Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

‘ত্বকী হত্যার মাস্টার মাইন্ড শাহ নিজাম’

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৪, ১২:৩৪ এএম

‘ত্বকী হত্যার মাস্টার মাইন্ড শাহ নিজাম’
Swapno

 

 

গত ৫ আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তোপের মুখে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারে। পদত্যাগ করতে বাধ্য হন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। পদত্যাগের সাথে সাথেই তিনি দেশ ত্যাগ করে ভারতের নয়াদিল্লি আশ্রয় নেন। তিনি দেশত্যাগ করার পর পরই নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান পালিয়েছে। সেই সাথে ওসমান সাম্রাজ্যের যারা অনুসারী রয়েছে তারাও পালিয়েছে। আবার অনেকে পালাতে না পেরে মানুষের হাতে ধরা পড়ে গণধোলাইয়ের শিকার হন। 

 

তার মাঝে শামীম ওসমানের সহযোগি মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন ছাত্র জনতার মাঝে আটক হয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হন। সেই সাথে তিনি চাঞল্যকর তথ্য প্রদান করেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে যুবলীগ নেতা পারভেজ গুম ও হত্যা, চাষাঢ়ায় ১৬ জুনের বোমা হামলা এবং ত্বকী হত্যা নিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে জুয়েলকে।

 

 শনিবার (১০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তিকে দেখা যায় জুয়েলকে উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে। তবে তারা কারা সে ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ সময় জুয়েল বলেন, পারভেজের গুম আমাদের দলের থেকেই হয়েছে। এখানে শামীম ওসমানের নাম এসেছে। পারভেজের হত্যা শামীম ওসমান করিয়েছে এমনটা চাউর রয়েছে আমাদের মাঝে।

 

তিনি আরো বলেন, গরুর হাটের টাকা তারা নিত। আমরা তাদের কাজগুলো করে দিতাম। ওরা তো অত বড় মানুষের কাছে যেতে পারত না। আমাদের দিয়ে এটা পরিচালনা করত। তিনি বলেন, মাকসুদকে ঢাকা মারা হয়েছে। এটা র‌্যাব করেছে। তবে কে হত্যার পেছনে এটা জানি না। তবে বোমা হামলার ঘটনায় আমাদের নাম আছে। এখানে আমাদের চাষাঢ়ার মানুষের নাম আছে। জুয়েল বলেন, শামীম ওসমানের টাকা পয়সা কোথায় এটা তো আর আমরা জানি না।

 

 তিনি কোথায় টাকা পাঠিয়েছে তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। আমি তো তার অত কাছেও ছিলাম না। তিনি বলেন, আমরা গুলি করিনি। হয়ত আমার মতো দেখতে কেউ। মহানগর ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট মেহেদীও দেখতে আমার মতো। হয়ত ওকে দেখে আমাকে ভেবেছে।


তিনি আরো বলেন, আর জীবনে রাজনীতি করব না। আজকের পর দল ও নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে চলে যাব। ত্বকী হত্যার সাথে আমাদের চাষাঢ়ার লোকজনের জড়িত আছে। ত্বকী হত্যায় সুরুজ, ইউসুফ, ভ্রমর, সীমান্ত জড়িত ছিল। এর মাস্টারপ্ল্যান শাহ নিজাম। রাব্বি সাহেবের সাথে তার দ্বন্দ্ব ছিল। সে রাব্বি সাহেবকে গালি দিয়েছিল, এ নিয়ে শাহ নিজাম আমলাপাড়ায় তাকে পিস্তল ঠেকিয়েছিল।


এছাড়া জুয়েল হাটের টেন্ডার প্রসঙ্গে জানান, গরুর হাটের টাকা ওয়ন ওসমান এবং আজমেরী ওসমান নিত। আমরাতো তাদের কাজ গুলো করে দিতাম। আমরা পরিচালনা করতাম। শামীম ওসমান তার টাকা পয়সা কোন জায়গায় পাঠাইছে এগুলো আমরা জানি না। এসময় তাকে ছাত্রজনতা আটক কের জিজ্ঞেস করে তোরা একচল্লিশ সাল পর্যন্ত না ক্ষমতায় থাকবি। এই নোংরা দল নিয়ে আর কোন দিন মাথা উচুঁ করে দাড়াতে পারবি না তোরা। তখন জুয়েল বলেন, আর জীবনে দল করমু না। আজকের পরে আমি নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে দিয়ে যামুগা। এদিকে জুয়েলের এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে শহর জুড়ে হৈ চৈ শুরু হয়। সেই সাথে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনলে অনেক গোপন তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করা হয়।


উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাঁদেরই টর্চার সেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছেন। অচিরেই তাঁরা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবেন। কিন্তু সে অভিযোগপত্র আজও আদালতে পেশ করা হয়নি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন