সন্ত্রাসী শাহ নিজামের কুকর্ম বেরিয়ে আসছে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৪, ০২:২২ পিএম
# নমপার্কে বসে বাহিনী নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রন করতেন
পুরো আগষ্ট মাস কর্মসুচি ঘোষনা করেছিল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতারা। কিন্তু পরিস্থিতির বাধ্য হয়ে সেই আওয়ামী লীগের নেতারা এখন পালিয়ে বেরাচ্ছেন। গত ৪ আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে প্রতিরোধ করার জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তার ফেসবুক আইডিতে ছাত্রলীগ,যুবলীগ, আওয়ামী লীগ সহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান।
কিন্ত তার পরের দিনই শাহ নিজাম নিজেই পালিয়ে আত্মগোপনে যান। মুন্সিগঞ্জের ইসাপুরা থেকে নারায়ণগঞ্জে আস্তানা গড়ে তুলে আধিপত্য বিস্তার করে শাহ নিজাম। সাবেক এমপি শামীম ওসমানের প্রধান খলিফা হওয়ায় তিনি অলিখিত ভাবে সন্ত্রাসী,চাদাঁবাজি,ভুমিদস্যুতা, টেন্ডারবাজি চালিয়ে গেছেন। এমনকি নারায়ণগঞ্জে পুলিশের দরকার নেই মন্তব্য করে বিতর্কিত হয়েছেন। এই মন্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে ফতুল্লার তখনকার ওসি মঞ্জুরকাদের জিডি পর্যন্ত করেন।
এ দিকে গত ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তোপের মুখে পড়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। একই সাথে তিনি দেশ ছেড়ে বারতে গিয়ে আশ্রয় নেন। তার পলায়নের আগেই নারায়ণগঞ্জের গডফাদার খ্যাত সাবেক এমপি শামীম ওসমান পালিয়ে গেছে। সেই সাথে তার প্রধান খলিফা শাহ নিজামও পলাতক রয়েছে। অথচ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিরোধ করতে ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জে প্রকাশ্যে নেমে অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে গুলি ছুরেন শামীম ওসমানের ছেলে ওয়ন ওসমান। এসময় তার খলিফা শাহ নিজাম সহ তার অনুসারীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সন্ত্রাসী শ্হা নিজাম শহরের হকার ইস্যুতে ২০১৮ সনে নারায়ণগঞ্জে প্রকাশ্যে গুলি করেন শাহ নিজাম। তখন শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহচর শাহ নিজাম বিশাল বাহিনী নিয়ে মেয়র আইভীসহ তার লোকদের লক্ষ্য করে শাহ নিজাম প্রকাশ্যে গুলি করেছে যার ছবি গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে রয়েছে।
শাহনিজাম হলো নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের আস্থাভাজন ব্যক্তি ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। নারায়ণগঞ্জে তার একটি বিশাল প্রভাব রয়েছে। যার কারণে অস্ত্রধারী শাহ নিজামকে সকলে ভয় পেত। ওই ঘটনায় অস্ত্রধারীদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার করা হবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এমন ঘোষণাও দেয়। কিন্তু পরে আর কিছুই হয় নাই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, শাহ নিজাম মিছিলের ওপর গুলিবর্ষণ করেছে। নারায়ণগঞ্জের সব মানুষ জানে এ সন্ত্রাসীই নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ সন্ত্রাসীকে নিয়ন্ত্রণ করে। তার নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে নারায়ণগঞ্জের আন্ডারওয়ার্ল্ড। আর তাকে শেল্টার দিচ্ছেন এ শহরের গডফাদার খ্যাত শামীম ওসমান। অস্ত্র প্রদর্শনকারী এসব সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হোক। এই সন্ত্রাসী বাহিনী যেন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পাড়েন তার ব্যবস্থা করার জন্য ছাত্র জনতা থেকে দাবী উঠে।
শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পর থেকে নারায়ণগঞ্জের আন্ডার ওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণকারী যেন পালিয়ে যেতে না পারে। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জের মিতালি মার্কেটের পাশেই শাহ নিজামের নাম ব্যবহার করে তার সন্ত্রাসী বাহিনী ৭২ শতাংম জায়গা দখল করে রেখেছে দীর্ঘ দিন যাবত। ভুমিদস্যুতায় তার বিশাল সিন্ডিকেট বাহিনী রয়েছে। সেই সাথে মাদক কারবারী, ফতুল্লা বিভিন্ন গার্মেণ্টসের জুট সেক্টরে তার লোকজন নিয়ন্ত্রণ করেছে।
এ ছাড়া ফতুল্লার মেঘনা যমুনা ডিপোতে তেল চোর সিনিডকেটে একক আধিপত্য বিস্তার রয়েছে। এই সকল অপকর্ম ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংরোড নামপার্কে বসে নিয়ন্ত্রন করতে শাহ নিজাম। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পান নাই। কেননা তিনি সাবেক প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের প্রধান খলিফা ছিলেন। আর এজন্য ছাত্র জনতা থেকে শুরু করে তার লোকদের মাধ্যমে যারা নির্যাতিত অত্যাচারিত হয়েছে তারা এখন মুখ খুলতে শুরু করেছে। সেই সাথে তাকে যেন গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া হয় সেই দাবী জানানো হয়।


