টানবাজার-র্যালী বাগানের গুন্ডা মনির কোথায়
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৪:৪৬ পিএম
# চাদাঁবাজিতে ছিলেন দাপুটে
# পিঠাওয়ালির ছেলে মনির শত কোটি টাকার মালিক
নারায়ণয়ণগঞ্জে অনেকেই বাহির থেকে এসে টোকাই বিত্তশালী বনে গেছেন ওসমান আশীর্বাদে। তাদের মাঝে অন্যতম ছিলেন পদবিহীন আজমেরী ওসমানের পালিত সন্ত্রাসী গুন্ডা মনির হোসেন ওরফে মনা। এই মনিরের মা পিঠা বিক্রি করে তাকে লালন পালন করে বড় করে তোলেন বলে জানা শহরের র্যালি বাগান এলাকার মানুষ। কিন্তু মনিকর পড়ালেখায় মনোযুগি না হয়ে গুন্ডামি সন্ত্রাসীতে মনোযুগি হয়ে প্রথমে ছিচকে মাস্তান হয়।
পরে আজমেরী ওসমানের সেকেন্ড ইন কমান্ড সন্ত্রাসী নাসিরের ছোয়ায় আজমেরী ওসমানের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হন। এর পর থেকে এই টোকাই মনিরকে আর পিছনে তাকাতে হয় নাই। কয়েক বছরের ব্যবধানে চিছকে মাস্তান থেকে বড় জুট সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতি পান। ভুদিস্যুতায় তার হোন্ডাবাহিনী ছিল। এছাড়া মাদক, জুট বিচার শালিস করেও টাকা হাতিয়ে নিত ভদ্রবেশি গুন্ডা মনির। মনিরের বিষয়ে দৈনিক যুগের চিন্তা প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।
মনিরের মা ডিআইটি ফুটপাতে বসে পিঠা বিক্রি করে কোনরকমভাবে সংসার চালাতেন। মনির পড়া লেখায় খুব বেশি দুর যেতে না পারে টানাবাজারে চুরি, ছিন্তাই করে বেরাতেন প্রথম দিকে। ২০১৬ সনের পরে ১৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সজলের নজরে আসেন চামচামি করে।তখন সজলের শেল্টারে দেওভোগ দাপিয়ে বেরাতেন চিছকে মাস্তান মনির। তখন ভাত আনতে পান্তা ফুরাতো তার। কিন্তু সজলের সাথে থেকে তেমন একটা ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে না পারায় আজমেরী ওসমানের সন্ত্রাস বাহিনীতে নাম লেখান। আজমেরী ওসমানের এখানে প্রথম দিকে টোকাই মাদাককারবারি, ছিন্তাইকারীদের নিয়ে মিছিল মিটিংয়ে যেতেন। একটা পর্যায় গিয়ে হাজার লোক নিয়ে মিছিল নিয়ে যোগদান করায় আজমেরী ওসমানের নজর কাড়েন। এর পর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নাই।
জানাযায়, আজমেরী ওসমানের গুন্ডাবাহিনীর অন্যতম সদস্য হয়ে যান। বনে র্যালী বাগান, টানবাজার, রিভার ভিউ এলাকার সকল গার্মেন্ট হোসিয়ারির জুট সেক্টর য়িন্ত্রণ নেন তিনি। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ফ্যাক্টরী থেকে জুট নিয়ন্ত্রণ করে প্রতি মাসে দের থেকে ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন। সেই সাথে গার্মেন্ট মালিকদের থেকে প্রভাব বিস্তার করে আজমেরী ওসমানের নাম দিয়ে চাদাঁবাজিতে ছিলেন ওস্তাদ। তাছাড়া গোগনগর, শহিদ নগর, বন্দর এলাকায় জায়গা দখলের কন্টেকের মাধ্যমে ভুমিদস্যুতা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
এছাড়া টানবাজার,করিম মার্কেট, নয়ামাটি,জিমখানা, নিতাইগঞ্জ এলাকা গুলোর অরাধ জগতের সন্ত্রসীদের নেতা ছিলেন মাস্তান মনির। তাছাড়া বন্দরে রাইসুল চেয়ারম্যানের জায়গা দখল করতে গিয়ে দৌরানি খেয়ে কোনরকম পালিয়ে বাচেঁ তখন। তবে এই ঘটনায় তার নাম সহকারে ১১ জনকে আসমাী করে মামলা হয়। সেই মামলায় তার নামও রয়েছে।
অনুসন্ধানে মামলা সুত্রে জানাযায়, ২০২৩ সনের ১৬ মার্চ বন্দরে কলাগাছিয়া ইউনিয়নের প্রয়াত রাইসুল চেয়ারম্যানের ছেলেদের জায়গা দখলে গিয়ে মনির গুলি ছোড়েন। এই ঘটনায় ১৭ মার্চ বন্দর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ্য করে তানভীর আহম্মেদ বাদী হয়ে মামলা করেন। যারা মামলা নম্বর ৩৬/২৩। শহরের চিহ্নিত ভুমিদস্যু সেকেন্ড ইন কমান্ড নামে পরিচিত আলী হায়দার শামীম ওরফে পিজা শামীমকে প্রধান আসামী করে বন্দর থানায় মামলা করা হয়।
১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩০৭/৩২৫/৩২৬/৪৩৬/৪২৭/৫০৬ পেনাল কোডে বন্দর থানায় মামলা হয়। মামলার অন্যতম আসামী হন মনির হোসেন মনা,কবির,আমির হোসেন,উৎসব, মুকিত, মুহিদ, পাঠান রনি। এছাড়া এই মনিরের বিরুদ্ধে চাদাঁবাজি মামলা রয়েছে। এই ভাবে নানা অপরাধ করে অবৈধ ভাবে কোটি টাকা কামিয়ে গেছে পিঠা বিক্রিওয়ালির ছেলে মনির। গত ৫ আগষ্টের পরে আজমেরী ওসমানের গুন্ডাবাহিনীর লোকজন সকলেই আত্মগোপনে রয়েছে। তার মাঝে মনিরও নিজেকে বাচাঁতে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। কিন্তু তাকে আইনের আওতায় আনারা দাবী জানান নগরবাসি।


