এবার নিবার্চনের পরিস্থিতি নিয়ে সংশয় বোধ করছে।
জানা গেছে, আগামী ২১ মে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী থাকলেও মুলত দু’জন প্রার্থীর মাঝে লড়াই হবে। তার মাঝে সোনারগাঁ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবুল ওমর বাবুর বিরুদ্ধে চাদাঁবাজি থেকে শুরু করে জুয়ার আসর বসিয়ে অঢেল টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আর অবৈধ পথে কামানো টাকা নিয়ে ভোটারদের কিনার জন্য মিশন নিয়ে মাঠে নেমে প্রভাব বিস্তার করছে। কিন্তু সোনারগাঁয়ের মানুষর সচেতন হওয়ায় তারা এবার চাঁদবাজ, জুয়ার আসরে নেতৃত্ব প্রদানকারীর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। এমনকি কোন চোখ রাঙ্গানিকে তারা কাউকে তোয়াক্কা করবেন না। বাবুর এসব অপকর্মের কথা এখন মানুষের মুখে মুখে।
তা ছাড়া ওমর মিস্ত্রীর বড় মেয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবুল ওমরের আপন বড় বোন ডলি আক্তার প্রকাশ্যে মাঠে নেমে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান কালামের পক্ষে ভোটারদের ধারে ধারে গিয়ে ভোট চাইছেন। তিনি ভোটারদের গিয়ে বলছেন, আমার ভাই বাবু সোনারগাঁও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী সে একজন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, ভূমি দস্যূ এবং এরশাদ শিকদারের থেকে ও খারাপ লোক তাকে কেউ ভোট দিবেন না।
তিনি আরো বলেছেন, আমার বাবা মারা গেছেন ৫০ বছর হয়ে গেছে। বিগত দিনে কাচঁপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থাকাকালীন আমরা বাবা সকলের পাশে ছিলেন কিন্তু এই বাবু ভাইস চেয়ারম্যান হয়ে ও রাস্তা ঘাটের কি অবস্থা একটি কাজ ও করে নাই। তাই আমি বলতে চাই আমার বাবা ওমর মিস্ত্রীর নাম বিক্রি করে ভোট চাইলে ও আপনারা কেউ ভোট দিবে না। আপনারা সকলেই ঘোড়া মার্কায় ভোট দিয়ে মাহফুজুর রহমান কালামকে জয়যুক্ত করবেন। যাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বাবু চরিত্র আরো অনেকটাই ফুটে উঠেছে।


