ফতুল্লা এলাকায় দীর্ঘদিন গ্যাস নাই সেবা না নিয়েও বিল দিচ্ছে গ্রাহ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ১১:৫২ পিএম
# তিতাস কর্তৃপক্ষের কাজ কি প্রশ্ন গ্রাহকদের
# গ্যাস না থাকলেও প্রতি মাসেই গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৮০ টাকা
নারায়ণগঞ্জ একটি শিল্প নগরী এলাকা। আর এই জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিল্পকারখানা ও ঘনবসতি ফতুল্লা থানা এরিয়াতে। এই শিল্প নগরী এলাকাতে বেশ কয়েকমাস যাবৎই গ্যাস সংকটে দেখা দিয়েছে। আর এই গ্যাস সংকটের কাররে ফতুল্লাবাসীর অনেকটাই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে যে সকল গ্রাহকরা তিতাস গ্যাস কতৃপক্ষের কাছ থেকে গ্যাস সংযোগ নিয়েছে তারা এখন মাসের পর মাস গ্যাস পাচ্ছে না আর গ্যাস না পেয়ে অনেকেই আবার এলপি গ্যাস ব্যবহার করা শুরু করে দিয়েছে।
যা একটি পরিবারের জন্য অনেকটাই কষ্ট সাধ্য হয়ে দারিয়েছে। শুধু তাই নয় মাসের পর মাস গ্যাস না পেলেও প্রতি মাাসেই গুনতে হচ্ছে টাকা যার কারনে গ্রাহকরা লাইন গ্যাসেও টাকা দিচ্ছে আবার এলপি গ্যাসেও টাকা দিচ্ছে। তবে মাঝে মাঝে বাসা বাড়িতে গ্যাস আসলেও তা রান্নার উপযোগী হয়ে উঠেনা।
এদিকে গ্যাস না থাকা সত্বেও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এণ্ড ডিষ্টিবিউশন কো: লি: এর কর্মকর্তারা প্রতিটা গ্রাহকের কাছ থেকে মাসিক বিল আদায় করছে। তবে কি কারণে এই বিল নেওয়া হয় তাও জানেনা। তবে আবার অনেকেই মজা করে বলছেন তারা কি পাইপের বিল নিচ্ছে।
এটা তিতাস কতৃপক্ষের কেমন অবিচার গ্যাস নাই তার পরেও প্রতি মাসে টাকা দিতে আমরা বাধ্য হচ্ছি। এলপি গ্যাস বা কারেন্টের চুলা দিয়ে আমরা আমাদের গ্যাসের চাহিদা পূরণ করছি। তবে এতে করে অনেকেরই সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে বাড়ির বাড়িওয়ারা গ্যাসের বিল দিলেও ভাড়াটিয়ারা টাকা দিতে চায় না কারন তারা মনে করছেন এলপি গ্যাস ব্যবহার করে কেন আবার লাইন গ্যাসের টাকা আলাদা করে দেবো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লাইনের গ্যাস ঠিকভাবে পাওয়া যায়না এর মূল কারন হচ্ছে দিন দিন বেড়েই চলছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ। রাতের আধারে চোরাই ভাবে এ সকল অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয় তিতাসের ভূয়া পরিচয়দান কারী কর্মকর্তা ও ঠিকাদার। বর্তমানে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকাতে বৈধ লাইনের থেকে অবৈধ লাইনের সংযোগ বেশি দেখা যায়। তবে এ সকল অবৈধ লাইন সম্পর্কে তিতাস কর্তৃপক্ষ জানলেও নেয়না কোন ধরণের ব্যবস্থা। ্আর এই সকল অবৈধ গ্যাস সংযোগের পিছনে বেশির ভাগ সময়ই তিতাসের অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত থেকেই এ ধরনের কাজ করে থাকেন। তাই দেখা যায় অবৈধ গ্যাস লাইনের কারনে বৈধ গ্যাস লাইনের গ্রাহকরা ঠিকভাবে গ্যাস পাচ্ছেনা।
অন্যদিকে ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নে বেশ কয়েকমাস যাবৎই গ্যাসের সমস্যা দেখা দিয়েছে বেশির ভাগ সময়ই গ্যাস থাকেনা বসতবাড়িতে। তবে এখন প্রায় দের মাস যাবৎ একেবারেই গ্যাস নেই বল্লেই চলে।
জানা যায়, গত এক মাসেরও বেশি সময় যাবৎ তিতাস গ্যাস কতৃপক্ষ পাগলা তালতলা মাদ্রাসা রোড এলাকায় গ্যাসের লাইনের কাজ করার কারনে কুতুবপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকাতে গ্যাসের লাইন একেবারেই নেই। বিশেষ করে পাগলা, রসুলপুর, বউ বাজার, শাহী বাজার সহ আশে পাশের এলাকাতে দের মাস যাবৎ গ্যাস শুন্য হয়ে পড়েছে। এতে করে অনেকটাই বেকায়দায় পড়েছে এই এলাকার মানুষ।
এ বিষয়ে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহিম দীর্ঘ দিন যাবৎ আমাদের এলাকায় গ্যাস নেই। তিতাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস লাইন বন্ধ করে তারা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের উচিৎ ছিলো বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেওয়া কিন্ত তারা সেটা করেনি। এক মাসেরও বেশি সময় যাবৎ তারা তালতলা এলাকাতে গ্যাস লাইনের কাজ করছে।
আর এই গ্যাসের লাইনের কাজ শেষ না হওয়াতে এই এলাকার মানুষ দের মাস যাবৎ অনেক কষ্ট করছে। তাই তিতাস কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ তাকবে অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে যে এই সমস্যার সমাধান করা হয়। শুধু মাত্র লাইনের কাজের জন্যই গ্যাস বন্ধ না সারাবছরই এই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে প্রতিটা গ্রাহকের। গ্যাস ব্যবহার না করেও প্রতি মাসে গুনতে ১ হাজার ৮০ টাকা।
এ বিষয়ে ফতুল্লা তিতাস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।


