নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ীরা হ-য-ব-র-ল অবস্থায়
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৪:৪১ পিএম
রাজধানী ঢাকার অদূরে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নারায়ণগঞ্জ শহরে পাইকারি বাজার নিতাইগঞ্জ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে পাট ও লবণ ব্যবসার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। কিন্তু গত শতাব্দীর ষাটের দশকের পর থেকে সেখানে ভোগ্যপণ্যের পাইকারি ব্যবসার বিস্তার শুরু হয়। একপর্যায়ে এটি দেশের তিনটি পাইকারি বাজারের একটি হয়ে ওঠে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের পাইকারি বাজারের পরই নিতাইগঞ্জ।
এটা লবণ, চিনি, চাল, ডাল, তেল, গম, আটা, ময়দা ও ভুসির জন্য প্রসিদ্ধ। এদিকে আটা-ময়দা ও গো-খাদ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ। এখানে আটা-ময়দার মিল রয়েছে প্রায় ৭০টি। রাশিয়া, ইউক্রেন, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা থেকে আমদানি করা গমের আটা-ময়দা এখান থেকে যায় দেশজুড়ে। তা ছাড়া ও চালের আড়ৎ আছে ১০০টির মতো, ময়দার মিল চালু আছে ৫০টি। ময়দার আড়ত ৬৮, গম ও ডালের আড়ত ২০০-২৫০, লবণের আড়ৎ আছে ৩০টি।
তেল-চিনির আড়ত আছে প্রায় ৪০০। ভুসির আড়ত এক হাজারের মতো। প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। এর সঙ্গে যুক্ত আছে নদী ও সড়কপথে পরিবহন ব্যবসা, সেখানে বিপুলসংখ্যক লোকের কর্মসংস্থান।
সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক বছর যাবৎ প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা বড় কোম্পানিগুলো এখন আটা-ময়দা, চাল, ডাল, লবণ, চিনি, তেল সহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায় চলে এসেছে। এ কারনে বড় কোম্পানি গুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে ব্যবসা করার মতো সাহস পাচ্ছে না নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। তাই তারা বড় কোম্পানির মালামাল গুলোই ডিলার এর মাধ্যমে কিনে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে রেখেছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ট্রেড লাইসেন্স করে সেই কোম্পানির পণ্য গুলো ডিওর মাধ্যমে কিনে রাখছেন।
তা ছাড়া বহু এলাকা বিত্তিক দোকানে ও বর্তমানে বড় বড় কোম্পানীর ডিলার গিয়ে যোগাযোগ করে মালামাল দিয়ে আসছেন। এর মাঝে আবার বিভিন্ন ক্ষমতাসীনদের নামে চাঁদা বিগত দিনে লাগলে ও বর্তমানে সেটা লাগছে না, কিন্তু কিছু অসাধু এলাকার প্রভাবশালীরা এসে বহু ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা চাইছেন। অনেকে চাইছেন সালার ওয়েস্টিজ ব্যবসা দখলে নিতে, অনেকে লোড আনলোড করার সময় নিচে পড়া ময়দা, আটা, গম নেওয়ার জন্য ও নিয়মিত সংঘর্ষে জড়িয়ে পরছেন।
তা ছাড়া বর্তমানে আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতি ২ভাগে বিভিক্ত থাকায় বিগত দিনে ও এই কমিটি থেকে কোন সুবিধা পায়নি মিল মালিকরা। এখনো কয়েকটি হত্যা মামলার আসামী হিসেবে সভাপতি থাকায় বর্তমানে কোন সুবিধা হচ্ছে না। তা ছাড়া ও সরকারি ঘোষিত ও. এম. এস এর আটা-ময়দা-গম নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ীদের ব্যবসার মুনাফা বেশি করার জন্য আসলে ও তা খাদ্য অধিদপ্তর থেকে একজন ব্যবসায়ীর মাধ্যমে আসলে ও তা সকলে পায় না সে দিক দিয়ে ও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ব্যবসায়ীরা।
তা ছাড়া এতো বড় একটি বানিজ্যিক এরিয়া হলে ও এই এরিয়ার রাস্তাগুলো পুরোই ভাঙা-চোরা যার কারণে ১ ঘন্টার মাল লোড করতে সময় লাগে ৩ ঘন্টা তা ছাড়া ডালপ্িট্র, নিতাগঞ্জ মোড়, খাল-ঘাট রোড, সিটি কর্পোরশনের গ্যারেজের সামনে অস্থায়ী ট্রাক স্ট্যান্ড থাকায় ক্ষতিগ্রস্থ হচেছ ব্যবসায়ীরা। তা ছাড়া বর্তমানে ব্যবসা অনেকটাই মন্দা হয়ে পরেছে ব্যবসায়ীদের। এদিকে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ হলে তারা অভিযোগ করেন গত ৫ বছর ধরে ক্রমাগত ব্যবসায়িক মন্দায় আছেন বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা ময়দা ও ডাল ব্যবসায়ীরা বেশি বেকায়দায় পড়েছেন।
এখানে ময়দার ছিল ৭০টি মিল, এখন ২২টি বন্ধ। অনেকগুলো বড় প্রতিষ্ঠান অত্যাধুনিক মিল বসিয়েছে। তারা গম আমদানি করে লাইটার জাহাজে এনে নিজেদের জেটিতে ভেড়ায়, অটোমেটিক মেশিনে জাহাজ থেকে মিলে তুলছে। বস্তাপ্রতি তাদের খরচ পড়ে তিন-চার টাকা। আর নিতাইগঞ্জে নদীর ঘাট থেকে শ্রমিকেরা মাথায় করে মাল তুলে আনেন। খরচ পড়ে অনেক বেশি।
সূত্র বলছে, নিতাইগঞ্জ বিশাল একটি বানিজ্যিক এরিয়া হিসেবে পরিচিত। সেই ক্ষেত্রে যে হারে ব্যবসা রয়েছে তার থেকে বেশি দূর্নীতি ও রয়েছে এই সেক্টরকে ঘিরে। নিতাইগঞ্জ ঘিরে ব্যবসার পাশাপাশি ব্যবসার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘরে উঠেছে অজস্র ব্যবসায়ীক সংগঠন যার মধ্যে রযেছে, আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতি, চাল-ডাল ব্যাবসায়ী মালিক সমিতি, গম মালিক সমিতি, ভূমি মালিক সমিতি, খুচরা পাইকারী সমবায় সমিতি, অটোপাশ সমিতি বিভিন্ন আড়ৎদার মালিক সমিতি, দোকান মালিক সমিতি, ডিও ‘র ব্যবসা সিন্ডিকেট, এর বাহিরে ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, এরই মাঝে ট্রাক ইউনিয়ন,
শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠন, লোড-আনলোড মালিক সমিতি, ওয়েস্টিজ বস্তা সিন্ডিকেট, সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য সিন্ডিকট, ঠেলা গাড়ি সিন্ডিকেট, মিনি ট্রাক সিন্ডিকেট, অটো সিন্ডিকেট সহ এ ধরনের সকল ধরনের সংগঠনের নেতৃত্ব দখলে ছিল মূলত ওসমান পরিবারের আজ্ঞাবহদের। যেখান থেকে ব্যবসায়ী চাঁদা ছাড়াই উঠতো কোটি কোটি টাকা। এদিকে পর্টপরিবর্তনের পর এই সকল সিন্ডিকেট শেল্টার দিতে ওসমানরা পাশে না থাকলে ও বর্তমানে তাদের হাতে বানানো সেই প্রেতাত্মাদের হাতেই রয়েছে এই সংগঠনগুলোর দায়িত্ব।
যা কোন নির্বাচন ছাড়াই এককগুচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে। যাকে ঘিরে যোগ্য কোন ব্যবসায়ী আসতে পারেনি কমিটির দায়িত্ব এদিকে আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতি নামে দুই সংগঠন রয়েছে এই নিতাইগঞ্জে একটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন জসিম ওরফে গম জসিম আরেক সংগঠনে রয়েছেন ওয়াজেদ আলী বাবুল।
এদিকে গত ০৫ আগষ্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগের পর নিতাইগঞ্জ থেকে অনেক ব্যবসায়ী ও বহু সংগঠনের ব্যবসায় নেতারা পালিয়ে যায়। তারই মাঝে ব্যবসায়ী নেতা জসিমসহ আরো বেশ কয়েকজন হত্যা মামলার আসামী ও হন। কিন্তু পটপরিবর্তনের মাস পেরিয়ে আসলে আবার সকলে বিভিন্ন লবিংয়ে আসা শুরু করেছে। আবার অনেকে তাদের দায়িত্ব কিছু বিএনপি নেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। তা ছাড়া খোজ নিয়ে জানা গেছে, ইতিমধ্যে স্বস্তিতে নেই ব্যবসায়ীরা তাদের থেকে বিভিন্ন নামে-বেনামে চাঁদাবাজি, ভয়-ভীতি প্রদশন করছেন বহু সিন্ডিকেটের নয়া মেম্বাররা চাইছেন চাঁদা। অনেকে মুখ খুলতে ও পাইছেন ভয়।
তা ছাড়া বিগত দিনে খাল-ঘাট রোড এলাকায় লোড-আনলোড এর নামে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট চালু করেন শহিদ বাপ্পি পরবর্তীতে তিনি মারা গেলে পরবর্তীতে তার আত্মীয়স্বজনসহ অনেকে মিলে এটাকে কয়েকভাবে চাঁদাবাজিতে রূপান্তরিত করেছেন। বর্তমানে এই লোড-আনলোড সমিতির নামে চাঁদাবাজি করতে ইতিমধ্যে বিএনপির তিনটি গ্রুপ নিজেদের মধ্যে কথা কাটাকাটি করছেন। এই কথাকাটাকাটি এক পর্যায়ে ঝগড়ায় পরিণত হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। বর্তমানে ব্যবসায়ীদের ভাষন একটাই আমরা বর্তমানে হ-য-ব-র-ল অবস্থায় ব্যবসা পরিচালনা করছি এখানে কোন মতে কোন প্রকারের সিন্ডিকেট চাই না।


