ট্রান্সফরমার নিয়ে লালপুরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৪, ০৭:২২ পিএম
সদকায়ে জারিয়া হিসেবে ট্রান্সফরমার কিনে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে পানিবন্দি মানুষের বিতর্কের মুখে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান। তার এ ঘোষণা ফতুল্লা লালপুরের পানিবন্দি মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। তারা বলছেন, শামীম ওসমান জনগণের ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আর জনগণের দেখভালের দায়িত্ব তো জনপ্রতিনিধির হাতেই ন্যস্ত। তিনি কেনো আমাদের সদকায়ে জারিয়া হিসেবে ট্রান্সফরমার কিনে দিতে যাবেন!
আর আমরাই বা তার সদকা নিতে যাবো কেনো? জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি তো আমাদেরকে সেবা দিতে বাধ্য। লালপুর এলাকার ভাড়াটিয়া মোশাররফ নামে একজন গাড়িচালক বলেন,‘শামীম ওসমান ভাই একজন দেশবরেণ্য নেতা। নারায়ণগঞ্জের কোটিপতিরা তার কথায় ওঠবস করেন। একটি সামান্য ট্রান্সফরমারের টাকা জোগাড় করা তার কাছে পান্তাভাতের মতো। একজন দাপুটে এমপি হিসেবে তিনি যে প্রভাব খাটাতে পারেন, তা অন্য কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। ভেবে পাই না তিনি কেনো আমাদেরকে সদকায়ে জারিয়া দিতে যাবেন! ট্রান্সফরমার পাওয়াতো আমাদের নাগরিক অধিকার। এখানে সদকায়ে জারিয়ার প্রসঙ্গ আসবে কেনো?
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মে বুধবার লালপুরের পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শন শেষে এমপি শামীম ওসমান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘এখানের পানি সরবরাহের জন্য তিনটা পাম্প বসিয়েছিলাম। এখানে একটি ট্রান্সফরমার ছিলো, কিন্তু তা খুলে নেয়া হয়েছ্।ে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে এ ট্রান্সফরমারটি কিনতে যত টাকা লাগবে আমি দেবো।’
বইপত্র ঘেঁটে জানা যায়, ‘সদকায়ে জারিয়া’ একটি আরবি শব্দ। সদকা শব্দের অর্থ দান করা। আর জারিয়া শব্দের অর্থ স্থায়ীভাবে অবিরাম চলতে থাকা। অর্থাৎ সদকায়ে জারিয়া হলো এমন একটি দান, যার কার্যকারিতা কখনো শেষ হবে না এবং তা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আরো পরিষ্কারভাবে বলা যায়, যতদিন এই পৃথিবী থাকবে, ততদিন সদকাকারী ব্যক্তি কবরে শুয়ে শুয়ে এর সওয়াব পেতেই থাকবেন। কিন্তু এ দান কাউকে দেখানোর উদ্দেশ্যে নয় বরং শুধুমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের নিয়তে করতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফতুল্লা ফাজিলপুরের জমিরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা আবু সাঈদ বলেন, জনকল্যাণমূলক কাজ যা থেকে মানুষ দীর্ঘস্থায়ীভাবে উপকৃত হবে সেখানে দান করলে তা সদকায়ে জারিয়া হিসেবেই গণ্য হবে। এমপি সাহেব তার নিজের টাকায় যে ট্রান্সফরমারটি কিনে দেয়ার কথা বলেছেন, তা জনগণের উপকারে আসবে। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন এ ট্রান্সফরমারের দেয়া সুফল ভোগ করবেন। সুতরাং তার এ দানকে সদকায়ে জারিয়া বলতে কোন বাধা নেই। তবে তিনি তা প্রকাশ্যে ঘোষণা না দিলেও কোন ক্ষতি ছিলো না।
কয়েকজন মাওলানার সাথে আলাপ করে জানা যায়, মানুষের দীর্ঘস্থায়ী উপকারে আসে এমন ১০টি খাতে সদকায়ে জারিয়া দেয়া যায়। হাদিসে বর্ণিত আছে, মানুষের মৃত্যু হলে তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে গেলেও তিনটি আমল চলমান থাকে। এই তিন আমলের অন্যতম হলো, সদকায়ে জারিয়া।
বলা যায়, সদকায়ে জারিয়া হলো-আখিরাতের পুঁজি। এর বেনিফিট মৃত্যুর পরও সদকাকারির আমলনামায় জমা হতেই থাকে। এমপি শামীম ওসমান মৃত্যুর আগে যথাসম্ভব সদকায়ে জারিয়ার কাজ করার চেষ্টা করছেন।


