# সত্যি বলতে এবার বৃষ্টির কারণে কোন কিছু লাগানো হয়নি : আবদুল হাই
# আমার ফেস্টুন ব্যানার দেখছো, আমি কিভাবে বলবো : আনোয়ার হোসেন
চলছে শোকাবহ আগস্ট। বিগত সময়গুলোতে যেভাবে আগস্ট শুরুর পূর্ববর্তী সময় বা তার প্রথম প্রহর থেকে বঙ্গবন্ধু হত্যার শোকের মাতম চলতো তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি এবারের আগস্টে। যার কারণ হিসেবে শোকাবহ আগস্ট শুরুর মাত্র ১৩ দিন আগে থেকে নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ তান্ডবের প্রভাব পরেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যদিও ভিন্ন দাবি ক্ষমতাসীনদের। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দরা বলছেন, সময় হলে তারা স্বাভাবিকভাবেই তাদের সকল কর্মসূচি পালন করবেন।
এদিকে, ১৮ জুলাই পরবর্তী সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জজুড়ে যে তান্ডব চলেছে তা ঠেকাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এমনকি তার অনেক আগেই লেজ গুটিয়ে নিয়েছিলেন ক্ষমতাসীনরা। ফলশ্রুতিতে, শহরের ২নং রেলগেটস্থ আওয়ামী লীগ কার্যালয় পর্যন্ত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন উত্তর-দক্ষিণ বলয়ের দাপুটে সব নেতাকর্মীরা। তার উপর বিগত বছরগুলোতে আগস্ট পূর্ববর্তী সময়গুলোতে ক্ষমতাসীন দল ও তার অঙ্গ, সহযোগী সংগঠনগুলোকে যেভাবে প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে, সেটা হতে পারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব থাকা বা সড়কগুলোতে ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে। এবার সেটা পরিলক্ষিত হয়নি। এমনটাই মনে করছেন জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অপরদিকে, এসকল বিষয়গুলো মানতে একেবারেই নারাজ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, সবকিছু এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, বৃষ্টি বাধায় তারা আগস্টকে কেন্দ্র করে কোন ব্যানার ফেস্টুন লাগাতে পারেননি। আবার কারও দাবি, তারা বিগত সময়গুলোতে কখনো ব্যানার ফেস্টুনই লাগাননি! সেই ধারাবাহিকতায় এবারও লাগানো হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদলকে একাধিকবার মুঠোফোন করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই যুগের চিন্তাকে বলেন, সত্যি বলতে এবার বৃষ্টির কারণে কোন কিছু লাগানো হয়নি। তবে, আমাদের প্ল্যাকার্ড ফেস্টুন সব রেডি আছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের কোন প্রভাব পরেছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, না না। কোটা এক জিনিস, আগস্ট আরেক বিষয়। প্রকৃতপক্ষে, বৃষ্টির কারণেই আমরা কিছু লাগাতে পারি নাই। বৃষ্টি শেষ হলেই লাগাবো।
একই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রতিবেদকে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, এইটা যার যার প্রিপারেশন থাকে তাদেরকে গিয়ে জিজ্ঞেস করো। দুই এক বছরে কি আমার ফেস্টুন ব্যানার দেখছো? যাদেরকে দেখছো তাদেরকে জিজ্ঞেস করো! তারা কেনো লাগায় নাই। আমি কিভাবে বলবো?
এমন পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৫ বছরেরও বেশি সময়ধরে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। শুরু থেকে ২০২৩ পর্যন্ত তাদের কর্মকান্ড আর ২০২৪ এ তাদের কর্মকান্ডের মধ্যে কোন মিল পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বিগত সময়গুলোতে আগস্ট আসার আগ থেকে তাদের মধ্যে যে শোক পালনের প্রস্তুতি পরিলক্ষিত হতো তা এখন একেবারেই দেখা যাচ্ছে না।
যার অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও আন্দোলনকারীদের তীব্র শক্তি প্রদর্শন। ১৮ জুলাই আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে গেছে স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ তান্ডব। রাজপথ দখলে নিয়ে আন্দোলনকারীরা সরকারি সম্পদগুলোতে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তা এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী আর কোন আন্দোলনেই দেখা যায়নি। সেসময় নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, পিবিআই অফিস, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে শুরু করে বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাদ যায়নি নারায়ণগঞ্জের বুকে থাকা আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস। অথচ, অন্যান্য সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের বলতে শোনা যেতো, নারায়ণগঞ্জের মাটি, আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। তাহলে এ কেমন ঘাঁটি তাদের? সবমিলিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের চরম প্রভাব পরেছে শোকের মাস আগস্টে। ঠিক এ কারণেই অন্যান্য সময়ের মতো এবার শোকের ছায়া পরতে দেখা যায়নি নারায়ণগঞ্জে। মূলত, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের মনে কাজ করছে, শঙ্কা, ভয় আর ঝিমুনি।


