Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

খানপুরে বসে নোভাতে ডা.অলকের টেষ্ট বাণিজ্যের মহোৎসব

Icon

লিমন দেওয়ান

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৯:২২ পিএম

খানপুরে বসে নোভাতে ডা.অলকের  টেষ্ট বাণিজ্যের মহোৎসব
Swapno

 

 

গণশুনানীর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ডক্টরস ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. অলক কুমার সাহার বিরুদ্ধে ভোক্তভোগী শিল্পী বেগমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট শহরের খানপুর কাজীপাড়া নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার (১২ জুন) দুুপুর দেড়টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দালালদের মাধ্যমে ডাক্তারের টেষ্ট বাণিজ্যের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক। 

 

এবং দালাল সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সকল ডকুমেন্টস যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ’র উপ পরিচালক মঈনুল হাসান রওশনী।

 

অভিযানে সরেজমিনে দেখা যায়, গতকাল দুপুর দেড়টায় খানপুর নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করতে আসে দুদুকের একটি টিম। সে সময় হাসপাতালে অভিযোগকৃত ডা. অলক কুমার সাহাকে না পাওয়া গেলে ও সেখানে পাওয়া গেছে। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডাইরেক্টর রফিকুল ইসলামকে। সে সময় ঘটনাস্থলে থেকেই দুদুক নারায়ণগঞ্জের উপ পরিচালক মঈনুল হাসান রওশনী তাকে বলেন। ডাক্তার অলক কুমার সাহা কি এখানে চেম্বার করেন। ওই সময় রফিকুল ইসলাম একটু নড়ে চড়ে বসে বলেন জ¦ী করেন। পরে তিনি কতদিন যাবৎ এখানে খানপুর ৩০০ শয্যা থেকে রোগী রেফার করে এখানে সিভিসি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি করেন সেটা জানতে চাইলে। 

 

ডাইরেক্টর তখনই উত্তরে বলেন ৩ মাস যাবৎ এখানে তিনি আছেন। পরবর্তীতে দুদুক তাদের অভিযানের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন। রফিকুল ইসলাম সাহেবের কাজ থেকে ডাক্তার অলক কুমারের ১ মাসে কতগুলো আল্ট্রাসনোগ্রাফি করেছেন তার একটি চার্ট চাইলে তারা তা দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে দুদুকের টিম নিজে তাদের কাউন্টারের ভিতরে প্রবেশ করে তাদের সকল বিষয়ের বিভিন্ন্ ডকুমেন্টস দেখতে শুরু করেন। 

 

সে সময় সেখানে অলকের করা অল্প কিছু ডকুমেন্টস পাওয়া যায়। সেই অবস্থায় দুদুকের টিম ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ৩য় তলায় ডা. অলকের চেম্বারে প্রবেশ করেন সেখানে অভিযান পরিচালনা করে সেখান থেকে অনেকগুলো অলক সংশ্লিষ্ট অনেকগুলো ডকুমেন্টস পাওয়া যায় দুদুক সব কিছু জব্দ করেন। ডাইরেক্টর রফিকুলের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছেরর ৪-৪-২০২৪ এই সময়ে ডা. অলক কুমার এই ডায়াগস্টিক সেন্টারে জয়েন হন আর রোগীদের পরীক্ষা করেন। 

 

কিন্তু তার চেম্বার থেকে জব্দ করা ডকুমেন্টস যাচাইয়ের মাধ্যমে সত্যতা উঠে আসে যে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ডা. অলক কুমারের এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে। পরবর্তীতে এই বিষয়ে রফিকুল ইসলামকে জিজ্ঞেস করলে তিনি চুপ হয়ে থাকেন। পরে দুদুকের উপ-পরিচালক মঈনুল হাসান রওশনী রফিকুলকে জিজ্ঞেস করেন আপনাদের আল্ট্রাসনোগ্রাফির নির্ধারিত রেড কত। 

 

পরবর্তীতে তিনি উত্তরে বলেন ১২০০ টাকা এখান থেকে ডা. অলক কুমার সাহা কমিশন পায় কত উত্তরে তিনি বলেন, ৩০০ টাকা পায়। তাদের তথ্য অনুযায়ী নিয়মিত ৫টা আল্ট্রাসনোগ্রাফি হয় যা মাসে কমিশন আসে ৩৫,০০০ হাজার টাকার মতো। কিন্তু সকল ডকুমেন্টস নিয়ে ধারনা করা হয় যে নিয়মিত ২০ থেকে ২৫ টির অধিক ডা. অলক কুমার সাহার রেফারকৃত আল্ট্রাসনোগ্রাফি এই নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হয়ে থাকে। 

 

একই সাথে দুদুকের অভিযান পরিচালনাকালীন নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে উপস্থিত হন, ডা. অলক কুমার সাহার দ্বারা ভূক্তভোগী হালিমা বেগম তিনি ডা. অলকের দেওয়া নোভা ডায়াগনিস্টক সেন্টারের একটি স্লিপ নিয়ে সেখানে আসেন আর তখনই অভিযোগকারী শিল্পী বেগমের মতোই নোভা ডায়াগনিস্টক সেন্টারের একটি স্লিপে ইংরেজী অক্ষরে এ লিখা একটি চিহ্নর দেখা মিলে। তা ছাড়া ডাইরেক্টর রফিকুল সকল বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে অনীহা করায়। 

 

তাদের ডায়াগনিস্টক সেন্টারের আপডেট কাগজসহ কতজন স্টাফ, তাদের জয়েনের সিভি থেকে শুরু করে কতজন পার্টনার এছাড়া ডায়াগনস্টিক সেন্টার সংশ্লিষ্ট সকল ডকুমেন্ট দুদুকের অফিসে পৌঁছে দেওয়ার জন্য শীগ্রই চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়ে দিয়ে যান দুদুকের উপ-পরিচালক। এ ছাড়া ও রফিকুল ইসলামকে সঠিক তথ্য দিয়ে ডকুমেন্ট সাবমিট করতে বলা হয়েছে। তা না করলে বা তথ্যর মধ্যে কোন ভূলক্রটি থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ও হুঁশিয়ারী দিয়ে যাওয়া হয়েছে।

 

সর্বশেষ দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ’র উপ পরিচালক মঈনুল হাসান রওশনী বলেন, গত ৬ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গনশুনানিতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অব্যবস্থাপনা, দালালদের মাধ্যমে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে ডাক্তারদের টেষ্ট বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ উত্থাপিত হয়। গনশুনানিতে সেবাদাতারা অভিযোগ করেন নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডাক্তার অলক কুমার সাহার বিরুদ্ধে।

 

 তখন গনশুনানিতে উপস্থিত প্রধান অতিথি দুদকের মাননীয় কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক স্যার বিষয়টি খতিয়ে দেখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বুধবার নোভা ডায়ানস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কমিশনের ভিত্তিতে ডাক্তার অলক কুমার সাহা রোগী পাঠানোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। 

 

আর তিনি বলেন, এটি একটি অমানবিক কার্যক্রম ডা. অলক কুমার খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের এই সকল পরীক্ষাগুলো থাকা সত্ত্বে ও তিনি এই অল্প কিছু কমিশনের জন্য এই নোভা ডায়াগস্টিক সেন্টারের দিকে রেফার করেন। 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন