Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

দুর্ঘটনা বাড়লেও ঝুঁকিপূর্ণ বলতে নারাজ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৪, ১১:৫০ পিএম

দুর্ঘটনা বাড়লেও ঝুঁকিপূর্ণ বলতে নারাজ
Swapno

 

 

নারায়ণগঞ্জ থেকে বিভিন্ন জেলায় ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলো অনেক আগে থেকেই ঝুঁকিপুর্ণ। লঞ্চগুলোর ভেতরে এমন অবস্থা যে কোন সময় ঢুকে যাবে পানি। পাশ দিয়ে কোন নৌ যান গেলে ছোট ডিঙি নৌকার মত দুলতে থাকে এবং অনেক সময় তাতে পানিও ঢুকে যায় তার পরেও নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ মালিক সমিতির এসব ঝুঁকি নিয়ে মাথাব্যথা নেই।  বিআইডব্লিউটি এর কিছু অসাধু কর্মকতাকে ম্যানেজ করেই দিনের পর দিন পরিচালনা করে আসছে এসব ছোট লঞ্চগুলোকে। 

 

নারায়ণগঞ্জ থেকে যে সকল লঞ্চ গুলো চলাচল করে সেগুলোর প্রত্যেকটিতেই রয়েছে নিরাপত্তার ঝুঁকি। তাদের চলাচলের উপরে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পুরোনো লঞ্চ বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এক মাস বন্ধ রাখার পর মালিকদের আবেদনে এক বছরের মধ্যে চোট থেকে মডিফাই করে নতুন রূপান্তরের শর্তে ওই লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেয় বিআইডব্লিউটিএ।

কিন্তু দুই বছরের অনেক বেশি সময় বাড়িয়ে নিয়েছে কিন্তু তাদের সেইসব শর্ত এখানো বাস্তবায়ন করেননি লঞ্চের মালিকেরা।  মালিক পক্ষের নেওয়া মেয়াদ শেষ হবে এ জুন মাসের ৩০ তারিখ। তারপরে আবার নতুন সিদ্ধান্ত দিবে বিআইডব্লিউটিএ কমকর্তারা

 

তবে মালিক পক্ষের অবহেলা ও বিআইডব্লিউটি এর উদাসিনতার জন্য এখন ঝুঁকি নিয়েই সেই পুরোনো লঞ্চ চলাচল করছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। গত ২০২১ সালে লঞ্চ দুর্ঘটনায় ৪৪ যাত্রীর প্রাণহানি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিএর অনেক কর্তা বাবুদের ‘ম্যানেজ’ করেই পরিচালনা করে এসব পুরোনো লঞ্চ গুলোকে। ঘাট সুত্রে জানাযায়, বিআইডব্লিউটিএ লোকরা কিছুদিন পরে পরেই তারা অভিযান দেন লঞ্চ গুলোর প্রতি কিন্তু কিছু উৎকোচের মাধ্যমে আবার সেগুলোকে চলাচলের জন্য ছেড়ে দেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ থেকে চলাচলরত লঞ্চগুলো প্রায় ২০ থেকে ৩০ বছরের বেশি পুরোনো।

 

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, নারায়ণগঞ্জ থেকে ছয়টি নৌপথে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৬২টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করত। বর্তমানে এই রুটে ৩৫টি লঞ্চ চলাচল করে। এর মধ্যে ৩২টি  ছোট লঞ্চ ও ৩টি মাঝারি সাইজের লঞ্চ। লঞ্চগুলো নারায়ণগঞ্জ-চাঁদপুর রুটে চলাচল করে। গত ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল শহরের সৈয়দপুর কয়লাঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে বেপরোয়া এসকেএল-৩ কার্গো জাহাজের ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘সাবিত আল হাসান’ ডুবে ৩৪ যাত্রীর মৃত্যু হয়। সাবিত আল হাসান যাত্রীবাহী লঞ্চটি পুরোনো লঞ্চ ছিল।

 

এরপরে গত ২০২২ সালের ২০ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীতে বন্দরের আল আমিন নগর এলাকায় কার্গো জাহাজের ধাক্কায় এম এল আফসার উদ্দিন যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে ১০ জনের মৃত্যু হয়। এম এল আফসার উদ্দিন লঞ্চ। ওই দুর্ঘটনার পর বিআইডব্লিউটিএ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ রুট থেকে চলাচলকারী লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এক মাস নারায়ণগঞ্জ থেকে ছয় নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকে। ওই সময় যাত্রী ভোগান্তি এড়াতে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ রুটে সি-ট্রাক এবং দুটি মাঝাড়ি লঞ্চ চালু করে বিআইডব্লিউটিএ। পরে মালিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এক বছরের মধ্যে  ছোট লঞ্চগুলো মডিফাই করে নতুন রূপান্তরের শর্তে চলাচলের অনুমতি দেয় বিআইডব্লিউটিএ।

 

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের উপ-পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য যুগের চিন্তাকে জানান, এটি ছোট পুরানো লঞ্চ গুলোকে মডিফাই করে হাইডেকে রূপান্তরের শর্তে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সে সময় এর মধ্যে তাদের কথা রাখেনি উল্টা তারা বারে বারে সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেন। কারণ বর্তমানে লঞ্চগুলোতে যাত্রী অনেক কম তাদের খরচ পুশিয়ে উঠতে পারে না বলে জানান তারা। তাই গত দুই বছরেও লঞ্চের মালিকেরা তা বাস্তবায়ন করেননি।

 

তিনি আরো বলেন, নৌপথে যাত্রীসংকটে লোকসানের কারণে ধীরে ধীরে নারায়ণগঞ্জ রুট থেকে লঞ্চের সংখ্যা কমে আসছে। আগে এই রুটে ৭০টি চলাচল করলেও সেটি কমে ৩৪টিতে নেমেছে। যেভাবে যাত্রীর সংখ্যা কমে আসছে, আগামী পাঁচ বছর পর লঞ্চের ব্যবসা থাকবে কি না, সেটি নিয়ে সংশয়। আপনারা দেখেছেন, এখন পর্যন্ত যে সব লঞ্চ গুলো ডুবেছে সবগুলো কারো না কারো সাথে থাক্কা লাগার কারণে। লঞ্চগুলো কিন্তু ঝড় বা অন্য কোন কারনে এখনো ডুবেনি। যার কারণে আমরা বলতে পারি ছোট হলেও এগুলো চলতে পারে। আর যে লঞ্চ গুলো চলাচল করে তাদের সকলের লাইন্সেস এখনো আছে, কারো লাইন্সের এর মেয়দ শেষ হয়নি। কারা তারা প্রতি বছর তাদের লাইন্সের এর নবায়ন করান।

 

এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল বলেন, এই ছোট লঞ্চ গুলো ঝুকিপূর্ণ নয়।  তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে এসব লঞ্চ চলাচল করছে শুধু আমাদের এখানে এগুলা সমস্যা তার কারন কি? তাদের ক্ষমতা বলে তারা আমাদের উপরে আদেশ চাপিয়ে দেন। এখন আর আগের মত ব্যবসা নাই। ডিজি শিপিং থেকে আমাদের মডিফাই নকশা দিচ্ছে না। তারা বলছে আপনারা ১০০ ফুট এর লঞ্চ এর নকশা নিয়ে আসেন আর না হলে নতুন লঞ্চ তৈরির নকশা আসেন আমরা সেটা দিবো। 

 

আমাদের লঞ্চ গুলো মেয়াদ হলো ৪০ বছর মাত্র সেগুলার ২৫/৩০ বছর হয়েছে আরো অনেকদিন চলবে। যেহেতু তারা মডিফাই নকশা দিচ্ছে না, যে লঞ্চ আছে, সেগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলে ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে। যারা বড় লঞ্চ নিয়ে আসবে, আমরা তাদের আসতে বলি আসেন দেখেন কি ব্যবসা আছে এখানে। মেয়াদ শেষ হলে আবার যা করার লাগে আমরা করবো।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন