Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

কেরানীগঞ্জের টেঁটা পুরো আকবরনগরের অভিশাপ

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৪, ০৭:৩১ পিএম

কেরানীগঞ্জের টেঁটা পুরো আকবরনগরের অভিশাপ
Swapno

 

 

ধরা ছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন তিনি। তিনি যেদিকে থাকেন জয় তারই হয়। এক রহস্যময় পুরুষ তিনি। ঢাকার কেরানীগঞ্জে তিনি বসবাস করলেও  ফতুল্লার বক্তাবলীসহ সিরাজদীখান থানা এলাকার বেশ কিছু অংশ এই নেতার দখলে। মূলত টেঁটা,বল্লম বা আদিম অস্ত্র দিয় উল্লেখিত অঞ্চলে যে যুদ্ধ বাঁধে,তা কাশেম নেতার বদৌলতেই হয়ে থাকে। তবে ফতুল্লার আকবর নগরে তাঁর আধিপত্য বেশি। 

 

ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউপি চেয়ারম্যান এম শওকত আলী অসহায় কাশেম নেতার পলিটিক্সের কাছে। কাশেমের চাচাতো ভাই জয়নালকে টেঁটাবিদ্ধ করে বেশ কয়েক বছর আগে হত্যা করে সামেদ আলীর বাহিনী। আর এরপর থেকেই আকবরনগরে রহিম হাজীর মাথার উপর আশির্বাদ হয়ে আছেন কাশেম নেতা। যে আশির্বাদ আগে ছিলো সামেদ আলী বাহিনীর উপর। একের পর এক অঘটনের পরেও এলাকায় বহাল তবিয়তে থাকেন কাশেম ও তার লোকজন। অপরদিকে রক্তাক্ত জনপদ আকবরনগর বাসীর প্রতিটি দিন কাটে অজানা আতংকে।


ফতুল্লার ধলেশ্বরী নদী বেষ্টিত বক্তাবলীর আকবর নগর এলাকা। নদীর উত্তর দিকে কেরানীগঞ্জ থানা । পুরো আকবর নগর অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করেন কেরানীগঞ্জ থানা এলাকার দূর্ধর্ষ এক ব্যাক্তি, যার নাম আবুল কাশেম। যিনি নিজের নামের আগে নেতা বিশেষণ যুক্ত করতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আকবরনগরের মাটি মহাল ও ইটভাটা থেকে শুরু করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড তাঁর নিয়ন্ত্রণে। এক সময় সামেদ আলী বাহিনীকে লালন পালন করতেন কাশেম নেতা। সেই সময় বক্তাবলী ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলীর কথাও শোনেনি সামেদ আলী।  বারবার এলাকায় সংঘর্ষ বন্ধ করতে বল্লেও তিনি তার কথা শোনেনি। 

 

তবে এক পর্যায়ে সামেদ আলী ও তার বাহিনীর লোকজন শওকত আলীর সাথে এসে ভিড়েন। এতে মনোক্ষুন্ন হয় কাশেম নেতা। তিনি সামেদ আলীর বিরুদ্ধে আকবর নগরে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেন রহিম হাজীকে। আর এরই সূত্র ধরে কয়েক বছর আগে কাশেম নেতার চাচাতো ভাই মাটি ব্যবসায়ী জয়নালকে টেঁটাবিদ্ধ করে নদীর পাড়ে  নৌকার উপর ফেলে রাখে সামেদ আলীর লোকজন। 

 

হাসপাতালে নেয়ার পর জয়নালের মৃত্যু হয়। আর এরপরেই সামেদ আলীর উপর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে কাশেম নেতা। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। সেই সময় শওকত আলী ঐ মামলায় আপোষ মিমাংসা করতে সামদে আলীর পক্ষে নিয়ে উভয় পক্ষকে সংঘর্ষ  তেকে বিরত থাকতেও বলেছিলেন।

 

জয়নাল হত্যাকান্ডের পর এলাকা ছাড়া ছিলেন সামেদ আলীর পুরোপরিবার। রহিম হাজীর লোকজন সামেদ আলীর লোকজনকে এলাকায় অবাঞ্চিত ঘোষণা করে। তবে সামেদ আলীসহ এর পুরো পরিবারকে এলাকায় ফিরিয়ে আনতে এবং বিরোধ মিমাংসাতে শওকত আলী অগ্রনী ভুমিকা পালন করেছিলেন। তার সাথে ফতুল্লা মডেল থানা ও জেলা আওয়ামীলীগের লোকজনও ছিলেন। 

 

সামেদ ও রহিম হাজীর মধ্যে বিরোধ মিটাতে উদ্যোগ গ্রহণও করেছিলেন তারা। সফল হয়েছিলেন শওকত। কিন্তু না, সামেদ আলী ও রহিম হাজীর মধ্যে শান্তিপূর্ন অবস্থান বেশিদিন টিকেনি। এরই মধ্যে সামেদ আলীর ছেলে শওকত আলীর নিজের অফিসে একটি বিচার সালিশের সময় চেয়ার টেবিল ভাংচূড় করে। এতে মনোক্ষুন্ন হয় শওকত আলী।


শওকত আলীর সাথে বেয়াদবী করার খবরে রহিম হাজীর শিবির এবার আরো বেশি কট্রর অবস্থান নেন সামেদ আলী ও তার পরিবারের উপর। একদিকে কাশেম নেতা অপরদিকে চেয়ারম্যানের লোকজনদের চাপের কারনে একাধিকবার এলাকা ছাড়া হন সামেদ আলীর পরিবার। এবার সামেদ আলী তার পরিবার নিয়ে পুনরায় এলাকায় ফিরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমে মরিয়া হয়ে উঠে। 

 

এক পর্যায়ে রহিম হাজীকে পিটিয়ে হাত পা ভেঙ্গে  দেয়  সামেদ আলীর লোকজন। এরই সূত্র ধরে গত ২৬ মে আকবর নগরে শুরু হয় পুনরায় রক্তক্ষয়ী টেঁটাযুদ্ধ। ঐদিন রহিম হাজীর পক্ষের বেশ কয়েকজন  টেঁটাবিদ্ধ হয়। অপরদিকে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটেও বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় রহিম হাজীর পক্ষের বেশ কয়েকজন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। ৩০ মে আদালত থেকে জামিনে বেড়িয়ে আসে আসামীরা। 

 

আদালত থেকে জামিনে বেড়িয়ে এসেই গত ৩১ মে দুপুরে সামেদ আলীর বাহিনীর অলিদসহ বেশ কয়েকজন টেঁটাযুদ্ধে আহত হয়। সংঘর্ষের কারণে এলাকার বিভিন্ন বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ঘটে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ফাকা গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় অলিদ (৪০) নামে এক যুবক আহত হন। আহত যুবক আকবরনগর এলাকার মৃত.দুদু মিয়ার ছেলে। তাকে স্থানীয়দের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ টেঁটা যুদ্ধের সময় বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে বলেও জানা গেছে। তবে এ সংঘর্ষের পিছনে ইন্দন দাতা কাশেম নেতা বরাবেরর মতোই রয়ে গেছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে।


এলাকাবাসী জানায়, এলাকায় বেশ কয়েকটি ইট ভাটায় মাটির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে মোটা অংকের চাঁদাবাজীই পুরো আকবরনগরে অশান্ত করে রেখেছে। সেই সাথে রয়েছে নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন এরপুরোটাই কাশেম নেতার নেতৃতে হয়ে হয়ে। নদীতে কখনো সামেদ আলী আবার কখনো রহিম হাজীর লোকজন বালু উত্তোলন নিয়ে বর্তমান সংঘর্ষ জচ্ছে বলেও এলাকাবাসীর দাবী।  টেঁটাযুদ্ধে যে জয়ী হয় পুরো এলাকায় তার আধিপত্য চলে বলেও জানা গেছে। কাশেম নেতাই পুরো আকবরনগরে টেঁটা সরবরাহ করে থাকে বলেও জানিয়েছেন অনেকে।    
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন