নিতাইগঞ্জে সিন্ডিকেট ভেঙ্গে পড়েছে বন্ধ হয়েছে ট্রাকে চাঁদাবাজি
পরিচয় প্রকাশ গুপ্ত
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৪, ০৬:১৪ পিএম
ছাত্রদের দেশ কাঁপানো ২১ দিনের গণ-আন্দোলন শেষে গত ৫ আগষ্ট দেশে গণ-অভ্যূত্থান ঘটেছে। এদিন সাড়ে চার শতাধিক ছাত্র-শিশু ও জনতা হত্যার পর রক্তপিশাচ স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা দিশে হারিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তার সঙ্গে পালিয়ে গেছেন তার মন্ত্রী, এমপি ও চেলা-চামুন্ডারা।
নারায়ণগজ্ঞ জেলার চার আ’লীগ এমপির সঙ্গে না’গজ্ঞ-৫ আসনের জাপা এমপিও পিঠটান দিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এদেরকে অনুসরন করে জেলার বিভিন্ন স্তরের চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও ভ’মিদস্যূরাও শহর খালি করে এদিক সেদিক সরে পড়েছে।
বর্তমানে, শহরের ফুটপাত, যানবাহন সেক্টর, কাঁচা বাজার ও পাইকারি বাজারে কোন চাঁদাবাজ ও চাঁদাবাজী নেই বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে, খুচরা বাজারে এর সুফলও ফলতে শুরু করেছে। ভোক্তারা জানিয়েছেন, অত্যন্ত সামান্য হলেও বিভিন্ন পন্যের দাম কমতে শুরু করেছে। গতকাল দ্বিগুবাবুর বাজারে দেড়শ’ টাকা কমে ছয়শ’ ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে গরুর মাংস। শাকশব্জীও কেজি প্রতি পাঁচ থেকে দশ টাকা কমেছে।
বৃহস্পতিবার, শহরের নিতাইগঞ্জে গণ আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতা স্মরনে জেলা ট্রাক, ট্যঙ্কলরি ও কভার্ডভ্যান শ্রমিত ইউনিয়ন এক মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান করেছে। অনুষ্ঠান শেষে তিন ডেগ খিচুরি বিতরণ করা হয়। এ ব্যাপারে আলাপকালে প্রবীন ট্রাক চালক ও ইউনিয়ন নেতা আঃ মালেক বলেন, এতদিন যারা আজমেরি ওসমানের ফটো লাগিয়ে অফিস বানিয়ে এখানে চাঁদা তুলতো, শেখ হাসিনা পলানোর পর তারাও গা ঢাকা দিয়েছে।
ফলে, আমরাও চাঁদা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। ইতিমধ্যে আমরা চাঁদাবাজদের প্রতিরোধ ও অবিলম্বে ইউনিয়ন নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে মিছিল করেছি। ২০ বছর ধরে আমাদের ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে না। ২০০৪ সালে সর্বশেষ শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন হয়েছে। শুধু চাঁদাবাজির স্বার্থে বহিরাগতরা দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন দখল করে আছে। এখানে পন্য পরিবহনকারী প্রতি ট্রাক থেকে দালালি এবং শ্রমিক ও মালিক ইউনিয়নের নামে ষোলশ’ ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়।
প্রতিদিন দেড়শ’ থেকে দুশ’ ট্রাক পন্য বোঝাই করে এখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে। কম করেও প্রতিদিন চাঁদা তোলা হয় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত রহিরাগত দখলদার হিসেবে ইউনিয়ন সভাপতি পদ অলংকৃত করে এসেছেন প্রয়াত জাপা এমপি নাসিম ওসমান, হাজী বজলুর রহমান রিপন ওরফে হাজী রিপন, খাদেম সানাউল্লা প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ।
ট্রাক চালক মোঃ শাহ আলম সিকদার জানান, গত ২০ বছর ধরে দখলদার ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সেক্রেটারি হিসাবে যারা ছিলেন তারা হলেন, মাসুদুর রহমান মানিক ও আনোয়ার হোসেন আনু। শহরের দুজন এমপি সহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্তাব্যক্তিকে এরাই মাসকাবারি চাঁদার ভাগ পৌঁছে দিতেন।
এদিকে, দেশের প্রধানতম পাইকারী পন্য বাজার নিতাইগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাসির আহমেদ জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার পতনের পর নিতাইগঞ্জের বিভিন্ন পন্য ভিত্তিক সিন্ডিকেটগুলিও ভেঙ্গে পড়েছে। বর্তমানে ছাত্ররাও এ বাজার নিয়মিত মনিটরিং করছে। এ কারণে সিন্ডিকেট প্রধানরা বিচলিত। এভাবে চালিয়ে যেতে পারলে অচিরেই ভোক্তা পর্যায়ে এর সুফল পাওয়া যাবে। এন. হুসেইন রনী /জেসি


