ভরা মৌসুমে ইলিশের আকাশছোঁয়া দাম
নুরুন নাহার নিরু
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:০৯ পিএম
ইলিশের ভরা মৌসুমে মাছের বাজার এখন অনেকটাই ইলিশে ভরপুর। রোদের আলোতে রূপালি রঙে যেন ঝলঝল করছে ইলিশ। নজর কারছে উপস্থিত সকল ক্রেতাদের। তবে এমন স্বাদের ইলিশ খাওয়া মধ্য ও নিম্নবিত্তদের বাধা তৈরি করছে আকাশ ছোয়া এই দাম। দাম জিজ্ঞাসা করার সাহসও যেন তাদের কাছে এখন দুঃসাহসিকতার কাজ। তবে শুধু যে চড়া রয়েছে ইলিশের দাম তা কিন্তু নয়, বাজারে সব মাছের দামই যেন একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
বিক্রেতাদের দাবি, বাজার ভরা ইলিশ থাকার কারনে আকার ভেদে দাম কমেছে। আবার আকার ভেদে একেক দাম বিক্রি হচ্ছে তা। তবে ক্রেতারা হাটছে অন্য পথে, তারা বলছে প্রতনিয়ত মাছের দাম বেড়েই চলেছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে মাছ খাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। প্রথমে খাবার পদ থেকে বাদ দিতে হয়েছে মাংস। এখন আবার মাছও দেখছি একই অবস্থা হচ্ছে। এরকম দিন যেতে থাকলে মানুষ খাবে কি।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ইলিশের দাম আকার ভেদে ৬৫০ থেকে ৩০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেড় কেজি ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ টাকা, আর ১৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার টাকায়। দাম বেশি হওয়ায় ৬০০ টাকা দরে ছোট সাইজের ইলিশও না কিনেই ফিরছেন অনেকে।
বাজারে মাছ কিনতে আসা আমিন বলেন, ইলিশের দাম শুনে আর কেনার কথা ভাবছি না। এসব মাছ আমাদের জন্য না। এগুলো বড়লোকদের জন্য। পাঙাশ মাছ থেকে শুরু করে গুঁড়া মাছের দামও অনেক বেশি। এমন হলে কীভাবে মাছ খাবো! ইলিশ উৎপাদনে কোনো খরচ নেই। তারপরও কেন এত দামে কিনে খেতে হবে এখানে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
বাজারের এ অবস্থায় রিকশাচালক রহমান বলেন, ইলিশ মাছ কিনে খাওয়া আমাদের কপালে নাই। একটা ইলিশের দাম দিয়া কয়েকজনের বাজার হয়ে যাবে। সব মাছের দামই বেশি। এমন হলে মাছ খাওয়াও বাদ দিয়ে দিবো।
অন্যান্য মাছের ও একই দশা। রুই মাছ ৪০০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙাশ মাছ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, শিং মাছ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, বড় চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি, তেলাপিয়া মাছ ২৫০ টাকা কেজি, নদীর বড় তেলাপিয়া ২৮০ টাকা, পোয়া মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, গুঁড়া মাছ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারভেদে মাছের দামে বেশ ব্যবধান দেখা গেছে। এন. হুসেইন রনী /জেসি


