ভূমি খেকো নীট কনসার্নের জাহাঙ্গীর
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৪:৫৫ পিএম
# নিজ মায়ের নামের সড়কের জায়গা দখলেও সহযোগিতা করেছে ওসমান পরিবার
# এসব কাজের মূল কারিগর ও পরিকল্পনাকারী নীট কনসার্নের এমডি জাহাঙ্গীর
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দুঃশাসনামলে নারায়ণগঞ্জের যে কয়েকটি ভূমিদস্যু বা ভূমিখেকো শিল্প প্রতিষ্ঠানের নাম আসে তারমধ্যে অন্যতম নীট কনসার্ন গ্রুপ। একদিকে হিন্দু পরিবারের সম্পত্তি, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি অন্যদিকে জাল দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি দখলসহ অবৈধ পন্থায় হুমকি, ধামকি এবং পেশিবলে বহু সাধারণ জনগণের সম্পত্তি দখল করেছে নীট কনসার্নের মালিক পক্ষ।
আর এসব ভূমিদস্যুতার জন্য ব্যবহার করেছেন নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে নামকরা চাঁদাবাজ পরিবার বলে খ্যাত ওসমান পরিবারের ধুরন্ধর এবং বড় চাঁদাবাজ শামীম ওসমানসহ তার দুই ভাই (বর্তমানে এক ভাই প্রয়াত) এবং ভাতিজাকে। এমনকি ওসমান পরিবারের তিন চাঁদাবাজ অর্থাৎ নাসিম ওসমান, সেলিম ওসমান এবং শামীম ওসমানের মাতা ভাষা সৈনিক বেগম নাগিনা জোহার নামে গড়ে ওঠা সড়কের জায়গাও এই ওসমান পরিবারের সহায়তায় এই ভূমিখেকো নীট কনসার্ন হজম করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
যেখানে ওসমান পরিবারের প্রভাবের কারণে নীট কনসার্নের কাছে হেরে যায় সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগ। নীট কনসার্ন কোটি কোটি টাকা চাঁদা দিয়ে ওসমান পরিবারের দুই ছেলে নাসিম ওসমান ও শামীম ওসমানকে স্বশরীরে উপস্থিত করে কায়দা-ফিকির করে দখল করে নেয় বাংলাদেশের একসময়ের আলোচিত কটন মিলস হিসেবে পরিচিত লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলস এর জায়গা। গায়েব করে দেয় সেখানে থাকা কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। আর ওসমান পরিবারকে টাকার মাধ্যমে কিনে এসব কাজে ব্যবহারের মূল কারিগর অর্থাৎ যার কুটচাল ও পরিকল্পনায় এসব অসম্ভবকে সম্ভব করা হয়েছে তিনি হলেন নীট কনসার্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ’৯০ এর পরে গোদানাইলে ১৮ শতাংশ জায়গা কিনে নিজেদের জায়গায় ব্যবসা শুরু করে নীট কনসার্ন। এরপর থেকেই শুরু হয় তাদের জমি দখলের খেলা। স্থানীয়দের অভিযোগ নীট কনসার্ন এখানে কারখানা প্রতিষ্ঠিত করার পর থেকেই আশে পাশের জমির মালিকের উপর চালানো হয় নির্যাতন। তাদের বাধ্য করা হয় তাদের জমি কম দামে ছেড়ে দিতে। তা না হলে একের পর এক বাহিনী এসে শুরু করে টর্চার।
যারফলে জীবন বাঁচাতে কম দামে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন আশে পাশের জমির মালিকগণ। এখন সেখানে বিশাল এরিয়া দখল করে সম্রাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে নীট কনসার্ন গ্রুপ। অন্যদিকে এই কারখানার পাশ ঘেঁষে চলে গেছে রেল লাইন। যেখান দিয়ে নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়া রেল স্টেশন থেকে একটি রেল লাইন চলে গেছে গোদনাইল বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের দিকে এবং সেখান থেকে আরও একটি লাইন চলে গেছে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জুট মিলস আদমজী জুট মিলসের ভিতর।
সূত্র জানায় ২০১৯ সালে চাষাঢ়া-আদমজীর এই রেল লাইনের উপর ১শ’ ১৩ কোটি ৫১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের সদস্য শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের মাতা ভাষা সৈনিক বেগম নাগিনা জোহার নামে ৬.৫৮ কিলোমিটার একটি সড়ক নির্মাণ শুরু হয়। কিন্তু এই সড়কের পাঠানটুলি এলাকার নীট কনাসার্ন গ্রুপের পাশের অংশটি জবরদস্তি করে দখল করে রাখে নীট কনসার্ন গ্রুপ। সে সময় এই সড়কটি নির্মাণের দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) বেশ কয়েবার নীট কনসার্ন গ্রুপকে অবৈধ দখল ছেড়ে দেওয়ার আহবান জানালেও সেই ওসমান পরিবারের সদস্যদের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে সওজের প্রস্তাবকে কোন পাত্তাই দেয়নি তারা।
তাই সড়কটি নির্মাণে বেশ কিছু সময় নষ্ট হয় বলে সে সময় সওজের একাধিক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। যা বিভিন্ন মিডিয়ায় এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রকাশ পায়। পরে নীট কনসার্নের ক্ষমতার কাছে হার মানতে বাধ্য হয় সওজ। তারা সড়কের পশ্চিম পাশে থাকা সাধারণ জনসাধারণের বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে রাস্তাটি যতটুকু সম্ভব প্রসস্ত করতে পারলেও নীট কনসার্নকে সেখান থেকে সরাতে পারেননি। এমনকি সওজের নাকের ওপর অর্থাৎ সড়কটির পূর্ব পাশে নীট কনসার্ন নতুন করে দেয়াল নির্মাণ করে। যেখানে রেলওয়ের জমি দখল আছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাইতো জেলেপাড়া পুলের দক্ষিণ পাশে ব্রিজটি পার হয়েই সড়কটি হঠাৎ করেই পশ্চিম দিকে বাক নেয় সড়কটি এবং নীট কনসার্নের সীমানা পার হয়েই আবার পূর্ব দিকে বাঁক নিয়েছে তা। যা এখনও সরেজমিনে সেখানে গিয়ে দেখলেই বুঝা যায়।


