পরিবহন সেক্টর দখল নিতে মাফিয়ারা বেপরোয়া
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:০২ পিএম
নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও বন্ধন পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ নিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে দুই মাফিয়া গ্রুপ। বিগত দিনের শামীম ওসমান বাহিনীর মতোই পরিবহন সেক্টর দখল করে মোটা অংকের চাঁদাবাজি করতেই সন্ত্রাসী ডেবিডের ভাই মহানগর বিএনপির সদস্য মাহাবুব উল্লাহ তপন ও ভাগিনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন রানা বাহিনী ও জাকির খানের সমর্থিত বন্ধন বাসের দাবী করা দেলোয়ার ও জাকির খান মুক্তি পরিষদের আহ্বায়ক সলিমুল্লাহ করিম সেলিম ওরফে (দাদা সেলিম) বাহিনীর সদস্যরা।
তারা এই বাস টার্মিনাল দখল করে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আবারো সেই বিগত দিনের মতোই সিন্ডিকেট করে চাঁদা তোলার পায়তারায় মগ্ন হয়ে পরেন। যা দিয়ে গত রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের বিএনপির এই দুই পরিবহন চাঁদাবাজ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই দফায় প্রায় ২ ঘন্টা সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া, এলোপ্যাথারী গুলি বর্ষণ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ১নং, ২নং রেল গেইট, টানবাজার ও লঞ্চ টার্মিনাল এলাকা। এ সংঘর্ষে শ্রমিক ইউনিয়নের দুই নেতাসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। দুই পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে সংঘর্ষে। এসময় ঘটনাস্থলের চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যান যানবাহন চলাচল। পরে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনকে আটক করে।
সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সিটি বন্ধন পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ নিতে সাবেক বিএনপি নেতা মোমিনুল্লাহ ডেবিডের ছোট ভাই মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মাহবুব উল্লাহ তপন ও ভাগিনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানার নেতৃত্বে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মমিনুর রহমান বাবু, বন্ধন বাসের সাবেক নেতা হাসানুর রহমান, বিএনপি নেতা কাশেম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান সুমন ওরফে টোকাই সুমন,
বাস মালিক রুহুল আমিনসহ স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে শো-ডাউন ও বন্ধন পরিবহনের কাউন্টার দখল করে সেখানে ঘোষণা দিচ্ছেন তিনি ৩২ জন বন্ধন বাস মালিকের সাক্ষরের মাধ্যমে তিনি বর্তমান এমডি হয়েছেন। সেই ঘোষণার পরপরই সেখানে মিলাদ ও দোয়া-মোনাজাত করে সেখানে নেওয়াজ বিতরণ করেন। এদিকে তপন-রানা গ্রুপের শোডাউনের খবরে দুপুর ২টায় কারাবন্দি জাকির খানের সমর্থিত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া ও জাকির খান মুক্তি পরিষদের আহ্বায়ক সলিমুল্লাহ করিম সেলিম ওরফে (দাদা সেলিম) এর নেতৃত্বে জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজা,
জেলা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এইচএম হোসেন, মহানগর যুবদল নেতা লিংকন খান, দেওভোগের সনেট আহমেদ, জেলা যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি পারভেজ মল্লিকসহ শতাধিক নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে প্রবেশ করে। সে সময় মহানগর স্বেচছাসেবক দলেল আহ্বায়খ শাখাওয়াত হোসেন রানা ও মহনগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মমিনুর রহমান বাবু ধর বললেই স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা প্রথমে জাকির খান গ্রুপের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করলেই তারা পাল্টা হামলা চালায় এক পর্যায়ে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
সে সময় উভয় পক্ষ লাঠিসোঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে সময় মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন রানা পিস্তল উঁচু দিকে তাক করে ২ রাউন্ড গুলি ছুঁড়লেই সকলে ছত্রভঙ্গ হয়ে পরে। এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন পরিবহন কার্যালয়ে ভাংচুর চালিয়ে নেতাদের মারধর ও বন্ধন পরিবহনের কাউন্টার করেন তপন ও রানা গ্রুপের সদস্যরা। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে মহানগর বিএনপির সদস্য মাহবুব উল্লাহ তপন ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন রানা, বন্ধন বাসের সাবেক নেতা হাসানুর রহমান, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মমিনুর রহমান বাবু ভিতরে বসে সদর থানা জুড়ে পুরো নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ঘেড়াও দিয়ে। ঢালাউভাবে জাকির খান বলয়ের সকলের বিরুদ্ধে মামলার নথি তৈরি করতে থাকলে সে সময় ২ গাড়ি সেনাবাহিনী সেখানে উপস্থিত হয়। কিন্তু সে সময় থমথমে পরিস্থিতি দেখতে পেয়ে সেনাবাহিনী সেখান থেকে চলে যায়।
পরবর্তীতে বিকেল ৩ টায় বন্দর ১ নং খেয়াঘাটে বাবুরাইল, দেওভোগ থেকে বহু বহিরাগতরা এসে জড়ো হতে থাকে এক পর্যায়ে বন্দরের ওইপাড় থেকে টর্লার যোগে বহু বহিরাগত লোকজন সেখানে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে মিছিল নিয়ে হাতে লাঠি-রাম-দা-চাপাতি-পিস্তল নিয়ে তপন-রানার গ্রুপকে ধাওয়া দিলে এক পর্যায়ে তারা ও ধরালো অস্ত্র নিয়ে থানার সামনেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। কিন্তু এবার জাকির খান বলয়ের লোক বেশি হওয়ায় তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। সর্বশেষ অস্ত্র নিয়ে শোডাউনের মাধ্যমে পুরো বাস স্ট্যান্ড দখলে নেয় জাকির খান গ্রুপের লোকজন। সেই সময় সেনাবাহিনীর ৮ টি গাড়ি সেখানে উপস্থিত হয়েই লাঠি র্চাজের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ে আসেন একই সাথে ৮ জনকে আটক করে সদর থানা পুলিশের নিকট সোর্পদ করেন।
আরো জানা গেছে, গত ০৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতন ঘটলে মহানগর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব ফারুক হোসেন বাস টার্মিনাল এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও বন্ধন বাসসহ পরিবহন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরবর্তীতে তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় তিনি বাসের সেক্টরে সরাসরি ঢুকলে বিষয়টি খারাপ দেখাই সেই কারণে তিনি জাকির খানের দুই অনুসারী লিটন ও দেলোয়ারের মাধ্যমে এ পরিবহন দখল করে তাদেরকে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বানান। জানা গেছে, মালিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাক্ষর নিয়ে তারা এখন পদে বসে চালাচ্ছেন পরিবহন।
বন্ধন পরিবহন ও পাশে থাকা শ্রমিকদের একটি কার্যালয়ে দিনরাত বসে থেকে মালিকদের নানা ধরনের হুমকি দিতে শুরু করেছে। এতে করে অনেক বাস মালিক এখন কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। একই সাথে বন্ধন পরিবহনে ৫২টি বাস রয়েছে। এসব বাসের প্রতিটি থেকে দৈনিক ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বিভিন্ন খাতে চাঁদা হিসেবে নিচ্ছিলেন এই লিটন ও দেলোয়ার। যেখান থেকে মোটা অংকের ভাগ পেতেন মহানগর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব ফারুক হোসেন। একই সাথে জাকির খান মুক্তি পরিষদের আহ্বায়ক সলিমুল্লাহ করিম সেলিম ওরফে (দাদা) সেলিম, জাকির খানের ভাই লিংকন খান, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়াসহ আরো অনেকেই।
বর্তমানে সেই সাবেক বন্ধন বাসের চেয়ারম্যান মাহবুব উল্লাহ তপন সেই বিগত দিনের মতো চাঁদাবাজি করতে আবারো উঠে পরে লেগেছে। আর তারা ও তাদেরকে সেই জাকির খানের গ্রুপের মতোই স্বঘোষিত চেয়ারম্যান হিসেবে দাবি করছেন। তা ছাড়া বন্ধন বাসের কাউন্টার দখল করে সেখানে বন্ধনের আগে থাকা সিটি লিখাটি কালো কালি দিয়ে মুছে ফেলেন। আর তার ভাগিনা রানা ওরফে ছোট ডেবিটের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের দিয়ে সেই জাকির খানের গ্রুপের মতোই দখলে নিতে মরিহা হয়ে হয়ে উঠেন এরা।
এর আগে আওয়ামীলীগ সরকার আমলে বন্ধন পরিবহন নাম পরিবর্তন করে সিটি বন্ধন পরিবহনের নামে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের চলাচল শুরু করে। এর আগে ক্রসফায়ারে নিহত যুবদল নেতা মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভাই ও মহানগর বিএনপির সদস্য মাহবুব উল্লাহ তাপন বন্ধন পরিবহনের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন বন্ধন পরিবহন বিলুপ্ত করে সিটি বন্ধন পরিবহনের চেয়ারম্যান হন।
পরবর্তীতে পরিবহনের এমডি ও কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আইয়ূব আলীর নিয়ন্ত্রণে বাস চলাচল করে। ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর থেকেই বিএনপির দুই পরিবহন চাঁদাবাজ গ্রুপ পরিবহনটি দখলের চেষ্টা চালাতে থাকে। বর্তমানে দুই গ্রুপই চায় পরিবহন মাফিয়া মরিহা হয়ে উঠেছে। তা ছাড়া ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের মালিকানাধীন জেড এন কর্পোরেশনের আওতাধীন শীতল পরিবহনের প্রায় ৪০টি বাস আগুনে পুড়ে ফেলেন দুর্বৃত্তরা।
সর্বশেষ ৫টি বাস থাকলে ৪ আগষ্টের আন্দোলনে সেগুলোর গ্লাস ভেঙে যায় পরবর্তীতে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন রানা সেই বাসগুলো ঠিকঠাক করে শীতল বাসের কাউন্টার দখল করে সেখানে গ্রীন ঢাকা নামে অবৈধ বাস চালু করেন। যার কোন রোড পারর্মিট নেই, একই সাথে বাধঁন পরিবহন, আর বর্তমানে বন্ধন নিয়ন্ত্রণে নিতে উঠে পরে লেগেছে। এদিকে মাহবুব উল্লাহ তপন, শাখাওয়াত হোসেন রানা,হাসানুর রহমান,
বাব,ু রুহুল আমিন, সুমন, কাশেমসহ আরো অনেকেই বন্ধন বাস দখলে নিতে গেলে সেখানকার বাস মালিকরা তাদের প্রতিহত করেছেন বলছেন বন্ধন বাসের নয়া এমডি দাবী করা জাকির খান সমর্থিত দেলোয়ার। বাস মালিকদের দাবী আমরা চাই চাঁদামুক্ত পরিবহন শামীম ওসমানের মতো যাতে কোন চাঁদাবাজ আবারো এখানে জোরপূর্বক না বসুক। বর্তমানে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী দখলে মরিহা হয়ে উঠেছে। পরিবহন সেক্টর দখল থেকে এই মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যৌথ বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষন করছেন বাস মালিকরা।


