দুর্নীতিতে অভিযুক্ত মুক্তা ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে আসতে মরিয়া
রাকিবুল ইাসলাম
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৪, ১২:০৫ এএম
# আজমেরী ওসমানের কাছ থেকে মোবাইল উপহার নেন মুক্তা
# তিন’শ শয্যা হাসপাতালে আসতে বিএনপি নেতা দিয়ে তদবীর
আমরা প্রায়ই নৈতিকতা, মানবতা এবং ব্যক্তিগত পরিবর্তনের কথা বলি, কিন্তু বাস্তবতা হলো অধিকাংশ মানুষ নিজে থেকে পরিবর্তিত হতে অনিচ্ছুক। এই কারণে দুর্নীতি, স্বার্থপরতা এবং অসততার বিস্তার দিন দিন বাড়ছে। দুর্নীতির সুবিধা নেয়ার জন্য সরকারি বেসরকারি কিংবা শায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে সরতে চান না অনেকেই।
তাদের অন্যতম নারায়ণগঞ্জের ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযু নগরীর খানপুর ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে দুই কর্মচারীকে তাদের দায়িত্ব থেকে অন্যত্রে বদলী করার পরেও বিভিন্ন অসৎ উপায়ে অর্থের বিনিময়ে তারা এখানে আসার জন্য দৌরঝাপ করে যাচ্ছে।
এদিকে জানাযায় নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের সাবেক প্রধান সহকারি কর্মচারী নাসরিন সুলতানা মুক্তাকে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে এই হাসপাতাল থেকে বদলি করে ঢাকার দোহার উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেন কাজ করে কোন মজাই পাচ্ছেন না। ঘুরে ফিরে বার বার নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে আসার অস্থির হয়ে রয়েছেন।
খানপুর হাসপাতালের কোয়ার্টে থাকায় এখানে তিনি ক্লিনিক মালিক হিসেবে পার্টনার রয়েছে। সেই সুবাধে তিনি এই হাসপতালে দালালদের পালেন। তাছাড়া হাসপাতালে একাধিক কর্মচারী জানান এই মুক্তা নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নাম ব্যবহার করে হসপিটালে প্রভাব বিস্তার করেছে। সেই সাথে ডাক্তার, নার্সদের সাথে রূঢ় আচরণ করতেন। দুর্নীতিতে অভিযুক্ত মুক্তা এবার ভোল্ট পাল্টিয়ে সম্প্রতি ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের কর্মচারীদের বলে বেরাচ্ছেন তিনি বিএনপির এক নেতার মাধ্যমে বদলী হয়ে আবারও এখানে খুব তারাতাড়ি ফিরে আসছেন।
খানপুর ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে কর্মরত থাকা কালিন সময়ে নানা অপকর্ম করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে মুক্তার বিরুদ্ধে।
তাছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিষয়ে সাস্থ্য মন্ত্রাণালয়ে অভিযোগ দেয়ার প্রেক্ষিতে তাকে বদলী করা হয়েছে। হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী জানান, এই মুক্তা ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে যখন ছিলেন তখন তিন ওসমান পরিবারের আজমেরী ওসমান নাম ব্যবহার অনেক লেকাকে বাসায় গিয়ে টিকা প্রদান করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া অনেকে তাদের নাম বলে টিকা দিয়ে দিতেন।
এতে করে সে কমিশন বানিজ্য করে টাকা কামিয়ে নিতেন। এছাড়া আজমেরী ওসমানের পরিবারের সকল সদস্যদের করোনা টিকা প্রদান করায় তাকে দামী এন্ড্রোয়েট মোবাইল উপহার দিয়েছে। আর এজন্য দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হওয়ার পরেও মুক্তা পার পেয়ে যায়। না প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, মুক্তা সম্প্রতি ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে কয়েকজনের কাছে বলে বেরাচ্ছে মুন্সিগঞ্জ বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান সিনহা তার মামা হন।
তার মাধ্যমে তিনি দ্রুত বদলী হয়ে আবারও নারায়ণগঞ্জে আসছেন। এখানে এসে আবার তিনি নানা ভাবে দুর্নীতি করে মোটা অংকের টাকা ফায়দা নিতে মজে যেতে পারবেন বলে অনেকে মনে করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৩ সনের ৬ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের পক্ষে সহকারী পরিচালক ডা. মুহাম্মদ মইনুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের প্রধান সহকারী নাসরিন সুলতানা ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর সোহেল রানাকে দুর্নীতির অভিযোগে বদলির আদেশ দেয়া হয়। তাদের মধ্যে নাসরিন সুলতানাকে ঢাকার দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সোহেল রানাকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে।
একাধিক বিশ্বস্ত সুত্র জানান, ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের প্রধান সহকারী নাসরিন সুলতানা মুক্তা ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর সোহেল রানার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার মাঝে সম্প্রতি ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের ৪০ জন আউট সোর্সিং নিয়োগের চাকুরী প্রার্থীদের থেকে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ করে টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে চাকরী প্রার্থী কেউ মুখ খুললে তাদের চাকরী হবে না বলে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের একাধিক ব্যক্তি জানান, মুক্তা সিন্ডিকেট গড়ে তোলে ৩০ লাখ টাকা দিয়ে হাসপাতালের পাশেই গ্যাষ্ট্রলিভ ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার কিনে নিয়ে তারা চালাচ্ছেন। তিনি থাকা কালিন সময়ে খানপুর হাসপাতালের ডাক্তারদের জিম্মি করে রোগীদের বিভিন্ন ডিজিটাল পরীক্ষা হাসপাতালে না করে তাদের ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে করার জন্য বাধ্য করেছিলেন।
মুক্তা হাসপাতালে এই পরীক্ষা গুলোর মাধ্যমে নিজেরা মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতেন। অথচ একই পরীক্ষা সরকারি ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে অল্প খরচে করা যায়। কিন্তু সেখানে করতে দিতেন না। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে মুক্তা বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের থেকে অর্থ নিয়ে তাদের বাসায় গিয়ে করোনা টিকা দিতেন। যা অনিয়মের মাঝে পরে। এইভাবে তার বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগের শেষ নেই। তবে তারা যেন কোন ভাবে তাদের কর্মকান্ড থেকে রেহাই না পান সেই দাবী জানান হাসপাতালের কর্মচারীরা। এবিষয়ে নাসরিন সুলতানা মুক্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।


