দুর্ধর্ষ লিটন সাহার সকল অপকর্ম ঢাকছেন মোজাম্মেল হক
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:৩৩ পিএম
ওসমানদের পটেকম্যান হিসেবে পরিচিত ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহার অপকর্ম ঢাকছেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হক। ওসমানদের খুশি করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আয়োজন করে বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ করেন লিটন সাহা। কিন্তু সেই টাকা গত আড়াইবছরেও পরিশোধ করেননি লিটন সাহা। অবৈধ বন্ড সুতা বিশাল চক্র, ব্যাপক চাঁদাবাজি করলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নাজেহাল করা ছাড়েননি লিটন সাহা।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনের সেই বিশাল খরচ এখন ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছেন লিটন সাহার ঘনিষ্ঠভাজন মোজাম্মেল হক এমন অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। তারা বলছেন, বেশ কয়েকটি হত্যা মামলার আসামি হওয়ার কারণে ফেরারি হয়ে আছেন লিটন সাহা। তার অবর্তমানে তাকে দূর থেকে সাহস, বুদ্ধি পরামর্শ দিচ্ছিলেন মোজাম্মেল হক। সরকারের পটপরিবর্তনের পর ধারাবাহিকভাবে লিটন সাহা ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের নামে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।
তুলে ধরা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ক্ষুদ ব্যবসায়ীেেদর পাওনা টাকার বিষয়টি। এখন লিটন সাহার পরামর্শে সেই টাকা পরিশোধের জন্য ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের এফডিআর ভেঙে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে, এতে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সংগঠনের সদস্যদের। তারা বলছেন, মোজাম্মেল হক এমন কাজ কোনভাবেই করতে পারেননা। নানাসময় নানা ছুতোয় ব্যবসায়ীদের উপর চাঁদাবাজির খড়গ চালিয়েছেন লিটন সাহা।
কখনো বিদেশে খেলা দেখার ছুতোয়, কখনো ভাই রামু সাহার নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে নির্বাচনের খরচ যোগানো আবার কখনো বা ওসমানদের দোহাই দিয়ে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে থাকার কথা মাত্র সংগঠনের ৭০০ সদস্য। কিন্তু সেখানে ২ থেকে ৩ হাজার লোককে আমন্ত্রণ করা হয়েছে, বিলাসিতা দেখানো হয়েছে ওসমানদের খুশি করতে। এখন সেই টাকা পরিশোধ করতে সংগঠনের এফডিআর ভেঙে পরিশোধ করছেন লিটন সাহার ঘনিষ্ঠ মোজাম্মেল হক। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি কোনভাবেই সংগঠনের জন্য সুবাতাস বয়ে আনতে পারেনা। লিটন সাহার অতীত কুকর্মের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন এই মোজাম্মেলক হক।
সূত্র জানিয়েছে, দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে দলটির নেতাকর্মীদের বেপরোয়া আচরণ এবং বেআইনি কর্মকাণ্ডে জীবন ছারখার হয়েছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। শুধু বিরোধী মত বা দলের নেতাকর্মীরাই নন, আওয়ামী লীগের অত্যাচার ও নিপীড়ন থেকে রেহাই পাননি দেশের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ীসহ বহু ব্যাবসায়ী সংগঠন। সারা দেশের সাথে তাল মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।
আর সেই ব্যাবসায়ী সংগঠনের নিবার্চন বন্ধ করে গত দেড় যুগ যাবৎ কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন তাদের সাথে থাকা কিছু ওসমানী প্রেত্মাতাদের মাধ্যমে। তবে সরকারের দমনমূলক মনোভাবের কারণে মুখ ফুটে সেসব কথা বলার সাহসটুকুও হয়নি ভুক্তভোগীদের। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সামনে আসছে এমন অজস্র কাহিনি। এদিকে নারায়ণগঞ্জের টানবাজারের সুতা ও ডাইস এন্ড কেমিক্যাল ব্যাবসায়ীদের আস্থার সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল ডাইজ এন্ড কেমিক্যাল মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের নাম করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তুলেছিলেন সভাপতি লিটন সাহ ও সিনিয়র সহসভাপতি মোজাম্মেলক হক।
কিন্তু এফবিসিসিআইর অনুমোদন আনতে পারেননি। এই সংগঠনের নাম করে বিপুল পরিমাণ টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। অথচ এই সংগঠন করার পেছনে ভিন্ন কাহিনী ছিল। সাময়িক সময়ের জন্য ওসমানদের কাছ থেকে লাথি খেয়ে যখন দিশেহারা লিটন সাহা। তখন এই সংগঠন করার দায়িত্ব নেয় লিটন সাহা ও মোজাম্মেল হক। পরবর্তীতে হাতে-পায়ে ধরে লিটন সাহা ইয়ার্ন মার্চেন্টে ফিরলেও ওই সংগঠনের অনুমোদনের জন্য নেয়া টাকা ফেরত দেননি তারা। সূত্র জানিয়েছে, দুটি সংগঠনে বিগত দিন থেকেই তদারকি করতেন ইয়ান মাচেন্টের সভাপতি লিটন সাহা ও মোজাম্মেল হক ওরফে (হক সাব)। এরা দুইজন শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের নামে সংগঠনগুলোর বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় নারায়ণগঞ্জের ওসমানদের মাধ্যমে বিকেএমইএ, চেম্বার অব কমার্স, ইয়ার্ন মাচেন্ট এসোসিয়েশনের যোগসাজসে টানবাজারের ঐতিহ্যকে ধ্বংস করে দিয়েছে (বন্ড সুতার) চোরাই সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী ও সংগঠনের নামে বেনামে চাঁদাবাজি অবৈধ এলসির মাধ্যমে বিসাক্ত ক্যামিকেল আদান প্রদান, রংয়ের লাইসেন্সে ক্যামিকেল ব্যবসা করার অনুমোদন, দোকানে দোকেন মাসিক মাসোয়ারাসহ বহু অপকর্মের সাখে জড়িত ইয়ার্ন মার্চেন্টে ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল ডাইজ এন্ড কেমিক্যাল মার্চেন্ট এসোসিয়েশন সভাপতি লিটন সাহা ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হক ওরফে (হক সাব)।
টানবাজার জুড়ে হেন অপকর্ম বাকি নেই যে তিনি করেননি। ওসমানদের নামে ক্ষমতার জোর দেখিয়ে বিভিন্ন স্পিনিং মিল ও নিটিং ব্যবসায়ীদের এলসির মাধ্যমে দেশের বাহির থেকে অবৈধ বন্ড সুতা বাজারে এনে তা খোলা বাজারে বিক্রি করার পিছনে পুরো হাতই ছিলো এই লিটন সাহা ও মোজাম্মেল হকের। তা ছাড়া ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল ডাইজ এন্ড কেমিক্যাল মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের নামে সংগঠন খুলে ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে নিতেন মোটা অংকের চাঁদা।
এদিকে লিটন সাহা ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদার জন্য প্রকাশ্যে ফোর্স না করলে ও এই মোজাম্মেল হকের মাধ্যমে বিভিন্ন থ্রেট দিতেন তিনি। তা ছাড়া জানা গেছে, সর্বশেষ আওয়ামী লীগের পতনের পূর্বে লিটন সাহা ও মোজাম্মেল যোগসাজস করে প্রায় ৬০ লাখ টাকার উপরে লুটপাট করেছেন বলে দাবি সূত্রের। তা ছাড়া সকলেই লিটন সাহাকে দুষলেও লম্বা, পাঞ্জাবী পড়িত সাদা দাড়িঁ রেখে তার অড়ালে নীরবে চাঁদাবাজির মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই মোজাম্মেল হক।
সেই সুবাদে বর্তমানে লিটন সাহা পালিয়ে গেলে ও বহাল তবিয়তে রয়েছে এই মোজাম্মেল হক। বর্তমানে ও ইয়ার্ন মাচেন্টের নামে মাসিক চাঁদাসহ লিটন সাহা লগ্নি করা টাকা তুলছেন এমনটাও জানিয়েছে একটি ব্যাবসায়ীক সূত্র। সূত্র জানিয়েছে, এখন হত্যা মামলায় পলাতক লিটন সাহা চলে যাওয়ায় ইয়ার্ন মার্চেন্টের দায়িত্ব নিয়ে লোক পরিবর্তন করে এন.বি ইয়ার্ন টেড্রিংয়ের মালিক সমীর সাহাকে দিয়ে আবারো দোকানে দোকানে চাঁদাবাজি চালু রেখেছেন। সেই পুরনো কায়দায় লিটন সাহার মতোই কথায় কথায় চাঁদাবাজি পরিচালনার কিং মেকার এই কথিত (হক সাব)।
তা ছাড়া জানা গেছে, টানবাজারে অসংখ্য ডাইজ এন্ড কেমিক্যালের দোকান রয়েছে। এসব দোকানে কোনো ধরনের সতর্কতা অবলম্বন না করেই অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে বিপজ্জনক কেমিক্যাল। তা ছাড়া ও লাইসেন্স না নিয়েই অনেক খুচরা ব্যবসায়ী কেমিক্যাল বিক্রি করছেন। এমনকি কাঠ ও জুতার মতো কম দামি কেমিক্যালের ছাড়পত্রে আমদানি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের অতি দাহ্য রাসায়নিক। কোনো কোনো অসাধু ব্যবসায়ী গোপনে গান পাউডারও বিক্রি করছেন। তার পাশাপাশি সরকারের নীতিমালা না মেনে কেমিক্যাল আমদানি করছেন ব্যাবসায়ীরা। বিগত দিনে এই বিষয় নিয়ে বহু জামেলা হলে সুরাহ করতেন লিটন সাহা ও এই মোজাম্মেল হক।
পরবর্তীতে প্রায় ৫০০ রং ও ক্যামিকেল দোকান থেকে চাঁদা তোলেন। এদিকে ক্যামিকেল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছেন এই মোজাম্মেল হক। বর্তমানে ইয়ার্ন মার্চেন্টে বসে বাংলাদেশ টেক্সটাইল ডাইজ এন্ড কেমিক্যাল মার্চেন্ট এসোসিয়েশন বন্ধ রেখে সেটার নামে ডাইজ ও ক্যামিকেল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছেন। সূত্র জানিয়েছে, লিটন সাহার অবর্তমানে এখন তাঁর ব্যক্তিগত কুকর্মের দায় চাপাচ্ছেন ব্যবসায়ীদের উপরে যার মাষ্টারমাইন্ড এই মোজাম্মেল হক। কেননা, যেসকল টাকার হিসাব লিটন সাহা খোদ ব্যবসায়ীদেরই জানাননি সেই টাকা সংগঠনের এফডিআর ভেঙে পরিশোধ করছেন মোজাম্মেল হক, এটি নিয়ে আবরো সমালোচনায় বিদ্ধ হলেন তিনি।


