লিটন সাহার সহযোগী সমীর সাহা আবারো বেপরোয়া
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৪:৫০ পিএম
ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়শনে হেন অপকর্ম বাকি নেই লিটন সাহার। কথায় কথায় চাঁদাবাজিসহ অবৈধভাবে বন্ড সুতার বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের বারোটা বাজিয়ে রেখেছিলেন তিনি। লিটন সাহার শেল্টারে টানবাজারের এলসির মাধ্যমে সুতার কালোবাজারী ব্যবসা পরিচালনা করতেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সেই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য সমীর সাহা (এন বি ইয়ান ট্রেডিং)। যিনি টানবাজার জুড়ে বন্ড সুতার সাপ্লাইয়ার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
প্রতি দিন কোটি কোটি টাকার সুতা চোরাইপথে নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে আসলে সেগুলো তার মাধ্যমেই বিভিন্ন দোকানে দোকানে পৌঁছে যেত। যার মাধ্যমে তিনি ও সেই বাকি সিন্ডিকেট মেম্বারদের মতোই কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। বিগত দিনে লিটন সাহার পিছনে পিছনে ঘুরে টানবাজারে জুড়ে ওসমানদের ভয় দেখিয়ে শুধু এক সিন্ডিকেট চেটিয়ে ব্যবসা করেছেন। বর্তমানে পটপরিবর্তনের পর সমীর সাহা কিছুদিন নিশ্চুপ থাকলে ও বর্তমানে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। নিয়মিত অবৈধ বন্ড সুতা আবারো মার্কেটে ঢুকাচ্ছেন তিনি। একই সাথে বিভিন্ন বন্ড সুতার ব্যবসায়ীদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে পুলিশদের মাসিক চাঁদা, ইয়ান মার্চেন্টের খরচ বাবদ মোটা অংকের চাঁদা উত্তোলন করছেন এই সমীর সাহা। বিগত দিনে এই চাঁদা তোলার দায়িত্ব অন্য আরেক ব্যবসায়ীর হাতে থাকলে ও বর্তমানে এই চাঁদা তোলার দায়িত্ব নিয়েছেন এই সমীর সাহা।
সূত্র বলছে, মাত্র দশ বছরের কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন সমীর সাহা। বিত দিনে ছিলেন কর্টন সুতা ব্যবসায়ী। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে ও তিনি মামুলী সুতা ব্যবসায়ী হিসেবেই ছিলেন কিন্তু ইয়ান মার্চেন্টে যখনই সোলেমান প্যানেল পরিবর্তন হয়ে লিটন সাহার প্যানেলের আর্বিভাব ঘটে এর পর থেকেই তার পাঁ চেটে বড় হতে শুরু করেন এই সমীর সাহা। তা ছাড়া তার সাথেই নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো লিটন সাহার ভাই রামু সাহার যিনি নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলো।
সেই রেশ ধরেই তিনি বিভিন্ন স্পিনিং মিল মালিকদের সাথে তার কর্টন ব্যবসার অন্তরালে টুকটাক ব্যবসায়ীদের দিয়ে তাদের এলসির মাধ্যমে অবৈধপথে বন্ডের সুতা আমদানী করতেন। সেই ইন্ডিয়ান-চায়নার বন্ডের সুতা টানবাজারে নিয়ে এসে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করতেন। বিদেশি সুতার মান ভালো থাকায় সকলেই সেই সুতার প্রতি আকৃষ্ট হলে ধ্বংস হয়ে পরে দেশীয় জাতের সূতা ব্যবসা। এরা অবৈধপ্রন্থায় নিজেদের ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের এলসি জোর পূর্বকভাবে ক্ষমতা দেখিয়ে ব্যাবহার করে সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে শুল্কমুক্ত কোটায় আমদানি করা সুতা খোলাবাজারে বিক্রি করে টানবাজারের সুতার ঐতিহ্যকে ভূলন্ঠিত করেছে।
এমনকি তাদের এই সকল অপকর্মের কারণে সরকার মাসে শত শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। তা ছাড়া ও কিছু কিছু সময় টানবাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের থেকে বন্ডের সূতা আনার কথা বলে অধৈক টাকা নিয়ে পরবর্তীতে এলসি কেটে দিয়েছে সেই মিথ্যা বলে তাদের কাছেই উচ্চ মূল্যে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে এই সমীর সাহার বিরুদ্ধে। তা ছাড়া লিটন সাহার এই টানবাজারে ২৫ কোটি টাকার বেশি লঘ্নি করা টাকা এই বন্ড সুতার সিন্ডিকেট ও সমীর সাহার হাত দিয়েই বন্টন হয়েছে যেখানে মাসিক উচ্চ সুদ উঠা টাকা থেকে ইন্টারেস্ট পেতেন এই সমীর সাহা। বর্তমানে ও সেই পুরনো রূপেই চাঁদা উত্তোলনে একাই মাঠে আছেন সমীর সাহা আর তার অন্তরালে সেই সিন্ডিকেট মেম্বাররা।


