Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

শেখ রাসেল পার্কের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ত্বকী পার্ক’ করার দাবি

Icon

সৈয়দ রিফাত:

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৪, ০৮:৫৫ পিএম

শেখ রাসেল পার্কের নাম পরিবর্তন  করে ‘শহীদ ত্বকী পার্ক’ করার দাবি
Swapno

 

 

প্রতিবাদের কারণে ত্বকীর মৃত্যু, তার নামে পার্ক হতে পারে: আরিফ বুলবুল

শেখ রাসেল শিশু ছিল, নাম পরিবর্তনের বিষয় সমর্থন করি না: রফিউর রাব্বী

 

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগস্থ শেখ রাসেল পার্কের নাম পরিবর্তন করার দাবি উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে। এ নিয়ে আরিফ বুলবুল নামের একজন তার আইডিতে লিখেছেন, রাসেল পার্কের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ত্বকী পার্ক’ রাখার আহবান রইলো। আশা করি এটাতে কারও আপত্তি হবে না। এ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে নানান মন্তব্য করেছেন নেটিজেনরা। অনেকেই তার এই আহবানে সাড়া দিয়ে সহমত প্রকাশ করেছেন আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, বিতর্কের কি দরকার! যদিও নাম পরিবর্তনের এই বিষয়টির পক্ষ নেননি সাংস্কৃকিত ব্যক্তিত্ব ও প্রয়াত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বী। তার মতে, শেখ রাসেল পার্ক নামটাই ঠিক আছে।

 

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ফেইসবুক আইডিতে শেখ রাসেল পার্কের নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গ নিয়ে পোস্টটি করেন আরিফ বুলবুল নামের একজন। যেখানে শতাধিকেরও বেশি মানুষ পক্ষে বিপক্ষে নানা মন্তব্য করেছেন।

 

আরিফ বুলবুলের ওই পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষই শেখ রাসেল পার্কের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ত্বকী পার্ক’ করা প্রসঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে সুমন মাহবুব নবী নামের একজন লিখেছেন, নিজ শহরের সন্তানের নামেই নামকরণ হোক। মো. তানভির সজিব সিরাজ নামের একজন লিখেছেন, মানলে ভালো কিন্তু মানবে না তো! বায়েজিদ আলম জুবায়ের নিপু নামের একজন লিখেছেন, বুলবুল তোমার সুন্দর প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ। সৈয়দ রিফাত নামের একজন লিখেছেন, ‘দারুণ প্রপোজাল’। অবশ্য, বিপক্ষেও মত দিয়েছেন অনেকে। 

 

কেউ আবার ত্বকীর নামের আগে শহীদ ব্যবহার করা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। অনেকেই আবার নাম পরিবর্তনের আগে ত্বকী হত্যার বিচারের দাবি তুলেছেন। তাদের মধ্যে ওয়াহিদ মাহমুদ নামের একজন লিখেছেন, ত্বকী হত্যার বিচার হোক কিন্তু নামের রাজনীতি আর চাই না। দিপু মাহমুদ লিখেছেন, ত্বকী পার্কই কেনো রাখতে হবে চঞ্চল পার্ক কেনো নয়? আবদুল্লাহ আল মুইজ লিখেছেন, ত্বকীর নামে পার্ক হবে না রাস্তা হবে তার চাইতে জরুরী ন্যায়বিচার। বরং বিচারের দাবি তুলুন- এসব আবেগ পরে করেন। শরিফুল ইসলাম শিপলু নামের একজন লিখেছেন, আমার আপত্তি আছে। অবেগে দেয়া প্রস্তাব। ত্বকী হত্যার কারণ আর শহীদ হওয়া মনে হয় এক হবে না। নারায়ণগঞ্জ নগর পার্ক হতে পারে।

 

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পোস্টকারি আরিফ বুলবুল যুগের চিন্তাকে বলেন, বাংলাদেশের সবকিছুর নাম একটি পরিবারকে কেন্দ্র করে। এটা দেখতে খুবই অশোভন। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমরা যদি সত্যিকারের মেধা এবং আমার শহরের সত্যিকারের প্রতিবাদী মানুষদের মূল্যায়ন করতে যাই তাহলে প্রতিবাদের কারণে ত্বকী তার মূল্যবান জীবন দিয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে পার্কটির নাম যদি ত্বকীর নামে হয় বা অন্য কারও নামে হয় যারা প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজের জীবন দিয়ে গেছে সেটা হলেও হতে পারে। ত্বকীর নাম প্রস্তাব করার কারণ, সে আমার খুব কাছের মানুষ ছিল। ঠিক সে কারণেই তার কথাটাই আমার মাথায় প্রথম এসেছে।

 

ত্বকীর নামের আগে শহীদ যোগ করা প্রসঙ্গ নিয়ে অনেকেই বিরূপ মন্তব্য করছেন। এই বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ত্বকীর নামের আগে শহীদ যোগ করা হলে সমস্যার তো কিছু নেই। কারণ আমাদের ভারতবর্ষের ইতিহাস যদি দেখা হয় সেক্ষেত্রে ইংরেজ বিরোধী সংগ্রামে যারা মারা গেছেন তাদেরকেও শহীদ বলা হয়। 

 

সেখানে হিন্দুদেরকেও শহীদ বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে শহীদ নামটা শুধু ইসলামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এসময় প্রতিবেদককে উদ্দেশ্যে করে আরিফ বুলবুল বলেন, আবার যদি আপনি বুখারী শরীফ দেখেন সেখানে দেখা যাবে, পানিতে ডুবে যদি কেউ মারা যায় অথবা শ্বাসরোধে কারও মৃত্যু হলে তাকেও শহীদের মর্যাদা দেওয়া হয়। তাছাড়া আমি তো শুধু প্রস্তাব রেখেছি। জণগনের কাছে এটা আমার ব্যক্তিগত চাওয়া। এখন যদি জণগন সমর্থন দেয় তাহলে শেখ রাসেল পার্কের নাম পরিবর্তন করে শহীদ ত্বকী পার্ক রাখা যেতেই পারে।

 

তবে, এ নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও নিহত ত্বকীর পিতার রফিউর রাব্বী। যুগের চিন্তাকে তিনি বলেন, সত্যি বলতে নাম পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়াটাকে আমি সমর্থন করি না। তার কারণ হিসেবে আমি বলতে চাই, শেখ রাসেল যেহুতু শিশু ছিল সেহুতু তার প্রতি আমাদের একটা আবেগ কাজ করে। সুতরাং এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে এখনই নাম পরিবর্তন করে ফেলতে হবে সেটার সাথে আমি একমত নই। এই বাচ্চা শিশুর নামে একটা পার্ক করা হয়েছে এবং কিভাবে করা হয়েছে সেটা আমরা সকলেই জানি।

 

 তাছাড়া সেসময় যদি এই নামটা ব্যবহার না করা হতো তাহলে হয়তো এই পার্কটাই নির্মাণ করা হতো না। সুতরাং সেসময় এই কৌশলটা অবলম্বন করতে হয়েছিল। এখন এক সপ্তাহ না যেতেই নাম পরিবর্তন করার যে দাবি করা হচ্ছে সেই বিষয়টা ব্যক্তিগতভাবে আমি ভালোভাবে দেখছি না।

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন