Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ওসমানদের ছায়ায় দখলদারিত্বে নামে নীট কনসার্ন

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৪:৪৩ পিএম

ওসমানদের ছায়ায় দখলদারিত্বে  নামে নীট কনসার্ন
Swapno

 

 

# মিলের প্রায় ৫৫ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ লুটপাট করার অভিযোগ আছে নীট কনসার্নের বিরুদ্ধে
# ৭০০ কোটি টাকার সম্পদ মাত্র ৩৫ কোটি টাকায় তাদের হাতে তুলে দেয় ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়

 

গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী ও লুটেরা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। আর এই লুটেরা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী এমপিরা দেশজুড়ে চালিয়েছেন নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। নারায়ণগঞ্জের গডফাদারের উপাধি পাওয়া এবং স্বঘোষিত সন্ত্রাসী ওসমান পরিবারের সদস্য একেএম শামীম ওসমানের সাথে আঁতাত করে শত শত কোটি টাকার ভূমিদস্যুতার অভিযোগ আছে ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত নীট কনসার্ন গ্রুপের বিরুদ্ধে।

 

 শুধুমাত্র লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলস ( যা বর্তমানে নিউ লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলস নামে পরিচিত) এর জায়গা দখল করার জন্যই ওসমান পরিবারকে প্রায় দশকোটি টাকার মতো চাঁদা দিয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য একেএম নাসিম ওসমান (প্রয়াত) ও তার ভাই একেএম শামীম ওসমান (্বর্তমানে পলাতক) প্রকাশে নীট কনসার্নের পক্ষে অবস্থান নেয় বলেও জানা গেছে।

 

 এমনকি ওসমান পরিবারের সন্ত্রাস ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে মিলের প্রায় ৫৫ কোটি টাকার মালামাল লুটপাট করেছে বলেও অভিযোগ আছে নীট কনসার্নের বিরুদ্ধে। একই বছর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েই লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলসের শেয়ারহোল্ডারদের নীট কনসার্নের গুন্ডাবাহিনী মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। এর আগে নীট কনসার্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা ও তার ছোট ভাই মনোয়ার হোসেন মোল্লা প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানের পুত্র নারায়ণগঞ্জের ভাইজান খ্যাত আজমেরী ওসমান ও তার প্রায় ৩ থেকে ৪ শত গুন্ডাবাহিনী নিয়ে মিলের ভিতরে প্রবেশ করে

 

 সেখানে থাকা শেয়ার হোল্ডার ও তাদের পরিবারের উপর আক্রমণ করে। একই বছর নাসিম ওসমান ও সেলিম তৎকালীন বাজার মূল্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা হলেও মাত্র ৩৫ কোটি টাকায় নীট কনসার্নের হাতে দেন। তারা উপস্থিত থেকে দখল বুঝিয়ে দেওয়ারও দায়িত্ব নেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অবজ্ঞা করে দায়িত্ব নিয়ে গঠন করে দেন পরিচালনা পর্ষদ।

 

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৯৫৪ সালে ১৮ দশমিক ৬৭ একর জমি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার গোদনাইল এলাকায়  প্রতিষ্ঠিত হয় লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলস। যে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে। তবে ’৯০ এর দশকের পর থেকে তৎকালীন পরিচালনা পরিষদের স্বেচ্ছাচারিতায় ধীরে এই লাভজনক প্রতিষ্ঠানটি লোকসান দেওয়া শুরু করে। যারফলে ১৯৯৬ সালে মিলটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় সরকার।

 

 ২০০০ সালে সরকার গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে মিলের ৫১০ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে শেয়ারহোল্ডার ঘোষণা করে মিলটি চালানোর দায়িত্ব দেয়। এরপর মিলটি চালু করে আবারও লাভের মুখ দেখতে শুরু করে শেয়ারহোল্ডাররা। এরপরই এই মিলটি নীটকনসার্নের মালিকের চেখে পড়ে এবং মিলটি দখলের উপায় খুঁজতে শুরু করেন। ২০১১ সালে নিট কনসার্নের মালিক জয়নাল আবেদীন মোল্লা, জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা সেই সময়ের এমপি নাসিম ওসমানের মাধ্যমে ৪৫৮ জন শেয়ার হোল্ডারকে নিয়ে স্ট্যাম্পে এই বলে স্বাক্ষর নেন যে, তারা মিলের শেয়ারহোল্ডার থাকবেন। 

 

পড়ে কৌশলে তারা বাকী শেয়ার হোল্ডারদের কাছ থেকেও স্বাক্ষর নিতে অপতৎপরতা শুরু করেন। কিন্তু বাকী শেয়ার হোল্ডাররা তাদের দখলদারদের উদ্দেশ্য টের পেয়ে স্বাক্ষর করতে এবং শেয়ার বিক্রী করতে অস্বীকার করেন। এরপর থেকেই ওসমান পরিবারকে ব্যবহার করে শেয়ার হোল্ডারদের উপর শুরু হয় সন্ত্রাসী হামলা ও নির্যাতন। বাড়িÑঘরে আগুন লাগানো, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া, পূজামণ্ডব গুড়িয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে শারিরীক নির্যাতনও শুরু করেন তারা। মাত্র ৩৫ কোটি টাকার বিনিময়ে দখল করে নেন সরকারের ৭০০ কোটি টাকার সম্পদ। লুট করে নেন মিলের ভিতরে থাকা প্রায় ৫৫ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি।

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন