নৌ-পথে সবুজ সিকদারের চাঁদাবাজি শোখনের দখলে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:১৪ পিএম
বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ নৌ-পথের সকল চাঁদাবাজির মূলহোতা ছিলেন চাঁদাবাজ সবুজ সিকদার। শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত শুক্কুর মাহমুদের ছত্রছায়ায় শীতলক্ষ্যা নদীতে চাঁদাবাজির রাম রাজত্ব কায়েম শুরু করেন সবুজ সিকদার ও তার বাহিনী। পরে শ্রমিকলীগ থেকে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের নামে প্রতি মাসে শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা নিতেন এই চাঁদাবাজ সবুজ সিকদার।
এক সময়ের বাবুচি জেলা ও মহানগর শ্রমিকলীগের বড় বড় নেতাদের নাম বিক্রি করে চাঁদাবাজি করে হয়েছেন কোটি টাকার মালিক। নগরীর ৫নং ঘাট এলাকায় গড়ে তুলের চাঁদাবাজির একটি কক্ষ। সেখানে বসেই বিভিন্ন কার্গো জাহাজের মাস্টার, সুকানি, ড্রাইভারদের উপর চলাতেন বর্বর নির্যাতন। কেউ চাঁদা দিতে রাজি না হলে তার চাঁদাবাজ বাহিনীদের দিয়ে ৫নং ঘাট এলাকায় এনে তাকে মারধর করা হতো। জানা যায, শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন শত কার্গো জাহাজ চলাচল করে।
এসব জাহাজ থেকে প্রতিদিনই ব্যাপক চাঁদাবাজি করে থাকে সবুজ সিকদার বাহিনীর লোকজন। ৩ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক চাঁদা হাতিয়ে নিতো এই চাঁদাবাজরা। কিন্তু গত ৫ই আগস্টের পরে চাঁদাবাজ সবুজ সিকদারের জায়গাটি দখল করে নেন বিএনপি নেতা মনোয়ার হোসেন শোখন। সেই সবুজ সিকদারের টর্চাল সেলের রুমেই চাঁদাবাজি শুরু করেন মনোয়ার হোসেন শোখন। জানা যায়, সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর পরই সবুজ সিকদারের কিছু চাঁদাবাজ বাহিনীদের নিয়ে সেই ৫নং ঘাট এলাকা দখলে নেন শোখন।
বর্তমানে নিজেকে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে দাবি করছেন বিএনপি নেতা মনোয়ার হোসেন শোখন। এবিষয়ে নৌ-পথে চলাচলকারি অনেক কার্গো জাহাজের মাস্টার ও সুকানি বলেন, ভাবছি দেশে আর কোন চাঁদাবাজ থাকবে না। কিন্তু একজন যাওয়ার পরে আর একজন এসে তার জায়গা দখল করেছে। ৫নং ঘাটে যেই চাঁদাবাজি হয় সেটি এখন শোখন করছে। সবুজ সিকদার নেই কিন্তু তার চাঁদাবাজ কিছু বাহিনী আছে। তাদের মাধ্যমে বিএনপি নেতা মনোয়ার হোসেন শোখন চাঁদাবাজি করছে। আমরা এই সকল চাঁদাবাজদের হাত থেকে মুক্তি চাই।


