নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানে দেশ ছাড়লেন শেখ হাসিনা
মাহফুজ সিহান
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৪, ০৬:৩৬ পিএম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘিরে নজিরবিহীন ‘গণঅভ্যুত্থানে পতন ঘটলো ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। বাংলাদেশে কোটা সংস্কারকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলনের সূত্রপাত, তার একটি পরিণতি দেখা গেলো শেখ হাসিনার দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে। সরকারকে শুরু থেকেই এই আন্দোলন এবং আন্দোলনকারীদের অনেকটা তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখার প্রবণতা ছিল, এমনকি এক সপ্তাহের ব্যবধানে শত-শত মৃত্যুর পরও পুরো বিষয়টিকে শুধুমাত্র বিরোধীদের ষড়যন্ত্র, এমনকি জঙ্গি হামলা হিসেবে বর্ণনা করে এসেছিলে শেখ হাসিনার সরকার। তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পনের বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়ার স্লোগান, দেয়ালে-দেয়ালে ‘স্বৈরাচার’ লেখা কোনকিছুই যেন আওয়ামী লীগকে স্পর্শ করেনি। তবে শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার গণভবন দখল নিয়েছেন ছাত্র জনতা। এর আগে দেশ থেকে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। গতকাল সোমবার বেলা আড়াইটায় বঙ্গভবন থেকে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। এ সময় তার সঙ্গে তার ছোট বোন শেখ রেহানা ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণভবন অভিমুখে যাত্রা কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা।
এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর বিকেল চারটায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘দেশে একটা ক্রান্তিকাল চলছে। সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ করেছিলাম। আমরা সুন্দর আলোচনা করেছি। সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, একটি অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠন করা হবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীন দেশের সব কার্যক্রম চলবে।’ সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে যাব। এই অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে ওনার সঙ্গে কথা বলব। তাঁর সঙ্গে আলাপ–আলোচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করা হবে।’ সমস্ত হত্যা ও অন্যায়ের বিচার হবে উল্লেখ করে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আপনারা সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখেন। আমরা সমস্ত দায়দায়িত্ব নিচ্ছি। আপনাদের কথা দিচ্ছি, আশাহত হবেন না। যত দাবি আছে, সেগুলো আমরা পূরণ করব। দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে নিয়ে আসব। আমাদের সহযোগিতা করেন। প্রতিটি হত্যার বিচার হবে।’ এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষুব্ধ জনতা আনন্দে ফেটে পড়ে। নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে চতুর্পাশের সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আনন্দ মিছিল আর উল্লাসে ফেটে পড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসময় তাদের সাথে যোগ হয় হাজার হাজার নারী-পুরুষ। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে রাত পর্যন্তু চলে এই আনন্দ উদযাপন। তাদের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরাও আনন্দ মিছিল নিয়ে যোগদান করেন। তবে এর ফাঁকে উত্তেজিত ছাত্র-জনতা আবারো রাইফেল ক্লাব ভবন ভাঙচুর ও আগুন দেয়। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আওয়ামীলীগ নেতা শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি ও জাতীয় পার্টি নেতা সেলিম ওসমানের বাসভবন, হীরাভবন, আজমেরী ওসমানের বাসভবন, নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে হামলা-ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা। আপামর জনতা রাস্তায় নেমে এসে বিজয় উল্লাস করছে। আন্দন মিছিল, কোলাকুলির পাশাপাশি অনেকে মিষ্টি বিতরণ করেছেন। গোটা শহর আনন্দ উল্লাস শুরু করে দলমত নির্বিশেষে মানুষ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন, বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন, ছবি তুলেছেন।
এদিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভারতের গণমাধ্যমে খবর বেরোয়, শেখ হাসিনার বিমান দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের কাছে হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। হিন্দন নদীর ধারে ভারতীয় বিমানবাহিনীর এই ঘাঁটি থেকে তিনি কোথায় যাবেন, সেই বিষয়টিও অজানা। জল্পনা একটাই, হাসিনা ও তাঁর বোন রেহানার পরবর্তী গন্তব্য নাকি লন্ডন। প্রথমে শোনা গিয়েছিল, সোমবার রাতেই তিনি লন্ডনের উড়ান ধরতে পারেন। তার পরে জানা যায়, বৃটেন তার রাজনৈতিক আশ্রয়ের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। যদিও সরকারি সূত্রে এর কোনও সমর্থন মেলেনি। তবে তেমন হলে শেখ হাসিনা আগামী কয়েক দিন দিল্লিতেই ‘সেফ হাউসে’ থাকতে পারেন। তবে ভারতে তিনি কোনও রাজনৈতিক আশ্রয় চাননি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ছাত্রজনতার এ বিজয়কে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে মন্তব্য করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ড. ইউনূস বলেন, আমরা অধীকৃত দেশের মতো ছিলাম। তাদের মনোভাব ছিল একনায়কতন্ত্রের মতো। তারা সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করত। এখন বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীন। এটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা। এখন আনন্দে মেতে উঠেছে সারা বাংলাদেশের জনগণ। সব জায়গায় আনন্দ মিছিল হচ্ছে। আন্দোলনরত সবাইকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি বলেন, এখন আমরা আনন্দ অনুভব করছি। আমাদের এখানে অনেক সমস্যা আছে। আমরা এখন নতুন করে শুরু করতে চাই। আমাদের জন্য সুন্দর একটি দেশ তৈরি করতে চাই। এটা আমাদের অঙ্গীকার। ছাত্র-জনতাই আমাদের ভবিষ্যত। আমরা তাদের নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশবাসীকে শান্ত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার ঢাকা সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ আহ্বান জানান। ছাত্র-জনতা মিলে অভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল উল্লেখ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এই ছাত্র–জনতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি রূপরেখা জাতিরর সামনে উপস্থান করা হবে। সেখানে ফ্যাসিবাদীদের দোসর-সমর্থক কেউ এই জাতীয় সরকারে থাকতে পারবেন না। গতকাল সন্ধ্যায় একটি বেসরকারি টেলিভিশনে কথা বলেছেন নাহিদ ইসলামসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৯ জন সমন্বয়ক।
এদিকে গতকাল রাতে রাষ্ট্রপতি মো.সাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অনতিবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোটা আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠনের লক্ষ্যে সেনাপ্রধান, নৌপ্রধান ও বিমান বাহিনীর প্রধান এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে অনতিবিলম্বে মুক্তির সিদ্ধান্ত হয়। একইসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে এবং সম্প্রতি বিভিন্ন মামলায় আটককৃত সকল বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি যেন কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয় সে ব্যাপারেও সভায় ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
এরআগে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে এমন সংবাদে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩/এ তে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার কার্যালয়ে আগুন দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এছাড়া রাজধানীর ধানমন্ডির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসায় হামলা ও ভাঙচুর করছেন আন্দোলনকারীরা। দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। ফটক ভেঙে হাজারো আন্দোলনকারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় ঢুকে পড়েন। দুপুরে দেশত্যাগের পর গণভবন দখল করে নেয় ছাত্র-জনতা। হাজার হাজার মানুষ ভেতরে প্রবেশ করেছেন। বিক্ষুব্ধদের কেউ কেউ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করছেন। অনেকে আবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামাদি নিয়ে যাচ্ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দেয়ালে গ্রাফিতি এঁকেছেন কেউ কেউ। এসব গ্রাফিতিতে লেখা ছিল, ‘হাসিনা পালাইছে’, ‘লিবারেশন ওয়ার-২০২৪’, ‘বিজয়’, ‘খুনি হাসিনা’ প্রভৃতি। বিভিন্ন ব্যক্তি যেসব সরঞ্জাম নিয়ে যেতে চাইছিলেন, তাঁদের অনেকের কাছ থেকে সেসব সরঞ্জাম উদ্ধার করেন ছাত্ররা। তাঁরা সেগুলো এক জায়গায় জড়ো করেছিলেন। সেগুলোর মধ্যে বিভিন্ন আসবাব ছাড়াও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি ও বইপত্রসহ নানা জিনিস ছিল।
এছাড়া বিকেল হাজার হাজার মানুষ সংসদ ভবনের আঙিনায় প্রবেশ করেছেন। প্রায় প্রতিটি কক্ষ, বাসভবন ও স্থাপনায় ভাঙচুর করা হয়েছে। কেউ কেউ বিভিন্ন ব্যবহার্য সামগ্রী থেকে শুরু করে হাতে সামনে যা পাচ্ছিলেন নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় শিক্ষার্থীর একটি দল তাঁদের থামাচ্ছিলেন। রাষ্ট্রীয় সম্পদ না নিতে অনুরোধ করছিলেন। এ সময় ‘রাষ্ট্রের সম্পদ সবার’ এমন যুক্তি দেখিয়ে কেউ কেউ তাঁদের সঙ্গে তর্কেও জড়িয়ে পড়েন। পরে শিক্ষার্থীদের কড়া প্রতিবাদের মুখে সবাই জিনিসপত্র রেখে যেতে বাধ্য হন। এছাড়া রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। সেখানে দাউ দাউ করে আগুন জলছে। বিক্ষোভকারীরা নানা স্লোগান দিচ্ছিল। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর টায়ার ফ্যাক্টরিসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘর, অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারী ও এলাকাবাসী। ছাত্র-জনতা বিক্ষুব্ধদের ভাষ্য, ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতনের চাপা ক্ষোভের কারণেই এসব ঘটনা ঘটিয়েছেন জনগণ। অপরদিকে শেখ হাসিনার পতনে যারা অগ্রগামী ভূমিকা রেখেছেন, তাদেরকে ‘বীর’ ছাত্র-জনতা আখ্যা দিয়ে বিজয়ের রক্তিম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। একই সঙ্গে তিনি জনতার এই কাক্সিক্ষত বিজয় আনতে গিয়ে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সর্বশেষ আজ মঙ্গলবার সকাল হতে বাংলাদেশের সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) আজ সোমবার রাতে এক বার্তা এ কথা জানিয়েছে। রাতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেয়া স্বাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, তার মা আর রাজনীতিতে ফিরবেন না। “কঠোর পরিশ্রম ও উন্নয়নের পরও কিছু লোক তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়ায় তিনি (শেখ হাসিনা) হতাশ হয়েছেন। তার মা গতকাল রবিবার থেকেই পদত্যাগ করার কথা ভাবছিলেন বলে জানান তিনি। কঠিন সময়ে আবারও প্রকাশ পেল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতার করুণ চিত্র। টানা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা দলটির তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীরা ব্যস্ত ছিল নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দলে। হয়ে পড়েছিল জনবিচ্ছিন্ন। এতদিন পুলিশ ও আমলাদের ওপর নির্ভরশীল আওয়ামী লীগের কী হতশ্রী অবস্থা- এই সংকটে তা স্পষ্ট হয়েছে। একসময়ের প্রভাবশালী দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ও এমপি-মন্ত্রীদের প্রায় সবাই চলে গেছেন আত্মগোপনে। এমতাবস্থায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় সারা দেশের দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সারা দেশে তাদের দলীয় কার্যালয়, বাসা-বাড়ি ও অফিসে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হচ্ছে।


