গতকাল বুধবার দৈনিক যুগের চিন্তা’য় ‘ষোল আনাই ব্যর্থ শামীম ওসমান’ এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের দাপুটে এমপি একেএম শামীম ওসমানের। বিকেলেই তিনি ফতুল্লার লালপুরে পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শনে যান। বলা যায়, যেতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ, যুগের চিন্তায় প্রকাশিত নিউজ এবং ছবি সকাল থেকেই গোটা ফতুল্লার আনাচে কানাচে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিলো।
দীর্ঘ সাত বছরেও তার নির্বাচনি এলাকা ফতুল্লা তথা ডিএনডিবাসীকে পানিবন্দি থেকে মুক্তি দিতে ব্যর্থ হওয়ার কাহিনী পড়ে লোকজন ধিক্কার দিতে শুরু করেন। অনেকে মোবাইলে নিউজের ছবি তুলে ম্যাসেঞ্জারে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করেন। অনুগামীদের মাধ্যমে শামীম ওসমানের কানেও হয়তো এ খবর পৌঁছে গিয়েছিলো। অবস্থা বেগতিক দেখে সময়ক্ষেপণ না করে বিকেলেই ব্যর্থতার ‘আনা’ কমাতে তিনি অকূস্থলে ছুটে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে প্রতিপক্ষের ধারণা।
লালপুরের পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানকার পানি সরানোর জন্য তিনটি পাম্প বসিয়েছিলাম। এখানে একটা ট্রান্সফরমার ছিলো, কিন্তু তা খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সদকায়ে জারিয়া হিসেবে এ ট্রান্সফরমার কিনতে যত টাকা লাগবে আমি দেবো। বকেয়া ৯০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল কে পরিশোধ করবে? ইউনিয়ন পরিষদ বা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এটা মওকুফ করতে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সাথে বসবো। তিনি মওকুফ না করলে আমরা ব্যবস্থা করবো। কিন্তু এর পরের বিল কে দেবে? চেয়ারম্যানদের বলবো আগে থাকতে তৈরী থাকতে। এবারের পানিবদ্ধতার জন্য আমি লজ্জিত। এলজিআরডিতে প্রজেক্ট দিয়েছি। মন্ত্রীর সাথে কথা বলবো।’
কিন্তু শামীম ওসমানের এসব কথায় আস্থা রাখতে পারছেন না ডিএনডিবাসী। দেখা গেছে, অতীতে তিনি এ ধরণের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করতে পারেননি। এতে শামীম ওসমানকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে একটা বদ্ধমূল ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। তা হলো, তিনি বলেন একরকম আর করেন অন্যরকম। মিডিয়াতে ভাইরাইল হতেই তিনি শুদ্ধভাষায় নানারকমভাবে নিজেকে তুলে ধরতে চেষ্টা করেন। মিডিয়ায় তা প্রচারের পর তিনি তার প্রতিশ্রুতির কথা বেমালুম ভুলে যান। এবারও যে এর ব্যাতিক্রম হবে না এর গ্যারান্টি কোথায়!
তবে ডিএনডিবাসীর জন্য স্বস্তির খবর হলো, ডিএনডি এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য শিমরাইল ও আদমজী পাম্প হাউজে ১৩টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প রাতদিন সচল রয়েছে। এ ছাড়া ফতুল্লা, কদমতলী ও শ্যামপুরে পাম্পিং প্ল্যান্টের সকল পাম্প দিয়েও পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক নিশ্চিত করেছেন, চলতি বছরেই ডিএনডি প্রকল্পের কাজ শেষ হবে এবং পানিবদ্ধতা দূর হবে


