গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ করে নিজেদের লোক বসিয়ে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গুলোকে দুর্বল করেছে। আর এতে করে বিভিন্ন সেক্টরের লোকেরা আওয়ামী লীগের এমপি মন্ত্রী থেকে শুরু করে দলীয় নেতাদের সাথে সখ্যতা অনিয়ম করে পার পেয়ে গেছে। অনেকে দুর্নীতি করলেও তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নাই। কিন্তু ইতোমধ্যে দুর্নীতি করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কেউ কেউ রিমান্ডে রয়েছেন। তবে গত ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই পরিবর্তন হয়।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের আরএমও ডা. ফরহাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মসহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এতে করে তিনি অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে বিভিন্ন ভাবে অবৈধ টাকার কামিয়েছেন বলে জানান একাধিক ব্যক্তি। এই ডাক্তারের অনৈতিক কাজগুলো ডিল করতেন তারই একান্ত সহকারি টিটু। অথচ তার কোন নিয়োগ ছিল না। টিটুর মাধ্যমে অবৈধ কর্মকান্ড করে দুর্নীতি করে টাকা নিতেন আর এমও ডা. ফরহাদ। তারন ভাগ সিভিল সার্জনও একটা অংশ পেতেন বলে জানান একাধিক কর্মচারী। তাদের কর্মকান্ডের জন্য এমতাবস্থায় সেবামূলক পেশায় থাকা অনেকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী জানান, বিভিন্ন ক্লিনিক, ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের দালালদের শেল্টার দিয়ে মাসোয়ারা নেন টিটুর মাধ্যমে ডা. ফরহাদ। এই টিটুর বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার এলাকায় অবস্থিত। তাকে ব্যক্তিগত ভাবে হাসপাতালে রেখে সকল ধরনের অনৈতিক কাজ গুলো করতেন ডা. ফরহাদ। তার মাঝে অন্যতম হলো বিভিন্ন ধর্ষণ মামলার রিপোর্ট পজিটিভ নেগেটিভ করে কোটি টাকা কামিয়েছে। এছাড়া দালালের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে তার পার্টনার মালিকনাধীন প্রতিষ্ঠান মেডি লাইফ ও সিটি ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে রোগি নিয়ে মাসে ১০ লক্ষ টাকার কমিশন বানিজ্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া নির্বিচারে কমিশন ও টেস্ট বাণিজ্য করে যেতেন তিনি।
তা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সার্টিফিকেট বিহীন অদক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে রোগ নির্ণয় করে সাধারণ রোগীদের ভুল চিকিৎসার মুখে ঠেলে দেওয়া; আইসিইউ, ভেন্টিলেশন সাপোর্ট ও সেন্ট্রাল অক্সিজেনের নামে ছলচাতুরি ও রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করাসহ নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে তার মালিকাধীন ক্লিনিক,ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। এগুলো বন্ধেও নেই কোনো অভিযানিক তৎপরতা।
ডা. ফরহাদের প্রতিষ্ঠানের পার্টনার ছিল সাবেক এমপি শামীম ওসমানের কথিত শ্যালক পরিচয়দানকারী অপুর নাম এই অপকর্মে উঠে আসে। তাছাড়া ঔষধ কোম্পানির লোকদের সাথে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে মাসে মাসোয়ার নিতেন। যা কোন ভাবেই আর এমও হয়ে ডা. ফরহাদ তা করতে পারেন না। গত ৫ আগষ্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগের পরে ডা.ফরহাদের একান্ত সহকারি টিটু পলাতক রয়েছে। তাই ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের অনেক কর্মচারী টিটুকে খুজছেন। এই টিটু হাসপাতালের কোন কর্মচারী না হয়েও ডাক্তার থেকে শুরু করে কর্মচারীদের উপর অত্যাচার, প্রভাব বিস্তার করে তাদের সাথে অশোভন আচরন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এই সকল কিছু করতেন গডফাদার খ্যাত প্রভাবশালী সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানের কথিত শ্যালক অপুর প্রভাব বিস্তার করে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী জানান, ডা. ফরহাদ তার সহকারি টিটুকে দিয়ে ২০২২ সনের ১ সেপ্টম্বর পুলিশের বুলেটে নিহত হওয়া যুবদল নেতা শাওন হত্যার পোষ্ট মর্ডেম রিপোর্ট পাল্টিয়ে সঠিকটা না দিয়ে অন্য রিপোর্ট দিয়েছে। যুবদলেল এই নেতা পুলিশের বুলেটে নিহত হলেও তা উল্লেখ্য না করে আঘাত পেয়ে মারা গেছে বলে উল্লেখ্য করা হয়। সূত্র জানিয়েছে, এটি ১২ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা বিনিময়ে তা পাল্টানো হয়। আর এজন্য এখন তার বিচার পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরী হয়ে রয়েছে।
অপরদিকে চিকিৎসা ব্যবস্থার অনিয়ম দুর্নীতি আদৌ বন্ধ করা যাবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এতে উল্টো বেসরকারি চিকিৎসা খাতে অপচিকিৎসা ও অব্যবস্থাপনা আরও বাড়বে এবং একশ্রেণির অতিলোভী মানুষ টাকা খরচ করে লাইসেন্স বাগিয়ে নিয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো আরও হাজার হাজার মানহীন নতুন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে বলে মনে করেন তারা। এছাড়া সরকারি হাসপাতালের অনেক ডাক্তারও অতিলোভের কারনে নানা ভাবে অনৈতিক কাজে জরিয়ে পরছে। আবার মালিকানায় থাকেন সরকারি হসপিটালের প্রভাব বিস্তার করা ডা. ফরহাদের মত ব্যক্তিরা। তাই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী উঠে।
যুবদল নেতা শাওন হত্যার রিপোর্ট পাল্টানো নিয়ে ইতোমধ্যে হৈ চৈ শুরু হয়ে গেছে। কেননা ভুক্তভোগি পরিবার মামলা করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। কেননা তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় তখন এই হত্যার বেপারে তারা কোন বিচার পান নাই। তাই এতে করে জেলা পুলিশ সুপার এসপি রাসেল থেকে শুরু করে ডাক্তার ফরহাদ সহ যারা জরিত রয়েছে তারা বেকায়দায় পরতে যাচ্ছেন।
জেলা যুবদলের সভাপতি সাদেকুর রহমান সাদেক জানান, ৫ আগষ্টের প্রেক্ষপট আর এখনকার প্রেক্ষাপট এক নয়। তখন আওয়ামী লীগের জুলুম নির্যাতন অব্যাহত ছিল। আদালতকে তারা কুখ্যিগত করে রাখায় আমাদের দল জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রুহুল কবির রিজবি নারায়ণগঞ্জ আদালতে এসে শাওন হত্যায় মামলা করতে চাইলেও তখন মামলা নেয়া হয় নাই। শাওন প্রধান আমার কর্মি ছিল। তাকে যখন হত্যা করা হয় তখন আমাদেরকে জানাযা দিতে দেয়া হয় নাই। তারা অমানুষের মত কাজ করেছে। শাওনের পক্ষে আমি বাদি হয়ে মামলা করবো। আর এই মামলায় পুলিশের এসপি গোলাম মোস্তফা রাসেল, ডাক্তার ফরহাদ, সিভিল সার্জন সহ যারা জরিত রয়েছে তাদের নাম ভুক্ত করা হবে। যুবদল নেতা শাওন হত্যার ন্যায় বিচারের জন্য আমরা লড়াই করে যাবো।


