গডফাদার শামীম ওসমান একজন কাপুরুষ : মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন
ইফতি মাহমুদ ও আল-আমিন
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:৪০ পিএম
# যাদের সন্তান কুলাঙ্গার হয়ে গিয়েছিলো, তারা যেন তওবা করে ফিরে আসে
সিদ্ধিরগঞ্জ কলাবাগ জামে মসজিদ উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। গতকাল শনিবার (৩১ আগস্ট) ৫নং ওয়ার্ডের কলাবাগ এলাকায় গিয়ে এই মসজিদ উদ্বোধন শেষে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এ আলহাজ্ব মো. গিয়াস উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের সুনাম রক্ষার্থে আমি কাজ করি ন্যায়ের পক্ষে কাজ করি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করি।
১৯৭১ সালেও জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি আপনাদের এলাকার সন্তান হিসেবে। ১৯৭১ সালে দেশ প্রথম স্বাধীন হওয়ার পরে যারা মুসলীমলীগ করত শান্তি কমিটিতে ছিল তাদের বাড়ি ঘর মাটির সাথে ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছিল। তারা কেউ বেঁচে থাকতে পারে নাই। কিন্তু আমি আমার শ্রদ্ধীয় পিতার অনুরোধে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে ছিল তাদের কাউকে আমি ক্ষতি হতে দেইনি।
আমি পাহাড়া দিয়ে রেখেছি আমার বাবা মাফ করে দিয়েছে আমি মাফ করে দিয়েছি। এবারও যারা আমাদের প্রতি অন্যয় করেছে জুলুম করেছে আমি বলেছি সকলের উদ্দেশ্যে তাদেরকে মাফ করে দেন তাদেরকে নিজ হাতে কিছু করার দরকার নাই আল্লাহর কাছে বিচার দেন আইনের কাছে সোপর্দ করেন। আমরা তাদের মাফ করে দিয়েছি। কিন্তু আজকে তারা আমাদের জায়গায় থাকলে এই মাফের কথা বলতেই পারতেন না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে অর্থবিত্ত সম্পন্ন মানুষ হয় কেউ অন্যায় ভাবে অসৎ পথে উপার্জন করুক সমাজের মানুষ তাদের সম্মান করে। আর কেউ যদি সৎ ভাবে চলে সে যদি গরীব হয় তাকে অবজ্ঞা করে। গরীবের বাড়িতে কোন বড়লোক গেলে গরীব মানুষ যে সম্মান করে আর বড়লোকের বাড়িতে গরীব গেলে কোন সম্মানত দূরের কথা কথাই বলে না।
এরা কারা অবৈধ ভাবে অর্থ উপার্জন করে মসজিদ বানাবে মাদ্রসা বানাবে বিভিন্ন জায়গার উদাহারণ দিচ্ছি তখন কি করে তখন কি করে একটা ওয়াজ মাহফিল করবে তখন কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেয় কাকে প্রধান অতিথি করা যায় কাকে বিশেষ অতিথি করা হবে তখন কমিটি ওলামায় কেরামের মধ্যে কি সিদ্ধান্ত নেয় জানেন এই এলাকার সবচাইতে চোর কে সবচাইতে বাটপার কে সবচাইতে পরের সম্পদ লুন্ঠনকারী কে যার কাছে টাকা আছে তারা প্রধান অতিথি করে আনব।
কারণ তার থেকে নির্মাণ সামগ্রী ও অর্থ পাওয়া যাবে। ওই খারাপ মানুষ টাকেই এনে প্রধান অতিথির চেয়ারে বসায় এবং তখন ওই ধর্মপরায়ণ ব্যক্তিদের প্রতি আমার একটি খারাপ ধারণা হয়। তাহলে আমাদের কি করতে হবে ভাল মানুষকে সম্মান দিতে হবে অসৎ মানুষকে ঘৃণা করতে হবে। অসৎ মানুষকে এভাবে সম্মানিত করা যাবে না কারণ সে তখন মনে করবে টাকার কারণে আমাকে সম্মান করা হচ্ছে তখন সে আরও অসৎ পথে চলে যাবে।
গিয়াসউদ্দিন আরো বলেন, গত ১৫ বছর এলাকায় থাকতে পারি নাই। স্বৈরাচার সরকারের আমলে আমার নামে, আমার পরিবারের নামে এবং আমার সহকর্মীদের নামে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা তারা দিয়েছে। ওই সরকার থাকতে পারলে কয়েকটি মামলায় আমাদের ফাঁসির রায় হতো। মহান আল্লাহ আমাকে দুই মুক্তিযুদ্ধেই অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। আমি জানি সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার অধিকাংশ মানুষ ভালো।
কিছু কুলাঙ্গার সৃষ্টি হয়েছিলো, যারা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতো। এই এলাকার অর্থ-সম্পদ লুন্ঠন করার জন্য তারা পাগল হয়ে গিয়েছিলো। নারায়ণগঞ্জের সর্বশ্রেষ্ট গডফাদার শামীম ওসমানের ক্যাডার বাহিনী হয়ে এই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করেছিলো। এতে করে আমার এলাকার মান ইজ্জত সম্মান নষ্ট হয়েছে। যারা এগুলো করেছে অব্যশ্যই তাদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। তাদের বিচারের জন্য আইনকে নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো থেমে নেই, সেই দিকে আপনাদের সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ওই সন্ত্রাসীরা যাতে আর এলাকায় আসতে না পারে। সিদ্ধিরগঞ্জের সবাই শান্তি প্রিয় মানুষ। দুই-একটা কুলাঙ্গারের জন্য আমরা এই এলাকার সুনাম নষ্ট করতে পারি না। কুলাঙ্গাররা অবৈধ ভাবে তাদের অর্থ-বিত্ত তৈরি করেছে। এমনকি এই কুলাঙ্গাররা এই এলাকার ন্যায় বিচার ধ্বংস করে দিয়েছে।
তারা অন্যায় ভাবে অর্থের মাধ্যমে পক্ষপাতিত্ব করে বিচার করতো। শামীম ওসমানের ক্যাডার বাহিনী এই এলাকাকে এমন ভাবে জিম্মি করে রেখেছিলো যে, মানুষ কখনো প্রতিবাদ করতে পারেনি। আপনারা লক্ষ্য রাখবেন কেউ যাতে কোথাও কোন চাঁদাবাজি করতে না পারে। সম্পুর্ণ চাঁদাবাজ মুক্ত এলাকা থাকবে নারায়ণগঞ্জ। কেউ চাঁদাবাজি করলে আপনারা ব্যবস্থা নিবেন, না পারলে আমাদের বলবেন; আমরা তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নিবো। কিন্তু আর কোন সন্তানকে কুলাঙ্গার হতে দেওয়া যাবে না।
সাবেক এমপি শামীম ওসমানের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, হোন্ডার বহর নিয়ে তারা এই এলাকায় ভীতির সৃষ্টি করেছে। আজ কোথায় তারা। তাই ক্ষমতা থাকলেই ক্ষমতা দেখাতে নাই। অন্যায় করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে যখন শাস্তি এসে গেছে, আজ তারা পলাতক। তাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে রেখে পলায় গেছে। আমি আগেও সব জায়গায় বলতাম, সর্বশ্রেষ্ঠ গডফাদার শামীম ওসমান কিন্তু একটা কাপুরুষ।
২০০১ সালের নির্বাচনে সে আমার সাথে বিপুল পরিমান ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলো, আপনারাই আমাকে জয়ী করেছিলেন। বোরকা পরে সে দেশ ত্যাগ করেছিলো। সেই দিনও সে তার কর্মীদের কথা ভাবেনি। এবারও বহু হুংকার দিয়েছে। তখন কেউ কেউ উত্তর দিতে ভয় পেতো, আমি শুধু আল্লাহকে ভয় পেতাম। আমি তখন বলেছি ও একটা কাপুরুষ, ওকে ভয় পাবেন না।
সে তো আবারো পালায় গেছে, কিন্তু সাঙ্গ পাঙ্গদের কথা তো একবারও ভাবলো না। আপনাদের পক্ষে আমি সারা নারায়ণগঞ্জে প্রতিনিধিত্ব করি। বিএনপি একটি সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির ভুমিকা কি, আপনারা সব জানেন। এই ১৫ বছরের মধ্যে অধিক সময় আমি আমার বাড়িতে থাকতে পারি নাই। আমি আপনাদের বলবো, যাদের সন্তান কুলাঙ্গার হয়ে গিয়েছিলো, তাদের সন্তানরা যাতে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে ওই পথ থেকে ফিরে আসে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, মোহাম্মদ হোসেন, ফজলুর রহমান, মবীনুর মঞ্জু, জহিরুল হক, আব্দুল মালেক, সিরাজুল ইসলাম, মোক্তার হোসেন, ফারুক আহাম্মেদ, আবুল কাশেম সরকার, মোহাম্মদ লাভলু, রাশেদুল হক, বুলবুল আহাম্মেদ, মিজানুর রহমান মঞ্জু, মনির ভান্ডারী ও নাজমুল হোসেন প্রমূখ। এন. হুসেইন রনী /জেসি


