Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

আম্মাজান-ভাবীজানে সর্বনাশ

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৪, ১২:৩৫ এএম

আম্মাজান-ভাবীজানে সর্বনাশ
Swapno

 

 

ফতুল্লা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ। সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে বন্দর সর্বত্রই ছিলো তাদের সন্তানদের বাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য। একদিকে আম্মাজান পারভীন ওসমান। অপরদিকে ভাবীজান লিপি ওসমান। আম্মাজানের গুনধর পুত্র আজমেরী ওসমানের ছিলো বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। এই বাহিনীর কাজই ছিলো ধনাঢ্য অথচ নীরিহ ব্যাক্তিদের তালিকা করা। আর রাতের আঁধারে তাদেরকে তুলে এনে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়া।

 

টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই নানা রকম অত্যাচার। অপরদিকে ভাবীজান সালমা ওসমান লিপির কাছে শহরের ধন্যঢ্য ব্যাক্তিরা ধর্না দিতেন নিজেদের কাজ বাগিয়ে নিতে। তার ছেলে অয়ন ওসমান ছাত্রলীগের কোনো পদে না থেকেই ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন বিগত প্রায় ১ যুগেরও বোিশ সময় ধরে। অয়ন ওসমান বাহিনীরও কাজও ছিলো ভাইজানের বাহিনীর মতোই। বড় ভাই আজমেরীর আধিপত্য যেখানে ছোটো ভাই অয়ন সেখানে যেতেন না। আবার ছোটো ভাই অয়নের যেখানে আধিপত্য  সেখানে আজমেরী যেতেন না। দুই ভাই ও তাদের আম্মাজানদের কাছে অদৃশ্যভাবে পুরো জেলার মানুষ জিম্মি হয়েছিলেন। এমন দাবী সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের।    

 

আজমের্রী ওসমান। শহরের মূর্তিমান আতংকের নাম। ফতুল্লা,সিদ্ধিরগঞ্জ,বন্দরে আজমেরীর প্রভাব থাকার কারনে আম্মাজানখ্যাত পারভীন ওসমানের কদর ছিলো ফতুল্লা,সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরের সন্ত্রাসীদের কাছে। আজমেরীর বেশি সহানুভুতি পেতে আম্মাজানের বলয়ে গিয়ে মিশেছিলেন অনেকে। এর মধ্যে বিশেষ পেশার অনেকেই ছিলেন। আজমেরী তার বাহিনীকে যেমন মোটর সাইকেল কিনে দিতেন,তেমনি আম্মাজানের লোকজনদেরও কিনে দিতেন মোটর সাইকেল। আর এ মোটর সাইকেলে করেই সন্ত্রাসীরা পুরো জেলায় রাজত্ব চালিয়ে গেছেন। বিশেষ পেশার নামধারী অনেকে তথ্য দিতেন ধনাঢ্য ব্যাক্তিদের। 

 

জেলার ঝুট,বালু মহাল,পরিবহন সেক্টর ছিলো আম্মাজান পারভীন ও তার ছেলে ভাইজান আজমেরীর করায়াত্বে। জেলার বিরোধপূর্ন জমি জমার কাজগুলো মা ছেলে মিলেই নিজেদের আদালতে বসে সমাধান দিতেন। আর এর বিনিময়ে দুজনেই হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক হাজার কোটি টাকা। দীর্ঘ এক যুগে জেলা জাতীয় পার্টি ও আওয়ামীলীগে মা ছেলের কোনো অবদান না থাকলেও তারা দুইটি দলেরই ছিলেন হর্তাকর্তা।

 

 চাচা শামীম ওসমান ভাতিজা আজমেরী ওসমানের কোনো কাজেই বাধা দিতেন না। কখনো প্রতিবাদও করেনি ভাতিজা আজমেরী ও ভাবী পারভীন ওসমানের কোনো কাজে। মা-ছেলে শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের   কোনো কথারই কর্ণপাত করতেন না। ফতুল্লা,সদরে আওয়ামীলীগের রাজনীতি ধ্বংসের মূলে আজমেরী ও তার মা। এমন দাবীও ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের।

 

অপরদিকে, ভাবীজান সালমা ওসমান লিপি যিনি শামীম ওসমানের সহ ধর্মিনী।  নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থার সভানেত্রীও তিনি স্বামী শামীম ওসমানের বদৌলতে পেয়েছিলেন। ফতুল্লা ও সদর থানায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য যারা নির্বচিত হতে চেয়েছেন তারা লিপি ওসমানের সাথে সু সম্পর্ক রাখলেই তাদের পথ পরিস্কার হয়ে যেতো। এই ভাবীজানের সাথে বিশেষ পেশার অনেকেরই ছিলো দহরম মহরম সম্পর্ক । পুরো জেলাকে পরিবারতন্ত্র করে রেখছিলেন ওসমান পরিবার। ভাবীজানের ছেলে অয়ন ওসমান ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের আরেক হর্তাকর্তা। অয়ন ওসমানের আর্শিবাদপুষ্টরা ভাবীজানের বাহিনী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।


সূত্রের দাবী, আম্মাজান ও ভাবীজানের নিয়ন্ত্রণে ছিলো জেলার প্রতিটি সেক্টর। ঝুট,নিটিং থেকে শুরু করে পরিবহন সেক্টরেও ছিলো তাদের আধিপত্য। জেলা ও থানা আওয়ামীলীগের পদ বানিজ্য ছিলো ছিলো ভাবী জানের দখলে। লিপি ওসমান ম্যানেজতো অনেক কিছুই ম্যানেজ।  বিশেষ করে নির্বাচনের সময় লিপি ওসমানের পাল্লা বেশি ভারী হয়ে উঠতো। সন্ধ্যার পর থেকেই শামীম ওসমানের অবর্তমানে অনেক নেতাকর্মীই লিপি ওসমানের দ্বারস্থ হতেন। নিতেন অনেক সুবিধাও। শামীম ওসমানকে ম্যানেজ করতেই ঢাল হিসেবে পারভীনকে ব্যবহার করতেন অনেকে।  


সূত্র আরো জানায়, আম্মাজান ও ভাবীজানের কারনেই তাদের দুই সন্তান আজমের‌্যী ও অয়ন অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেন। সবচেয়ে বেশি বেপরোয়া ছিলেন আজমেরী। বছরের পর বছর ধরে আজমেরী শহরময় ছিলেন মূর্তিমান আতংক। গোয়েন্দা রিপোর্টে নানা তথ্য উর্দ্বতন কর্মকর্তার কাছে থাকলেও আম্মাজান ও ভাবীজানের দূর্গ ছিলো সুরক্ষিত। কোটা সংস্কার আন্দোলনের পুরো দেশ যখন উত্তাল তখনই আম্মাজান ও ভাবীজান গা ঢাকা দিয়েছেন অজানার উদ্দেশ্যে। পুরো সাম্রাজ্য ধ্বসে পড়েছে তাদের। সেই সাথে জেলা জুড়ে রেখে যাওয়া আম্মাজান ও ভাবীজানের পালিত সন্ত্রাসীরা চলে গেছে পর্দার অন্তরালে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন