যুবদলের সদস্য সচিবের টর্চার সেলে সিকিউরিটি গার্ডকে পিটিয়ে হত্যা
যৃুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম
যুবদলের সদস্য সচিবের টর্চার সেলে সিকিউরিটি গার্ডকে পিটিয়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহম্মেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা শহরের খানপুরের জোড়া টাংকির বাউন্ডারির ভিতরে থাকা টর্চার সেলে ধর্ষণের ভূয়া অভিযোগ তুলে হানিফ নামের এক সিকিউরিটি গার্ডকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কিশোরগ্যাং লিডার অভির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, যুবদলের সেই প্রভাবশালী নেতার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় বহু ব্যবসায়ীসহ অনেককেই এখানে তুলে এনে চর্টার সেলে টর্চার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে কিন্তু তার কেউ মারা না যাওয়ায় বিষয়টি ছড়াইনি। কিন্তু হানিফের হত্যার ঘটনায় বিষয়টি ধীরে ধীরে পরিষ্কার হচ্ছে।
গত সোমবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শহরের খানপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অধীনস্থ সংরক্ষিত এলাকা ওয়াসার জোড়া পানির টাংকির বাউন্ডারির ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। ওই সিকিউরিটি গার্ডকে বাড়ি থেকে মারধর করতে করতে নাসিকের ওয়াসার জোড়া পানির টাংকির ভেতরে নিয়ে এসে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে হানিফকে শহরের খানপুরস্থ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
এদিকে নিহত হানিফের বোন জয়নাব ওরফে রাবেয়া জানিয়েছেন, নিহত হানিফ খানপুরের ইতু ভিলায় সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতো। গত সোমবার দুপুরে হানিফ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। এসময় খানপুরের অভিসহ আরো কয়েকজন এসে হানিফকে লাথি মেরে বিছানা থেকে ফেলে দেয়। পরে হানিফের মাথা দেয়ালের সঙ্গে ঠুয়া দেয়। এরপর হানিফকে মারধর করতে করতে খানপুরে নাসিকের ওয়াসার জোড়া পানির টাংকির ভেতরে নিয়ে যায়। অভিসহ তার লোকজন জানায় হানিফ নাকি ১২-১৩ বছরের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। আমরা এটার সত্য মিথ্যা কিছু জানিনা। কিন্তু যে মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলা হচ্ছে সেই মেয়ে কিন্তু সুস্থ স্বাভাবিক। অথচ তারা আমার ভাইকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।
তিনি বলেছেন, হানিফকে তুলে আনার পরে অভি লোকজনের মাধ্যমে জোড়া পানির টাংকির নিচে আমাদেরকে ডেকে পাঠায়। তখন আমি ও আমার স্বামী ইবরাহিম সেখানে যাই। সেখানে অভি আমার স্বামী ইবরাহিমকেও চরথাপ্পড় মারে।আমার স্বামীর লুঙ্গি টেনে খুলে ফেলার চেষ্টা করে। আমাদেরকে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। সন্ধ্যার পরে আমরা খবর পাই আমার ভাই হানিফের লাশ খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে ছুটে এসে হানিফের লাশ দেখতে পাই।
তিনি আরো বলেন, হানিফের ৩ সন্তান রয়েছে। যার মধ্যে বড় সন্তানের বয়স ৬ বছর, মেঝ সন্তানের বয়স আড়াই বছর ও ছোট সন্তানের বয়স ৬ মাস। আমার ভাই যদি অপরাধী হয়েও থাকে দেশে তো আইন আদালত বিচার আছে। তাকে কেন এভাবে পিটিয়ে মারা হলো। এখন তার সন্তানরাতো না খেয়ে থাকবে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোরগ্যাং লিডার অভি খানপুরের এলাকা জুড়ে বিভিন্ন অপকর্ম, মাদক সেবন ও ব্যবসায় জড়িত থাকলেও তাকে সকলেই কিছু বলতে ভয় পেত। কারণ তিনি বিগত দিন থেকেই যুবদলের বিভিন্ন পোগ্রামে আসতেন তা ছাড়া সেই প্রভাবশালী যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহম্মেদের সাথে ও অনেকটাই সুসম্পর্ক ছিলো তার। যাকে ঘিরে শাহেদ আহম্মেদের এই লিস নেওয়া জায়গায় (আমাদের নারায়ণগঞ্জ) নামের সংগঠনের অফিস খুলতে দিয়েছিলেন তিনি। যেখানে কিশোরগ্যাং লিডাররা বসে আড্ডাসহ এটার আশপাশে থাকা বহু খালি রুম গুলোতে নানা অপকর্ম করে থাকেন। এটা দীর্ঘ কয়েকমাস যাবৎই বেশি চলছেন।
এতিকে নিহত হানিফের ভগ্নিপতি ইবরাহিম বলেন, দুপুরে আমার শালিকা ফোন করে জানায় আমার সমন্ধী হানিফকে মারধর করা হচ্ছে। আমি তখন কর্মস্থলে ছিলাম। পরে আমি বাসায় ছুটে এসে আমার সমন্ধীকে পাইনি। এরপর আমি আবার কর্মস্থলে ডিউটিতে চলে যাই। পরে বাসায় আসলে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে খানপুরে জোড়া পানির টাংকির বাউন্ডারি দেয়ালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে খানপুরের আজিম ভিলার অভি ও তার লোকজন আমাকে ধাপ্পড় মারে আমার লুঙ্গি টান দিয়ে খুলে ফেলার চেস্টা করে। আমাদেরকে গাল মন্দ করে নানা ধরনের হুমকী দেয়। তখন আমাদের কাছ থেকে টাকা পয়সা চায়। আমরা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করি। এরপর তারা হানিফকে একটি অটোতে তুলে। তখন আমরা সেখান থেকে চলে আসি।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির আহমদ জানান, ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যাক্তিকে পিটিয়ে মারার বিষয়টি ঘটেছে গতকাল। তদন্ত চলমান রয়েছে দ্রুতই অভিযুক্তদের গ্রেফতারের আওতায় এনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে বিগত দিনে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে খানপুর ওয়াসার জোড়া পানির টাংকির ভিতরে কোন প্রকারের লিস বা কিছুই দেওয়া হয়নি, সব সময় এখানে ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তারা থাকতেন তা ছাড়া সর্বদা এটার গেইট বন্ধসহ বাউন্ডারির ভেতরে কেউ প্রবেশ করতে পারতেন না। কিন্তু যখনই এই পানির ট্যাংকিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় নেওয়া হয় সে সময় সিটির আওতাধীন কিছু লোকবল এখানে সর্বদা থাকলে ও গত ৫ আগষ্টের পরবর্তীতে এই ওয়াসার পানির ট্যাংকি পুরোই খালি হয়ে পরে থাকে ভিতরে একটি এনজিউ কোম্পানীর অফিস ব্যতিত্ব আর কিছুই ছিলো না। কিন্তু পটপরিবর্তনের সিটি কর্পোরেশনের কাছ থেকে লিসের মাধ্যমে এই পানির ট্যাংকি মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহম্মেদ এমনটা জানিয়েছেন তিনি। তা ছাড়া সিটি কর্পোরশনের সিইও বা বর্তমান প্রশাসক কিভাবে এই সংরক্ষিত এলাকাকে লিস দিলেন তা নিয়ে উঠছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এদিকে বর্তমানে এই সংরক্ষিত এলাকায় ফুড কার্ট ব্যবসা ও ইনডোরের রমরমা ব্যবসা করছেন এই শাহেদ। যাকে ঘিরে এই পানির ট্যাংকির ভিতরে পথচারণা বেড়েছে এলাকার লোকজনসহ কিশোরগ্যাংদের। তা ছাড়া সেখানে ফুড কার্ট ও ইনডোর মাঠ তৈরি হওয়ায় সেখানে নিয়মিত হচ্ছে সংঘর্ষসহ নানা অনাকাঙ্খিত ঘটনা।
তা ছাড়া সূত্র জানিয়েছে, এখানে ভিতরে একটি টর্চার সেল রয়েছে যেখানে যুবদল নেতা শাহেদ বাহিনী যেখানে বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালনা করে থাকেন। তা ছাড়া বাউন্ডারির ভিতরে ও বাহিরে লাগাতার চলছে মাদক সেবন ও মাদক বিক্রি কিন্তু কেউ বলতে পারে না কিছুই, সকলের মুখ চুপ। তা ছাড়া এই জোড়া পানির ট্যাংকির ভিতরে (আমাদের নারায়ণগঞ্জ) নামের একটি সংগঠনের অফিস রয়েছে যেখানে ও বিভিন্ন লোকজন আড্ডা জমান। সেখানেও কিছু অসাধু লোকেরা এই সংগঠনের নামে বিভিন্ন চাঁদাবাজি ও কিশোরগাংয়ের তৈরি করে তাদের মাধ্যমে নানা অপকর্ম পরিচালিত করা হয়।
এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহম্মেদ যুগের চিন্তাকে জানান, ‘অভি নামের কিশোর গ্যাং লিডার নানা অপকর্ম করছে। এই সিন্ডিকেটই এমন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এছাড়া এই বাহিনী খানপুরে বিভিন্ন অপকর্ম চলছে।’


