রাসেল পার্কে কপোত-কপোতিরা লীলা খেলা দেখায়!
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৪, ০৭:৫১ পিএম
বর্তমান শিক্ষা কারিকুলাম বাতিল করার দাবি জানিয়ে এদেশে ইসলাম বিরোধী কোন কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশ। হেফাজতের একজন নেতা বেঁচে থাকতেও আম-বামদের শিক্ষা ব্যবস্থা জারি করতে দেওয়া হবে না
বলেও জানান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ। গতকাল রোববার চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘বর্তমান জাতীয় শিক্ষা কারিকুলাম এবং নতুন পাঠ্যপুস্তকের বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ শীর্ষক’ আলোচনা সভায় এধরণের দাবি জানান তারা।
সভায় বক্তারা বলেন, আমরা কোন ধর্মের শিক্ষা বন্ধ করতে বলছি না। বর্তমানের এই শিক্ষানীতি বন্ধ করুন। আগে আদমশুমারী লেখা হতো, এখন লেখা হয় না। লেখা হয় জনশুমারী। আস্তে আস্তে তারা এটিকে পরিবর্তন করছে। আমাদের সন্তানকে শিক্ষিত করতে হলে মায়েদের যত্নবান হতে হবে। কিছু নাস্তিক এই দেশকে ধর্মহীন করার জন্য চেষ্টা করছে। এদেশে মনগড়া কোন শিক্ষা ব্যবস্থা জারি করা যাবে না। এ সময় তারা নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন আলেমকে অসম্মান করার ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, এই জাতির সন্তানেরা যেন ভাল মানুষ হয়, ভাল নৈতিকতাপূর্ণ মানুষ হয়, এমন শিক্ষার সিলেবাস প্রণয়ন করুন। হেফাজতে ইসলাম কি পারবে, আর কি পারবে না! হেফাজত ইসলামকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে এখন ভিডিও দেখা শুরু হয়েছে, ইউটিউবে এবং ফেসবুকে।অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও নারায়ণগঞ্জ ডিআইটি মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন,
আমাদের কোমলমতি শিশুরা নিজেদের চরিত্রকে হারিয়ে জিনা, ব্যাভিচার এবং উশৃঙ্খল জীবনের দিকে কিভাবে যেতে পারে সেই সবকিছু তারা শিক্ষা কারিকুলামে নিয়ে আসছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে এভাবে কলংকিত করে এদেশের মানুষকে কিভাবে সোনার মানুষ বানাবেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনি কি একেবারেই ঘুমিয়ে আছেন? যদি শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন না করা হয়, ইসলামকে যদি সামনে না নিয়ে আসা হয়; তাহলে আগামী দিনে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, নারায়ণগঞ্জ আমাদের কিছু বন্ধুরা আমাদের বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে খুব খুশি আছে। তিনি বলেন, তোমরা খুশি হইওনা। মহান রাব্বুল আলামি দেখতেছেন, যাদের বিরুদ্ধে তুমি এসকল কথা বলছো, অচিরেই তিনি তোমাদেরকে পানিশমেন্ট দিবেন, যা ঠেকাবার ক্ষমতা তোমাদের কারও নেই। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহর তরফ থেকে পানিসমেন্ট চলে আসবে। ওলামা ইকরামকে এভাবে তুচ্ছ করে হেয় প্রতিপন্ন করে কথা বলেছে, তোমার জবানকে শান দিয়ে দাও, নতুবা আল্লাহ তোমার জবানকে শান দিয়ে দেবেন।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ভার্চুয়ালি বক্তব্যে বলেন, সত্যের পক্ষে ভূমিকা রাখতে গিয়ে আমাদের অনেকে জুলুমের শিকার হয়েছেন। কারাগার প্রাণপ্রিয় নেতাদের দিয়ে ভরপুর করা হয়েছে। কিন্তু অন্যায় ও বাতিলের সামনে মাথা নত করেন নাই।
তাদেরকে আমি অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাই। আপনারা মিথ্যাশ্রয়ী, হিংস্র কার্যক্রম মোকাবেলা করে যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমাদের উপর আঘাত অনেক এসেছে। আমাদের ভাইদের রক্তে ঢাকা রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। আমরা রক্ত দিয়েছি, জীবন দিয়েছি, কিন্তু সত্যের পথ থেকে সরে যাই নি। কেউ যদি মনে করেন যে, আলেম-ওলামাদের জুলুমের মাধ্যমে দমিয়ে দিবে, ইতিহাস দেখে জানুন, রাসূল ভবিষ্যৎবাণী করেছেন, আল্লাহর পথে থাকা ব্যক্তিদের উপর পৃথিবীর কোন শক্তি, বাতিলদের কোন শক্তি তাদের দমাতে পারবে না।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থসম্পাদক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী বলেন, হেফাজত ইসলাম কি পারবে কি পারবে না। হেফাজত ইসলামকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে ইদানিং দুই-চারটি ভিডিও দেখার সুযোগ হইছে ইউটিউব এবং ফেসবুকে। যারা রাসেল পার্ক নামে একটি প্রতিষ্ঠান বানিয়েছে খুব সুন্দর প্রসংশার দাবিদার, তারা খুব ভালো কাজ করেছেন সেখানে আমাদের নারায়ণগঞ্জের সকলে একটি শ^াস ফেলতে যাবে, ভাইয়ে ভাইয়ে ঘুরতে যাবে, ভাই বোনকে নিয়ে যাবে, মা তার যুবক ছেলেকে নিয়ে যাবে, বাবা তার যুবতী মেয়েকে নিয়ে যাবে এর জন্য বানানো হয়েছে। যারা বানিয়েছে তাদেরকে ধন্যবাদ।
কিন্তু সেখানে কোন কপোত-কপোতীর লিলাখেলা দেখানোর জন্য বানানো হয় নাই। তিনি আরো বলেন, আপনারা সেখানে লিলা খেলা খেলবেন, আল্লামা আব্দুল আউয়াল দা.বা সাহেব আর মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান যদি কোন কথা বলে থাকে, তাদের নামে আপনারা মামলা ঢুকিয়ে দিবেন এতো বড় বুকের পাটা আপনাদের হয়ে গেছে, আমরা যখন জেগে উঠবো আর যাই হোক রফিউর রাব্বির মতো মানুষ একজন বয়স্ক মানুষ, আনিসুর রহমান দিপু আপনারা সেই বয়সের সম্মান টুকুু রাখেন নাই। এতো কটুক্তি কথাবার্তা এই মজলিস থেকে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, অতিবিলম্বে ফেরদাউসুর রহমান সাহেব এবং আব্দুল আউয়াল সাহেবের বিরুদ্ধে যে মামলা সেই সমস্ত মামলা প্রত্যাহার। আমরা কিন্তু আবারো বলি নারায়ণগঞ্জের মধ্যে মাদরাসাগুলোর মধ্যে আলোচিত দেওভোগ মাদরাসা। এই দেওভোগ মাদরাসায় এখন ও পর্যন্ত সভাপতির রূপ অলঙ্কিত করেছেন, আহম্মদ চুনকা সাহেব এই মাদরাসার সভাপতি ছিলেন, সাত্তার সাহেব জাসদ করতেন কিন্ত মাদরাসার সেক্রেটারী। বর্তমান যিনি আছেন মাদরাসার সভাপতি তিনি আওয়ামী লীগের সাথেই সম্পৃক্ত তার বড় ভাই ও ছিলেন আনোয়ার সাহেব দীর্ঘ ৩৫ বছর। কোন মাদরাসা বলতে আওয়ামী বিরোধী ছিলো না।
তিনি বলেন, আমরা ও তো আওয়ামী লীগ নিয়ে কোন এলার্জিতে ভোগী না। আপনারা তো আওয়ামী লীগের উপরে ছাওয়ার হয়ে আছেন, ম্যাডাম নিজের কাজ নিজে করে যাচ্ছেন। কিন্তু আপনার পরিচয় কি, আপনি কোন পরিচয়ে ম্যাডামের নাম বিক্রি করে করে আব্দুল আউয়াল হুজুরের নামে কটূক্তিপূর্ণ বক্তব্যে রাখেন। আপনি কোন ভাষায় আব্দুল আউয়াল সাহেবকে নিয়ে নোংরা ভাষায় বক্তব্যে রাখেন, ভালোয় ভালোয় ভালো হয়ে যান, আর না হয় কিভাবে ভালো করতে হয় হেফাজত ইসলাম তা ভালো করেই জানে।


