# ওসমান অনুসারীদের খুঁজছে জনতা, বিগত দিনের জুলুমে ক্ষোভ
# তাদের অত্যাচারে মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত
গত ৫ আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তোপের মুখে পরে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে শাসন করা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন। আর এতে আরেকটি দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একচেটিয়া শাসন এবং শোষন করেছে শামীম ওসমান সহ পুরো ওসমান পরিবার। যাদেরকে গডফাদার, ভন্ডামী, বিশ্ববেহায়া সহ বিভিন্ন উপাদিতে আখ্যায়িত করেছে নগরের রাজনৈতিক বোদ্ধমহল।
এ দিকে ওসমান পরিবারের অন্যতম সদস্য সারাদেশে গডফাদার খ্যাত শামীম ওসমান, তার বড় ভাই সেলিম ওসমান তাদের ভাতিঝা আজমেরী ওসমান মিলে নারায়ণগঞ্জে গত১৬ বছরে বিশাল এক ওসমানীয় সম্রাজ্য গড়ে তুলেন। তাদের এই সম্রাজ্য দিয়ে শহরে আনাচে কানাচে চাদাঁবাজি, টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণ করেছন। কোন সেক্টরে তারা চাদাঁবাজি করতে বাধ রাখেন নাই। নিজেদের গঠিত ওসমানীয় সম্রাজ্যের লোক দিয়ে জেলার ব্যবসয়ী সংগঠন থেকে শুরু করে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের টেন্ডার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করেন।
সেই সাথে শহরের পরিবহন সেক্টরের চাদাঁবাজি, নগরীর বিভিন্ন স্টান্ডে চাদাঁবাজির শিংহভাগের একটি অংশ পর্যন্ত ওসমানদের পকেটে যায় বলে জানানএকাধিক ব্যক্তি। এতো কিছুর পরেও তাদের সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ছাড়া দুই একজন ব্যতিত তেমন কেউ কোন রাও করেন না।সেই সাথে তারাও নিজেদের পতন হয়ে যাওয়ান ওসমানীয় সম্রাজ্যের অনুসারীরা গা ঢাকা দিয়েছে।
শেখ হাসিনার পতনের পরে জনতার আনন্দ উল্লাসে এবার শহরময় মিছিলে স্লোগান হচ্ছে বোরখা শামীম পালিয়েছে। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ব্যক্তি কেন্দ্রিক প্রভাব মুক্ত হয়েছে।তাদের থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্য দলের নেতারাও যেন তাদের মত ব্যক্তি কেন্দ্রিক সম্রাজ্য গড়ে না তুলেন। তাহলে দেখা যাবে ৫ আগষ্টের মত এক মুুহুর্তে সম্রাজ্য ভেঙ্গে যাবে। বছর খানিক আগে এক সভায় শামীম ওসমান বলেছেন, আমি শেখ হাসিনা ছাড়া কাউকে গণায় ধরি না। অথচ এই শামীম ওসমানই যাদের দিয়ে তার সম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন তাদের ফেলে রেখে রাতের আধারে পালিয়ে গেছেন। এখন তাকে ছাত্র জনতা খুজে পাচ্ছে না।
স্বৈরাচার দল হিসেবে ইতোমধ্যে পরিচিতি পাওয়া আওয়ামী লীগের দলীয় স্থানীয় নেতাদের থেকে অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতৃত্বে একচেটিয়াভাবে নিজেদের অনুগত ব্যক্তিদের পদ পদবী দিয়ে প্রভাব বিস্তার করে গেছেন ওসমান পরিবার। তাদের অনুগত ব্যক্তিরা এমপিশামীম ওসমান ও সাংসদ সেলিম ওসমানের নিদের্শের বাহিরে যান নাই।
ওসমানীয় সম্রাজ্যের তালিকায় রয়েছেন, শামীম ওসমানের প্রধান খলিফা হিসেবে পরিচিত ও ফতুল্লার গার্মেন্টস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেক্টরের অলিখিত নিয়ন্ত্রণকারী মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম। তারই ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত ও কমিটি বানিজ্যের টাকায় বিত্তশালী বনে যাওয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল।
আদালত পাড়াকে কুখ্যিগত করে রাখা আইনজীবি ও কমিটি বানিজ্যের হোতা মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, স্কুলের টাকা আত্মসাত করার অভিযুক্ত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু চন্দ শীল, শহরের পরিবহন স্ট্যান্ডের চাদাঁবাজ হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, এলজিইডি নিয়ন্ত্রনে নেওয়া ও কুখ্যিগত করে রাখা নেতা মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, তার ভাগিনা তারই টেন্ডার পরিচালনায় থেকে বিত্তশালী বনে যাওয়া মহানগর স্বেচ্ছা সেবকলীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন, বাংলাদেশ নিটিং ওনার্স এসোশিয়নের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান স্বপন, বর্তমান সভাপতি সেলিম সারোয়ার ।
সকল অপকর্মের হোতা ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম সাউফ উল্লাহ বাদল, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত নেতা ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, ফতুল্লা বালু মহলের নিয়ন্ত্রণকারী আওয়ামী লীগ নেতা আবু মো. শরীফুল হক, কমিটির বানিজ্যে হোতা ও হাটের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকারী নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সেক্রেটারি আল মামুন।
এছাড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া খোকন, মাদক মামলার আসামী মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সেক্রেটারি সাইফ উদ্দিন প্রধান দুলাল, নানা প্রকল্পের টাকা আত্মসাত করে দেয়া বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, চাদাঁবাজির নিয়ন্ত্রনে এক আধিপত্য নেতা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, চাদাঁবাজ, মসজিদের জায়গা আত্মসাত করা নেতা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ইয়াছিন মিয়া।
শহর শ্রমিকলীগের সাবেক সেক্রেটারি কামরুল হাসান মুন্না, ব্যাংক খাতের আধিপত্য বিস্তার করা নেতা জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আবদুল কাদির, সাবেক সদস্য সচিব কামাল,কামালের ভাই জসিম উদ্দিন, তোলারাম কলেজ ভিপি পরিচয়ে এই কলেজকে কুখ্যিগত করে রাখা শামীম ওসমানের ছেলে ওয়ন ওসমানের অন্যতম খলিফা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ, তার প্রধান সহযোগি সাবেক সেক্রেটারি হাসনাত রহমান বিন্দু, জেলা ছাত্রলীগের সাবকে সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ,
সাবেক সেক্রেটারি আশরাফুল ইসলাম রাফেল। ওয়ন ওসমানের পিএস হিসেবে পরিচিত লাভ করে বিত্তশালী বনে যাওয়া যুবলীগ নেতা পরিচয় দেয়া কাউসার আহমেদ। এছাড়া ফতুল্লার ভুমিদস্যুতা, মাদককারবারির নিয়ন্ত্রণকারী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মীর হোসেন মীরু, বন্দর ঘাটের চাদাঁবাজির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণকারী খান মাসুদ, টেন্ডারবাজিতে যুক্ত শামীম ওসমানের শ্যালক পরিচয় দেয়া এহসানুল হক নিপু, দখলদারিতে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, হোসিয়ারি সমিতির আধিপত্য বিস্তারকারী নাজমুল আলম সজল, তার প্রধান সহযোগি কবির হোসেন, চেম্বার অব কমার্সের নিয়ন্ত্রণকারী খালেদ হায়দার কাজল, ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েনের সভাপতি হয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন লিটন সাহা।
ডিস ওয়াইফাই ব্যবসাসহ চাদাঁবাজিতে আধিপত্য বিস্তার করা নাসিক প্যানেল মেয়র আব্দুল করিম বাবু, চাদাঁবাজি এবং বালুমহল নিয়ন্ত্রণ করে বিত্তশালী হওয়া কাউন্সিলর শাহ জালাল বাদল। ক্রিড়া সেক্টর এবং সদর উপজেলার এসিল্যান্ড অফিস নিয়ন্ত্রণ রেখে আধিপত্য বিস্তার করেছে শামীম ওসমানের শ্যালক তানভীর আহমেদ টিটু। তার প্রধান সহযোগি রানাকে দিয়ে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করেছে। এছাড়া সদর উপজেলা এবং জেলা মহিলা সংস্থা একক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে সালমা ওসমান লিপি।
এছাড়া আইন অঙ্গনে আধিপত্য বিস্তারকারী আইনজীবি সমিতির সভাপতি মহসিন মিয়া, এড.আকবর। সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী নিয়ন্ত্রণকারী তেল চোরের হোতা থেকে টাকা কামিয়ে দুর্নীতি মামলার আসামী কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি। চাদাঁবাজিতে অভিযুক্ত নাসিক ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইফতেখার আলম খোকন। এছাড়া আজমেরী ওসমান অনুসারীদের মাঝে সন্ত্রাসী নাসির, সন্ত্রাসী কাজী আমির, বিসিক জুট নিয়ন্ত্রণকারী রকমত উল্লাহ, মনির হোসেন, মুকিত, তেল চোর পাভেল তারা প্রত্যেকেই ওসমানীয় সম্রাজ্যের সদস্য।
ওসমানরা নিজেদের প্রয়োজনে তাদের অনেক আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের পদে রেখেছেন। তারা প্রত্যেকেই ভুমিদস্যুতা, চাদাঁবাজি, টেন্ডারবাজি,মাদককারবারির সাথে জরিত থেকে একক আধিপত্য বিস্তার করেছে। তার বিনিময়ে একেক জনে কয়েক শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছে।
আবার এদের মাঝে অনেকে দুর্নীতির মামলার আসামীও হয়েছেন। ওসমানীয় সাম্রাজ্যের অনুসারীরা দলের চেয়ে ওসমানদের প্রাধান্য দিয়েছেন। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর পরই তারাও এখন উধাও হয়ে গেছে। তাছাড়া তাদের গুরু বা এক কালের গডফাদার হিসেবে পরিচিত শামীম ওসমান শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে আগেই পালিয়ে গেছেন। তাদের মাধ্য নারায়ণগঞ্জের মানুষ অত্যাচার, নির্যাতিত হয়েছে। অনেকে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।


