মন্ত্রীত্ব পেতে হাই কমান্ডে বিএনপির চার এমপি
যৃুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
মন্ত্রীত্ব পেতে হাই কমান্ডে বিএনপির চার এমপি
দীর্ঘ দুই দশক পরে দেশের মানুষ সতস্ফুর্ত ভাবে ভোট প্রযোগ করেছে মানুষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ইতোমধ্যে সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করেছে ১৩ ফেব্রুয়ারি। তারই ধারবাহিকতায় ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে শপথ পড়বেন নির্বাচিত এমপিরা। কিন্তু প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১ দলীয় জোট ৭৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মাঝে ৪টিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ত্রয়োদশ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিবে। তবে বিএনপি মন্ত্রী পরিষদে নারায়ণগঞ্জের বিএনপি থেকে কি কেউ আসতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এবারের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের চার নির্বাচিত এমপির মাঝে তিনজনই নতুন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮ হাজার ৮২৯ জন। তাদের মধ্যে ৬৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৬১ হাজার ৪৮১ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৪ ভোট বৈধ এবং ৫ হাজার ৯৭ ভোট বাতিল করা হয়। আসনটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে পর্জাীত হন।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯৮ জন। তাদের মধ্যে ৬৪ দশমিক ২৪ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ২৩ হাজার ৯০৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে বৈধ ভোট ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৩ এবং ৩ হাজার ৮৩৩ ভোট বাতিল হয়। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম আজাদ সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৪ হাজার ২৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বাকিদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র প্রার্থী মো. ইলিয়াছ মোল্লা ৮১ হাজার ৫৪ ভোট পেয়ে পরাজীত হন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩৪৬ জন। তাদের মধ্যে ৫৭ দশমিক ৪১ শতাংশ অর্থাৎ ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬১৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮৫২ ভোট বৈধ এবং ৭ হাজার ৭৬৪ ভোট বাতিল হয়। এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, বিপরীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র মো. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট পেয়ে পরাজীত হন। তবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের এনসিপি মনোনীত আব্দুল্লাহ আল আমিন সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচতি হয়েছেন। তবে তিনি বিরোধী দলে ভুমিকায় থাকবেন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৫ হাজার ২৮৪ জন। তাদের মধ্যে ৫৬ দশমিক ৫১ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৫০ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৩৫৭ ভোট বৈধ এবং ৭ হাজার ৮৯৩ ভোট বাতিল হয়। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে চতুর্থবারের মতো বিজয়ী হয়েছেন। ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের এ বি এম সিরাজুল মামুন ১ লাখ ১ হাজার ১৯৬ পেয়ে পরাজীত হন।
বিএনপির নতুন মন্ত্রী পরিষদে কারা আসছে তা নিয়ে সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে। সেখানে নারায়ণগঞ্জে কারা আসছে তা নিয়েও এখন আলোচনা উঠেছে। যদিও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে ২০১৮ সনের নির্বাচনের পর প্রথম বারের মত মন্ত্রী পায় নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অপর দিকে নারায়নগঞ্জ থেকে এবার মন্ত্রী পরিষদে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নবনির্বাচিত এমপি এড. আবুল কালামের নাম দাবী তুলেছেন তার সমর্থকরা। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত আব্দুল মতিন চৌধুরী মন্ত্রীত্ব পেয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ দিন নির্যাতিত হওয়ার পরে সংসদে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের চার জন এমপি। তাদের কেউ কি এবার মন্ত্রীত্ব পাবেন তা নিয়ে সর্বত্র প্রশ্ন চলছে।


