Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

গোগনগরের সন্ত্রাসীরা নতুন রূপে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৪, ১২:১৭ এএম

গোগনগরের সন্ত্রাসীরা নতুন রূপে
Swapno

 

 

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রের মহড়া হচ্ছে। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের চর সৈয়দপুর এলাকার কাশের সম্রাট ও রানার বাহিনী অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠে। একই সাথে রানার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবী জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সহ প্রশানের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও তা উদ্ধার করা হয় নাই। সম্প্রতি বৈষম বিরোধী আন্দোলনে ৪ আগষ্ট নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের ১৪২ টি অস্ত্র লুটপাট হলেও তার মাঝে ৪টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

 

 শহরে আলোচনা হচ্ছে এই লুটপাটে গডফাদার শামীম ওসমানের পুত্র ওয়ন ওসমানের অস্ত্রবাহিনী কাসেম রানা তাদের লোক নিয়ে তা করেছে। তাছাড়া ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি, মন্ডলপাড়া ব্রীজ, নিতাইগঞ্জে অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্রদের উপর গুলি ছোড়েন ওয়ন ওসমান সহ তার অস্ত্রবাহিনী। কিন্তু ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসীদের গডফাদার খ্যাত হিসেবে পরিচিত সাবেক সাংসদ শামীম ওসমান, তার ছেলে ওয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমানের নামে মালা হলেও তাদের লালিত পালিত অবৈধ অস্ত্রধারী অনেকেই মামলা থেকে রক্ষা পান। অথচ ওয়ন ওসমানের সাথে অস্ত্র নিয়ে গোলাগুলিতে ছিলেন একাধিক বিশ্স্ত্র সুত্র জানান।


এদিকে অভিযোগ রয়েছে গোনগর সৈয়দপুর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী দৌলত মেম্বারের পুত্র কাশেম সম্রাট ও রানা বিাহনীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা থেকে শুরু করে, চাদাঁবাজি, ছিন্তাই মাদককারবারির মামলা রয়েছে। কাসেম ও রানা অবৈধ অস্ত্র সহ তাদের বাহিনী নিয়ে ওয়ন ওসমানের সাথে গিয়েছে বলে জানান একাধিক ব্যক্তি।  ৫ আগষ্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্যতাগ করে দেশ ছাড়া পরেও নারায়ণগঞ্জ সদর থানার কৃষক লীগের  আহ্বায়ক কাসেম সম্রাট, সদস্য সচিব রানা, দেলৈত মেম্বারের ছেলে যুবলীগ নেতা মোহাম্ম ফয়সাল, 

 

গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব নুর হোসেন সওদাগর, প্রয়াত নওশাদ চেয়ারম্যানের ছেলে রাজু,মুকবুল,মহসিন মিলে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছে। আর এতে করে এলাকার মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। তারা ওয়ন ওসমানের চিহ্নিত অস্ত্রদারী হলেও তাদের নাম মামলায় আসে নাই। আর এননিয়ে শহর জুরে ব্যপক আলোচনা সমালোচনার ঝর বইছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি জানান, কাসেম এবং রানাকে নানা অপকর্মে শেল্টার দেন নারায়ণগঞ্জ সদর থানার তদন্ত ওসি দিপক কুমার দাস। তার বিনিময়ে এ এস আই গৌতমের মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে থাকেন। তারাই তাদেরকে মামলা থেকে রক্ষা করেন। তার বিনিমেয় অর্থের সুবিদা নেন ত্রাা দুজনেই। কিন্তু সদর থানার অনেক পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহর হলেও তারা এখনো বহাল তবিয়রে রয়েছে।


ঐাানাযায় বছর খানিক আগে গোগনগর ইউনিনের সংরক্ষিত নারী মেম্বার নিলুফা বেগম সন্ত্রাসী রানাকে গ্রেপ্তার করে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য মালিবাগ সিআইডি অফিসে আবেদন জানান। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ র‌্যাব ১১ নিকট তার অনুলিপি আদেন জানিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের দাবী জানান। নিলুফা মেম্বারের অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সনের ১৫ মার্চ  গোনগরের ৭,৮.৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য নিলুফা বেগমের বাড়ির সামনে পূর্ব সুত্রতার জের ধরে হামলা চালায়।

 

 হামলার এক পর্যায় রানার হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে এলাপাথারি গুলি চালালে তখন তিনি গুলিবিদ্ধ হন তিনি। এই ঘটনায় স্থানীয় এবং জাতীয় গণমাধ্যমে বড় আকারে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এমনকি এই ঘটনায় তখন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় কাশেম সম্রাট, রানা সহ প্রায় ৮ জনের নাম উল্লেখ্য করে মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নম্বর ০১।

  
অভিযোগে উল্লেখ্য করে নিলুফা বেগম জানান,  দৌলত মেম্বারের ছেলে কাশেম সম্্রাট,  রানা, মো. বাবু, মো. মহসিন,শাহ পরান, কাশেম সম্্রাটের ভাই ফয়সাল, কবির মিলে আমার উপর হামলা চালায়। এখনো বিভিন্ন সময় রানা অস্ত্র সহ বাহিনী নিয়ে এলাকায় মহাড় দেয়। এই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকার মানুষ জন ভয়ে আতঙ্কে সময় কাটাচ্ছে। তাই তাদের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবী তুলেছেন গোগনগরের স্থানীয়রা। এই অস্ত্রধারীরা ওয়ন ওসমানের সাথে গিয়ে গুলি চালিয়েছে বলে তাদেরই ঘনিষ্ঠজন জানান। কিন্তা তারা মামলা থেকে রক্ষা পেল কি করে তা নিয়ে এখন হৈ চৈ চলছে।


 খোঁজ নিয়ে জানাযায়, গোগনগরের জসিম হত্যা মামলায় কাশেম সম্রাট ১৬৪ ধারা হত্যার স্বিকারক্তি দিয়ে জবান বন্দি দিয়েছে। জবান বন্দিতে কাসেম বলেন, ২০১৬ সনের ২৪ ডিসেম্বর রাত ১২ টায় আমাদের অফিসে জসিমকে ডেকে এনে কয়েকজনে মিলে হত্যা করে। কাসেম রানার রয়েছে বিশাল মাদক বাহিনী যাদের দিয়ে মাদককারি করে মোটা অংকের টাকা কামিয়ে টোকাই থেকে কোটির টাকার মালিক বনে গেছেন। এই বাহিনীকে রাজনৈতিক ভাবে শেল্টারদেন সাবেক এমপি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট বন্ধু জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ওয়াজেদ আলী খোকন। 

 

তার ওয়ন ওসমানের সাথে তাদের নিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন বলে জানান স্থানীয়রা। ২০২৩ সনের ২৪ অক্টোবর হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মী উৎসবের দশমীর দিন রাতে কাসেম সম্রাট মদ খেয়ে শহরের বাস স্ট্যান্ডে বাসের হেল্পারদের সাথে মাতলামি করে বগিয়ে দিয়ে তাদের উপর হামলা চালান। পরে এক পর্যায়ে বাস স্ট্যান্ডের হেল্পাররা তাকে গণধোলাই দেন। এসময় কাসেম সম্রাট কোন রকমে দৌরে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।  এত কিছুর পরেও তারা কেন মামলা থেকে বাদ পরলো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন ছাত্রজনতা থেকে শুরু করে সচেতন মহল। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান সচেতন মহল। তারা যদি পার পেয়ে যায় তাহলে আরও অনেক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে মনে করেন ভুক্তভোগিরা।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন