Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বন্ধন পরিবহন দখল নিয়ে টার্মিনালে লঙ্কাকাণ্ড

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:১২ পিএম

বন্ধন পরিবহন দখল নিয়ে টার্মিনালে লঙ্কাকাণ্ড
Swapno

 

 

নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও বন্ধন পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই পরিবহন চাঁদাবাজ গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এতে দুই দফায় প্রায় ২ ঘন্টা সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া, এলোপ্যাথারী গুলি বর্ষণ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় চারপাশ। এ সংঘর্ষে শ্রমিক ইউনিয়নের দুই নেতাসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। দুই পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে সংঘর্ষে। এসময় ঘটনাস্থলের চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

 

বন্ধ হয়ে যান যানবাহন চলাচল। পরে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্খল থেকে ৮ জনকে আটক করে। গতকাল রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর থেকে বিকাল পর্যন্ত শহরের ১নং, ২নং রেল গেইট, টানবাজার ও লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় দফায় দফায় এ রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।


সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সিটি বন্ধন পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ নিতে সাবেক বিএনপি নেতা মোমিনুল্লাহ ডেবিডের ছোট ভাই মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মাহবুব উল্লাহ তপন ও ভাগিনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানার নেতৃত্বে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মমিনুর রহমান বাবু,

 

 বন্ধন বাসের সাবেক নেতা হাসানুর রহমান, বিএনপি নেতা কাশেম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান সুমন ওরফে টোকাই সুমন, বাস মালিক রুহুল আমিনসহ স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে শো-ডাউন ও বন্ধন পরিবহনের কাউন্টার দখল করে সেখানে ঘোষণা দিচ্ছেন তিনি ৩২ জন বন্ধন বাস মালিকের সাক্ষরের মাধ্যমে তিনি বর্তমান এমডি হয়েছেন। 

 

সেই ঘোষণার পরপরই সেখানে মিলাদ ও দোয়া-মোনাজাত করে সেখানে নেওয়াজ বিতরণ করেন। এদিকে তপন-রানা গ্রুপের শোডাউনের খবরে দুপুর ২টায় কারাবন্দি জাকির খানের সমর্থিত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া ও জাকির খান মুক্তি পরিষদের আহ্বায়ক সলিমুল্লাহ করিম সেলিম ওরফে (দাদা সেলিম) এর নেতৃত্বে শতাধিক নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে প্রবেশ করে।

 

 তখনই শাখাওয়াত হোসেন রানা বলে ওদের ধর তখনই দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সে সময় উভয় পক্ষ লাঠিসোঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একে অপরের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। সে সময় মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানা পিস্তল উঁচু দিকে তাক করে ২ রাউন্ড গুলি করলেই সকলে ছত্রভঙ্গ হয়ে পরে। সংঘর্ষ চলাকালে পরিবহনের কাউন্টারে থাকা বাস মালিক রুহুল আমিনসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়।

 

 এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন পরিবহন কার্যালয়ে ভাংচুর চালিয়ে নেতাদের মারধর ও বন্ধন পরিবহনের কাউন্টার করেন তপন ও রানা গ্রুপের সদস্যরা। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে মহানগর বিএনপির সদস্য মাহবুব উল্লাহ তপন ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন রানা, বন্ধন বাসের সাবেক নেতা হাসানুর রহমান, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মমিনুর রহমান বাবু ভিতরে বসে সদর থানা জুড়ে পুরো নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ঘেড়াও দিয়ে।

 

 ঢালাউভাবে জাকির খান বলয়ের সকলের বিরুদ্ধে মামলার নথি তৈরি করতে থাকলে সে সময় ২ গাড়ি সেনাবাহিনী সেখানে উপস্থিত হয়। কিন্তু সে সময় থমথমে পরিস্থিতি দেখতে পেয়ে সেনাবাহিনী সেখান থেকে চলে যায় তাদের টিম আরো নিয়ে আসার লক্ষে সে সময় বিকেল সাড়ে ৩ টায় বন্দর ১ নং খেয়াঘাটে বাবুরাইল, দেওভোগের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকে এক পর্যায়ে বন্দরের ওইপাড় থেকে টর্লার যোগে বহু বহিরাগত লোকজন সেখানে উপস্থিত হন। 

 

পরবর্তীতে মিছিল নিয়ে হাতে লাঠি-রাম-দা-চাপাতি-পিস্তল নিয়ে তপন-রানার গ্রুপকে ধাওয়া দিলে এক পর্যায়ে তারা ও ধরালো অস্ত্র নিয়ে থানার সামনেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। কিন্তু এবার জাকির খান বলয়ের লোক বেশি হওয়ায় তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। সর্বশেষ অস্ত্র নিয়ে শোডাউনের মাধ্যমে পুরো বাস স্ট্যান্ড দখলে নিয়ে আসে জাকির খান গ্রুপের লোকজন। সেই সময় সেনাবাহিনীর ৮ টি গাড়ি সেখানে উপস্থিত হয়েই লাঠি র্চাজের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ে আসেন একই সাথে ৮ জনকে আটক করে সদর থানা পুলিশের নিকট সোর্পদ করেন।

 

আরো জানা গেছে, গত ০৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতন ঘটলে মহানগর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব ফারুক হোসেন বাস টার্মিনাল এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও বন্ধন বাসসহ পরিবহন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরবর্তীতে তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় তিনি বাসের সেক্টরে সরাসরি ঢুকলে বিষয়টি খারাপ দেখাই সেই কারণে তিনি জাকির খানের দুই অনুসারী লিটন ও দেলোয়ারের মাধ্যমে এ পরিবহন দখল করে তাদেরকে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বানান।

 

 জানা গেছে, মালিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাক্ষর নিয়ে তারা এখন পদে বসে চালাচ্ছেন পরিবহন। বন্ধন পরিবহন ও পাশে থাকা শ্রমিকদের একটি কার্যালয়ে দিনরাত বসে থেকে মালিকদের নানা ধরনের হুমকি দিতে শুরু করেছে। এতে করে অনেক বাস মালিক এখন কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। একই সাথে বন্ধন পরিবহনে ৫২টি বাস রয়েছে। 

 

এসব বাসের প্রতিটি থেকে দৈনিক ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বিভিন্ন খাতে চাঁদা হিসেবে নিচ্ছিলেন এই লিটন ও দেলোয়ার। যেখান থেকে মোটা অংকের ভাগ পেতেন মহানগর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব ফারুক হোসেন। একই সাথে জাকির খান মুক্তি পরিষদের আহ্বায়ক সলিমুল্লাহ করিম সেলিম ওরফে (দাদা) সেলিম, জাকির খানের ভাই লিংকন খান, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়াসহ আরো অনেকেই।

 

বর্তমানে সেই সাবেক বন্ধন বাসের চেয়ারম্যান মাহবুব উল্লাহ তপন সেই বিগত দিনের মতো চাঁদাবাজি করতে আবারো উঠে পরে লেগেছে। আর তারা ও তাদেরকে সেই জাকির খানের গ্রুপের মতোই স্বঘোষিত চেয়ারম্যান হিসেবে দাবি করছেন। তা ছাড়া বন্ধন বাসের কাউন্টার দখল করে সেখানে বন্ধনের আগে থাকা সিটি কালি দিয়ে মুছে ফেলেন। আর তার ভাগিনা রানা ওরফে ছোট ডেবিটের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের দিয়ে সেই জাকির খানের গ্রুপের মতোই দখলে নিতে মরিহা হয়ে রয়েছে এরা। 

 

এর আগে আওয়ামীলীগ সরকার আমলে বন্ধন পরিবহন নাম পরিবর্তন করে সিটি বন্ধন পরিবহনের নামে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের চলাচল শুরু করে। এর আগে ক্রসফায়ারে নিহত যুবদল নেতা মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভাই ও মহানগর বিএনপির সদস্য মাহবুব উল্লাহ তাপন বন্ধন পরিবহনের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন বন্ধন পরিবহন বিলুপ্ত করে সিটি বন্ধন পরিবহনের চেয়ারম্যান হন। 

 

পরবর্তীতে পরিবহনের এমডি ও কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আইয়ূব আলীর নিয়ন্ত্রণে বাস চলাচল করে। ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর থেকেই বিএনপির দুই পরিবহন চাঁদাবাজ গ্রুপ পরিবহনটি দখলের চেষ্টা চালাতে থাকে। বর্তমানে দুই গ্রুপই চায় পরিবহন মাফিয়া মরিহা হয়ে উঠেছে। তা ছাড়া ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের মালিকানাধীন জেড এন কর্পোরেশনের আওতাধীন শীতল পরিবহনের প্রায় ৪০টি বাস আগুনে পুড়ে ফেলে ন দুর্বৃত্তরা।

 

 সর্বশেষ ৫টি বাস থাকলে ৪ আগষ্টের আন্দোলনে সেগুলোর গ্লাস ভেঙে যায় পরবর্তীতে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন রানা  সেই বাসগুলো ঠিকঠাক করে শীতল বাসের কাউন্টার দখল করে সেখানে গ্রীন ঢাকা নামে অবৈধ বাস চালু করেন। যার কোন রোড পারর্মিট নেই, একই সাথে বন্ধু পরিবহন, আর বর্তমানে বন্ধন নিয়ন্ত্রণে নিতে উঠে পরে লেগেছে। এদিকে মাহবুব উল্লাহ তপন, শাখাওয়াত হোসেন রানা, রুহুল আমিন, কাশেমসহ আরো অনেকেই বন্ধন বাস দখলে নিতে গেলে সেখানকার বাস মালিকরা তাদের প্রতিহত করেছেন বলছেন স্বঘোষিত দখলদার এমডি দেলোয়ার। বাস মালিকদের দাবী আমরা চাই চাঁদামুক্ত পরিবহন শামীম ওসমানের মতো যাতে কোন চাঁদাবাজ আবারো এখানে জোরপূর্বক না বসুক। বর্তমানে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী দখলে মরিহা হয়ে উঠেছে যা আগামীতে রাহুত্রাস পাচ্ছে।


এদিকে ঘটনাস্থলে জাকির খান বলয়ে সিটি বন্ধন বাসের বর্তমানে এমডি দাবী করা দেলোয়ার হোসেন বলেন, মাহাবুব উল্লাহ তপন তার সবগুলো গাড়ি বিক্রি করে স্ট্যান্ড থেকে চলে যায়। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশটা যখনই স্বাধীনতার সূর্য দেখে। এর পরপর আমাকে বন্ধন বাসের সকল মালিকরা আমাকে সমর্থন দিয়ে  এমডির পথে বসায়। এর পরই আমাদের অফিস দখলে নিতে আসে সেই তপন-রানা-রুহুল আমিন, কাশেম, হাসানুর রহমানসহ আরো অনেকেই। মালিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের দখল করতে দেয়নি। বর্তমানে মিথ্যা-মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করে স্ট্যান্ড দখলে তারা মরিহা হয়ে উঠছে। গত ২৭ তারিখে ও আমার নামে ও আমার চেয়ারম্যানের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।

 

তিনি বলেন, আমরা কোন রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না আমরা সাধারণ মালিক। এর আগে মিশনপাড়ায় এই তপন ও রানার লোকেরা বন্ধন বাস আটকিয়ে দিলে আমরা সদর থানায় গেলে সেখানে গিয়ে দেখি নতুন ওসি সাত্তার সাহেব যিনি তপনের মামা শশুর ছিলো। যার কারণে তিনি আমাদের কোন মামলা ও অভিযোগ নেয়নি। কিন্তু আমাদের নামে যথন মিথ্যা মামলা দেয় তখন আমি বাদীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন আপনাদের আমি চিনি না আপনাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দলের রানা। আর আজকে তারা আমাদের বাস দখল করলে আমরা সাধারণ মানুষ তাদের প্রুতিরোধ করেছি।
এ বিষয়ে আরেক পক্ষ মাহবুব উল্লাহ তপন বলেন, আমরা বাস মালিকরা আগের নামে বাস চালু করেছিলাম। কিন্তু আমাদের উপর হামলা করে জাকির খানের সমর্থকরা। তারা অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করে। তাদের হামলায় আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

 

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, নিজের শক্ত অবস্থান ধরে রাখার জন্য বন্ধন পরিবহনের ২ গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। সকালে এক গ্রুপের সঙ্গে আলোচনার জন্য বসেছিলাম। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিলো। কিন্তু পরে আরেক গ্রুপ এসে ধাওয়া দেওয়ায় আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ এবং সেনাসদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে কাজ করেছে। যৌথবাহিনীর সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বতর্মানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন